করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ভারতে 'জনতা কারফিউ' ঘোষণা

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, অমিতাভ ভট্টশালী
- Role, বিবিসি, কলকাতা
ভারতের সব নাগরিককে আগামী রবিবার ১৪ ঘণ্টার জন্য গৃহবন্দী থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধের জন্য গোটা দেশ কতটা প্রস্তুত, সেটাই ওইদিন বোঝা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
মি. মোদী একে নাম দিয়েছেন 'জনতা কারফিউ' - যেখানে মানুষ নিজে থেকেই ঘরবন্দী থাকবেন।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পুরো মানবজাতিকে সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলেও জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে উল্লেখ করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।
জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় রবিবার ২২শে মার্চ সারা দেশে 'জনতা কারফিউ' বলবৎ থাকবে।
সকাল সাতটায় সারা দেশে সাইরেন বাজিয়ে এই কারফিউ শুরু হবে। যুদ্ধের সময়ে বোমা হামলার আশঙ্কায় যেভাবে ব্ল্যাকআউট হয় বা তার জন্য মাঝেমাঝে হামলা না হলেও যেভাবে অভ্যাস করানো হয় ব্ল্যাকআউটের, সেই বিষয়টি উল্লেখ করে মি. মোদী বলেছেন, ভারত এই বৈশ্বিক মহামারির লড়াইয়ের জন্য কতটা প্রস্তুত, সেটাই বোঝা যাবে রবিবারের কারফিউর মাধ্যমে।

ছবির উৎস, Getty Images
জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই জনতা কারফিউর মধ্যেও কাজে যাবেন।
জরুরি পরিষেবা প্রদানকারীদের ধন্যবাদ দিতে ওই দিন বিকেল পাঁচটায় দেশের সব নাগরিককে বাড়ি ঘরের জানলা বা বারান্দা বা দরজায় দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে বা ঘণ্টা বাজিয়ে অথবা সাইরেন বা বাসনপত্র বাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আগামী দুদিন জনতা কারফিউ নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালাতে বলেছেন তিনি - প্রত্যেক নাগরিক যেন অন্তত দশ জনকে ফোন করে এই সংবাদটি জানান।
ওইদিন যারা কাজে আসতে পারবেন না, তাদের যেন বেতন না কাটা হয়, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন মি. মোদী।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং চিকিৎসকরা যেসব পরামর্শ দিয়েছেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে, সেগুলোরও উল্লেখ করেন মি. মোদী - যার মধ্যে রয়েছে বয়স্করা যাতে ঘর থেকে বের না হন - সামাজিক মেলামেশা যথাসম্ভব কম করা ইত্যাদি।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়েছে, তা সামাল দেওয়ার জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।









