আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ক্রসফায়ার 'সংস্কৃতি' এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক নিয়ে প্রশ্ন
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান-এর হত্যাকে ঘিরে অনেক গল্প-কাহিনী স্থানীয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। সব দেখে মনে হচ্ছে দেশের পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি, যেটা এমনিতেই দীর্ঘ দিন ধরে খুব একটা ভাল নেই, তা এখন চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সে বিষয়ে একটি চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি। লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''অবসর প্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এতো তীব্র হয়ে উঠলো কেন, এ বিষয়টিতে বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রবাহে তাফসির বাবুর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন দেখলাম। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মনে যে ঘৃণা জন্মেছে মি. সিনহা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের মাধ্যমে তারই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে বলেই আমার মনে হয়।
''এখনো পর্যন্ত যেসব তথ্য জানা গেছে তা থেকে মনে হচ্ছে, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ক্রস ফায়ারে অতি উৎসাহী ছিলেন। তবে এসব অপকর্মের সাথে কেবল মি. দাশ একা জড়িত নয়, অনেক রথী-মহারথীরাও জড়িয়ে রয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস। কিছু মানুষ তাদের স্বার্থ উদ্ধারে পুলিশ বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যদের ব্যবহার করে থাকেন আর দোষটা গিয়ে পড়ে পুরো পুলিশ বাহিনীর উপর। কাজেই সরকার এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও এগিয়ে আসা উচিৎ পুলিশ বাহিনীর উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।''
আমরা প্রায়ই শুনে থাকি মি. সরদার, যে দোষ ব্যক্তি বিশেষের, তাই বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা ঠিক হবে না। তবে এ'কথা তখনি ধোপে টিকবে, যখন দেখা যাবে 'বিপথগামী' অফিসারদের নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে তদন্ত করে বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে, শাস্তি দেয়া হয়েছে। আমরা সেটা বাংলাদেশে পুলিশ বা র্যাবের ক্ষেত্রে কতটুক দেখি?
টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক ২০১৮ সালের ২৬শে মে র্যাবের হাতে নিহত হন। তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা হয়েছিল যেটা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। কিন্তু সেই হত্যার কোন বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। তার হত্যায় জড়িত অফিসাররা কি শুধু বিপথগামী ছিলেন, নাকি প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে একটি পরিকল্পিত অভিযানের অংশ ছিলেন?
আঠারো বছর আগে সেনা-পরিচালিত 'অপারেশন ক্লিন হার্ট এবং ২০০৪ সালে র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে চার হাজারের বেশি মানুষ কথিত 'ক্রস ফায়ার'-এ প্রাণ হারিয়েছেন (মানবাধিকার সংস্থা 'অধিকার'-এর তথ্য অনুযায়ী)। প্রায়ই বলা হয় প্রতিটি ঘটনার দাফতরিক তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু আদালত পর্যন্ত কয়টা পৌঁছেছে? নারায়ণগঞ্জে র্যাবের হাতে সাত খুনের মামলা ছাড়া আর কোন একটিও কি আপনার মনে পড়ছে? কাজেই আমার মনে বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করার দিন শেষ হয়েছে, এবং 'ক্রসফায়ার' বা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার অবসান প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেই ঘটাতে হবে।
পরের চিঠি লিখেছেন বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী। তিনি লিখেছেন আরেকটি বন্দর নগরী. লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ নিয়ে:
''গত ৫ই অগাস্ট লেবাননের বৈরুত বন্দরে অনিরাপদে এবং অব্যবস্থাপনায় মজুদ করে রাখা ২,৭৫০ মেট্রিক টন এমোনিয়াম নাইট্রেট এর ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো রাজধানী বৈরুত শহর। বিবিসি বাংলায় জানতে পারলাম সেগুলো নাকি আবার ২০১৪ সাল থেকে মজুদ রাখা ছিল। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে এমন বিস্ফোরক দ্রব্যের এভাবে অনিরাপদে ফেলে রাখা কর্তৃপক্ষের অবহেলার মানসিকতার কোন পর্যায়ে পড়ে তা আমার জানা নেই।
''এরকম বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়, প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে ঘটতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের পর বিস্ফোরণের জন্য দায়ী কর্তৃপক্ষ থেকে লোক দেখানো কিছু কাজ করা হলেও কিছু দিন যেতে না যেতে সে আগের মতো যাচ্ছেতাই অবস্থা, যেন আহত নিহত এবং স্বজন হারানো মানুষের দুঃখ-কষ্টের বেদনা তাদের কাছে কিছুই না, তারা যেন নিতান্ত একটি সংখ্যা মাত্র। লেবাননের এ ভয়াবহ বিস্ফোরণ থেকে সবার শিক্ষা নেয়া উচিত। কোথাও কোন রাসায়নিক বিস্ফোরক দ্রব্য অব্যবস্থাপনায় রাখা হয়েছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন।''
বাংলাদেশের বিশেষ করে ঢাকা শহরের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা আছে এই বিষয়ে - দশ বছর আগে নিমতলীতে আর গত বছরই চুড়িহাট্টায়। পুরনো ঢাকার আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক দ্রব্য গুদামজাত করার ফলে যে মানবিক বিপর্যয় একাধিকবার হয়েছিল, তা নিশ্চয়ই কেউ ভুলে যায়নি। প্রত্যেক ট্র্যাজেডির পরই মানুষ আশা করে এবার সব কিছু ঠিক হবে। হয়তো সুদূর লেবাননের বিস্ফোরণের ফলে অনেকের টনক নড়বে। বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য নিরাপদ স্থানে না রাখলে কী হতে পারে, তা বৈরুতের ঘটনা সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
এবারে একটি অভিযোগ। আমদের পরিবেশনায় নামের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ করেছেন মাহফুজুর রহমান তবে তিনি কোথা থেকে লিখেছেন তা বলেন নি:
''আপনাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে একটি নিউজ প্রকাশিত হয় যার বিষয়টা ছিল ভারতের ব্যাঙ্গালুরোতে প্রিয় নবী মোহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করার কারণে সৃষ্ট দাঙ্গা নিয়ে। আপনাদের ইউটিউব চ্যানেলে নিউজটির যে শিরোনাম দিয়েছেন তা বাংলাভাষী মুসলমানদেরকে অত্যন্ত মর্মাহত করেছে যা প্রত্যক্ষ করেছি উক্ত নিউজটির মন্তব্যগুলো পড়ে এবং একজন মুসলমান হিসেবে আমিও মর্মাহত হয়েছি। আমি আশা রাখি উক্ত নিউজটির শিরোনাম পরিবর্তন করে মার্জিত ও রুচিসম্মত একটি শিরোনাম নির্ধারণ করবেন যা শুধু মুসলমানদেরকে নয়, কোন ধর্মের মানুষদেরকে আঘাত করবেনা।''
আপনি খুলে বলেন নি মি. রহমান, আমাদের শিরোনাম কেন আপনাকে মর্মাহত করেছে। আমাদের মতে খবরটির শিরোনাম বিবিসির নীতিমালা মেনে মার্জিত ভাষা ব্যবহার কর্রেই দেয়া হয়েছিল। বিবিসি বাংলায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে হযরত মোহাম্মদকে 'ইসলামের নবী মোহাম্মদ' হিসেবেই সম্বোধন করে আসছি। যেমন বিবিসির ইংরেজি পরিবেশনায় তাঁকে Prophet Muhammad বলা হয়। এর ফলে অন্য ধর্মের কেউ কখনোই মর্মাহত হননি। আমাদের শ্রোতা পাঠকদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম এবং তাদের বেশির ভাগ কখনোই তাতে আপত্তিকর কিছু দেখেননি। আমাদের শ্রোতা-পাঠকদের অধিকাংশই জানেন যে বিবিসি বাংলায় ব্যক্তি বিশেষের নামের আগে বা পরে আমরা কোন বিশেষণ যোগ করি না, শুধু নামই ব্যবহার করি বা পরিচিতির জন্য যা যোগ দেবার প্রয়োজন তা যোগ করা হয়।
যেমন, হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে রাম চন্দ্র দেবতা তুল্য। বিবিসিতে আমরা তাঁকে রাম চন্দ্র হিসেবেই সম্বোধন করি, যদিও তাঁর ভক্তদের কাছে তিনি 'ভগবান শ্রীরাম চন্দ্র'। ভারতের একজন পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে সবাই 'মহাত্মা গান্ধী' হিসেবেই চেনেন। কিন্তু আমাদের পরিবেশনায় তিনি মোহনদাস গান্ধী। পরিবেশনার ক্ষেত্রে আমাদেরকে সম্পূর্ণ ভাবে আবেগহীন হয়ে নিয়ম সবার বেলায় একই ভাবে প্রয়োগ করতে হয়। ভবিষ্যতে যদি আমাদের স্টাইলে পরিবর্তন আনা হয়, তাহলে সেটাও সবার ক্ষেত্রে এক যোগে প্রযোজ্য হবে।
তবে ইদানিং সামাজিক মাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে গালি-গালাজ করার একটা প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করছি। কিন্তু আপনি ইউটিউবে যেসব মন্তব্যর কথা বলছেন, তাদের অনেকগুলো যে ভাষায় করা হয়েছে, তা দেখে তো আমার মনে হয় না তারা কোন ধর্ম বা মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য সেটা করছেন।
এবারে করোনাভাইরাস নিয়ে দু'একটি চিঠি। প্রথমটি লিখেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোহাম্মদ রেজাউল রহিম:
''সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা ( আইওএম) বাংলাদেশের ১২টি জেলায় বিদেশ ফেরত অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সে রিপোর্টের চুম্বক অংশে ছিলো : ১. তাঁরা কোভিড-১৯ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন এবং পরিবারের কাছে ফেরার আকুলতা ছিলো প্রবল। ২. ফেরত আসা অভিবাসীরা জীবিকা ও আর্থিক সংকটে নিদারুণ জীবনযাপন করছে। ৩. তারা চড়া সুদে ঋণের বোঝা বহন করছেন। তাছাড়া তাদের পূর্বের কাজে ফেরত যেতে কোভিড- ১৯ নেগেটিভ সনদ ও প্লেনের টিকিট প্রাপ্তির ঝামেলা তো রয়েছেই। যাদের অবিশ্বাস্য পরিশ্রমে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ সেই প্রবাসী শ্রমিকদের কতটুকু খোঁজ রাখছে রাষ্ট্র?''
ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. রহিম। এই মহামারিতে কম-বেশি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তবে প্রবাসী শ্রমিকরা হয়তো আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও বাড়তি মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। তবে আশা করা যায়, বিমান সংস্থাগুলো শীঘ্রই বেশি করে ফ্লাইট চালু করে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে পারবে। মধ্যপ্রাচ্যের কোম্পানিগুলো অবশ্যই জানে এই শ্রমিকরা নিজের দোষে দেরীতে কাজে যোগ দিচ্ছে না। পরিস্থিতি সবারই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এখানে বাংলাদেশ সরকার বড় ভূমিকা পালন করতে পারে, কূটনীতির মাধ্যমে এবং বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে।
এবারে টিকা নিয়ে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পি:
''করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিন সংবাদ পরিবেশন হচ্ছে , যেমন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কন্যার শরীরে করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ করার খবর। আমি জানতে চাই, করোনা কোন্ কোন্ দেশে ইতিমধ্যে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ হয়েছে? আমি জানতে চাই, করোনার প্রতিষেধক টিকা কীভাবে সকল দেশের মানুষের জন্য উন্মুক্ত হবে ? আর কোন দেশেকীভাবে টিকা প্রয়োগ করা হবে? আক্রান্ত দেশগুলি কীভাবে এই টিকা সংগ্রহ করবে?''
আমার মনে হয় বেশির ভাগ দেশেই করোনাভাইরাস বেশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে কয়েকটি দেশে, যেমন ইরান, স্পেন, অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ফ্রান্স এবং জার্মানিতেও নতুন করে কিছু সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে তবে সেটা প্রথম দফার তুলনায় কম। এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপে মহামারি চলছে ভারতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ব্রাজিল, মেক্সিকো আর পেরুতে। রাশিয়াতে এখন মহামারি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে এসেছে বললেই চলে। আর টিকা নিয়ে যে প্রশ্ন করেছেন, তার বিস্তারিত উত্তর পেতে এখানে ক্লিক করুন।
এই মহামারিতে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক যারা বাংলাদেশে আটকে পড়েছেন। তাদের নিয়ে লিখেছেন রাজশাহী থেকে বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী রাজিব:
''করোনা পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ মাসে ভারতীয় নাগরিক যারা বাংলাদেশে এসেছিলেন বিভিন্ন কাজে, ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তাঁরা দেশে ফিরতে পারছেন না। দু'তিন মাস যাবত চেকপোস্ট ও যানবাহন বন্ধ থাকায় তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী এলাকায় তাঁদের অনেকে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বলেও জানা গেছে। অথচ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এসব আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফিরে যাবার ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন বলে মনে হচ্ছে।
''এমন একজন আটকে পড়া বয়স্ক মহিলা (আমার খালা) মুক্তি সরখেল কলকাতা থেকে বেড়াতে এসে বর্তমানে রাজশাহীতে আমার বাসায় অবস্থান করছেন। অন্য আরেক জন ভারতীয় মোহাম্মদ কাইউম নামে বেহালা, কলকাতার এক ফল ব্যবসায়ী ফরিদপুরে অবস্থান করছেন বলে জেনেছি। বিবিসি বাংলা এই বিষয় ও সমস্যাটি নিয়ে একটি অনুসন্ধানী খবর প্রচার করলে বহু ভুক্তভোগী উপকৃত হতে পারেন।''
বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিক নিয়ে আমরা ইতোমধ্যেই একাধিক খবর করেছি মি. ব্যানার্জী। আমাদের কলকাতা সংবাদদাতাও এ'বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং আশা করছি শীঘ্রই আরো খবর প্রচার করা সম্ভব হবে।
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গ। ইলিশ নিয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''এ'মাসের ১০ তারিখে সানজানা চৌধুরীর "ইলিশ: বাংলাদেশে যেসব কারণে এখন ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে" শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়লাম। প্রতিবেদনটি পড়ে মনে হলো - মাছে ভাতে বাঙালি যেন তার পুরানো ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে।
''বিগত বছরগুলোতে ইলিশ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল এবং এমন প্রেক্ষাপটে মা ইলিশ শিকারের উপর অবরোধসহ সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন মাছের বাজারে গেলে চোখে পড়ে বড় বড় রূপালি ইলিশ। স্বাদ ও সাধ্য মিলিয়ে কেনা যায় পছন্দের ইলিশ এবং এবছর দামও বেশ নাগালের মধ্যে।''
এ'সব দেখেই বোঝা যায় মি. রহমান যে, কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তা কার্যকর করলে অনেক কিছু অর্জন সম্ভব। ইলিশ যেভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, হয়তো আরো অনেক কিছুই ফিরিয়ে আনা যাবে যা অব্যবস্থাপনা, নীতিমালার অভাব, বা স্রেফ সদিচ্ছার অভাবের কারণে হারিয়ে গিয়েছিল।
সব শেষে ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকেই আরেকটি চিঠি, লিখেছেন মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:
''এ'বছর এমনিতেই করোনা মহামারির কারণে মানুষের জীবন জীবিকা চরম পর্যুদস্ত। অনেকে সংসারের ব্যয় নির্বাহে বেশ হিমশিম খাচ্ছে অথচ এ চরম দুঃসময়ে গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়, স্মরণকালের ভয়াবহ ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, যা অসহায় মানুষকে চরম বিপদে ফেলে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পূর্বপরিকল্পনা মতো এলাকা ভেদে ১০ থেকে ৬১ শতাংশ বেশি বিল করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে বেশি বিল করার দায় এবং এই অপরাধের শাস্তি কোম্পানির কর্মকর্তা কর্মচারীরা কেন পাবেন না?
''রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি গ্রাহকের সাথে শঠতার আশ্রয় নিবে, তা ভাবতেই অবাক লাগে। নিয়মানুযায়ী বাড়ি/বাসায় গিয়ে বিদ্যুতের মিটার দেখে বিদ্যুতের বিল তৈরি করার কথা, কিন্তু যদি এভাবে পরিকল্পনা করেই বেশি বেশি বিদ্যুৎ বিল আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, তবে বাড়ি/ বাসায় মিটার বসানোর দরকার কী? স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, এসব মিটার কি শুধুই লোক দেখানো ভেলকিবাজি? সর্ষের মধ্যেই যদি ভূত থাকে, তবে সে ভূত তাড়াবে কে?''
ভাল প্রশ্ন করেছেন মিজ ফেরদৌসি। বিদ্যুতের বিল যে অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে সেটা অনেকেই টের পেয়েছেন এবং প্রতিবাদ করেছেন। এ'বিষয়ে বিবিসি সহ অনেক মিডিয়াতেই সংবাদ হয়েছে। কিছুটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু মানুষের ক্ষোভ যদি দ্রুত কমে যায় তাহলে কর্তৃপক্ষও বিষয়টির ফয়সালা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। অর্থাৎ, সুবিচার না পাওয়া পর্যন্ত চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।