আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
চীনের যে প্রস্তাবিত আইনের বিরুদ্ধে হংকংএ বিক্ষোভ চলছে - তাতে কী আছে?
হংকং এর ওপর চীনের একটি নতুন নিরাপত্তা আইন চাপিয়ে দেবার চেষ্টার প্রতিবাদে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের অনেককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
আধা-স্বায়ত্বশাসিত চীনা অঞ্চল হংকংএর নগর কেন্দ্রে কর্তৃপক্ষের সতর্কবাণী উপেক্ষা করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হয়। তারা ব্যানার দোলাতে থাকেন এবং সরকারবিরোধী শ্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার বিন এবং নানা জিনিসের টুকরো দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়, কেউ কেউ পুলিশের দিকে ছাতা এবং পানির বোতল ছুঁড়ে মারে। পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে, এবং ১২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায়। ।
চীনের প্রস্তাবিত আইনে কী আছে?
যে আইনটি পাস করার চেষ্টা হচ্ছে তাতে হংকংএ "রাষ্ট্রদ্রোহ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ" নিষিদ্ধ করা হবে।
চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসে অনুমোদনের আগে প্রস্তাবিত আইনটিকে "খসড়া সিদ্ধান্ত" বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
এতে একটি ধারায় বলা হয়, হংকংকে অবশ্যই "জাতীয় নিরাপত্তা উন্নত করতে হবে।"
এতে বলা হয়, "যখন প্রয়োজন হবে, তখন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাসঙ্গিক জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো হংকং-এ এজেন্সি স্থাপন করবে - যাতে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে আইন অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালন করা যায়।"
এর অর্থ হচ্ছে, হংকংএর নিজস্ব সংস্থার পাশাপাশি চীন সেখানে তার নিজস্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রাখতে পারবে।
আরো পড়তে পারেন:
এই আইনের ফলে হংকংএর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রের বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এমন আশংকা উড়িয়ে দিয়ে চীন যেসব দেশ এ ব্যাপারে "নাক গলাচ্ছে" তাদের সমালোচনা করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, এই পরিকল্পনা হবে হংকং নগরীর স্বাধীনতার মৃত্যুঘন্টা।
তবে হংকংএর নেতা ক্যারি ল্যাম প্রস্তাবিত আইনকে পুরোপুরি সমর্থন করে বলেছেন, এই নগরীর স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
দু'শো রাজনীতিবিদের বিবৃতি
এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দু'শো নেতৃস্থানীয় রাজনীতিবিদ চীনের আনা খসড়া বিলটির সমালোচনা করে এক বিবৃতি দেন। তারা সরকারগুলোর প্রতি এটা স্পষ্ট করে দেবার আহ্বান জানান যে হংকংএর স্বায়ত্বশাসন কোনভাবে ব্যাহত করাকে বরদাস্ত করা হবে না।
এই বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতাদের অন্যতম ছিলেন হংকংএর শেষ ব্রিটিশ গভর্নর ক্রিস প্যাটেন।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, চীন যে নতুন নিরাপত্তা আইনের পরিকল্পনা করেছে তা দু'দশকেরও বেশি সময় আগে যে চীন-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে হংকংএর স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল - তার নগ্ন লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ আইন হংকং-এর স্বায়ত্বশাসন, আইনের শাসন এবং মৌলিক স্বাধীনতার ওপর এক সর্বাত্মক আক্রমণের শামিল।