মুজিব জন্মশতবার্ষিকী: শেখ মুজিবের শততম জন্মদিন আজ, বাংলাদেশে আজ থেকে মুজিববর্ষ

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে আজ থেকে ২০২১ সালের ১৯ই মার্চ পর্যন্ত 'মুজিব বর্ষ' ঘোষণা করেছে সরকার।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মুজিববর্ষের পরিবর্তিত কর্মসূচীতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সীমিত আয়োজনের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়া লাল ও সবুজ রঙের আলোকসজ্জা, আতশবাজি আর আলোচনার মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষ উদ্বোধন করা হবে। পরে জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের রেকর্ড করা ভাষণও এদিনে প্রচার করা হবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাত আটটায় আতশবাজির প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে "মুক্তির মহানায়ক" শিরোনামে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে। এরপর টেলিভিশনে রেকর্ড করা সব অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে মুজিববর্ষ পালনে এক বছরব্যাপী নানা ধরণের কর্মসূচী নেয়া হয়েছিল।

ছবির উৎস, Getty Images
যার অংশ হিসেবে মুজিব বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বেশ কয়েক জন রাষ্ট্রপ্রধানের।
কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর জনগণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচী বাতিল করা হয়।
শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হলেও করোনাভাইরাসের কারণে সেই আয়োজনেও কাটছাঁট করা হয়েছে।
শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়।
তিনি ১৯৪২ সালে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আইএ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বিএ পাস করেন।
১৯৪৬ সালে তিনি ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে তিনি ছিলেন সোহরাওয়ার্দীর একজন একনিষ্ঠ অনুসারী।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে ১৯৪৯ সালের প্রথম দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হন।
তিনি ১৯৪৮ সালে জানুয়ারির ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ যার মাধ্যমে তিনি একজন অন্যতম প্রধান ছাত্র নেতায় পরিণত হন।
বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার জন্য ১৯৪৮ সাল থেকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাভোগ করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মওলানা ভাসানী ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করার পর শেখ মুজিবুর রহমান মুসলিম লীগ ছেড়ে দিয়ে এই নতুন দলে যোগ দেন এবং তাঁকে পূর্ব পাকিস্তান অংশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে ১৯৫৪র নির্বাচনে গোপালগঞ্জ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন শেখ মুজিব।
আরো পড়তে পারেন:
পাকিস্তানে ১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারি হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সংগ্রামের কারণে তাঁকে কয়েক বছর আবার জেল খাটতে হয়েছিল।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর ১৯৬৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্ব নেন। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে "ছয় দফা দাবি" পেশ করেন।
রেস কোর্স ময়দানে ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ এক জনসভায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে শেখ মজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়া হয়েছিল।
মি. সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর আয়োজিত এক জনসভায় শেখ মুজিব ঘোষণা করেন যে এখন থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে "বাংলাদেশ" নামে অভিহিত করা হবে।

ছবির উৎস, MUJIB100.GOV.BD
শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় এবং প্রাদেশিক আইনসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এক জনসভায় শেখ মুজিব স্বাধীনতার ডাক দিলেন এবং জনগণকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করলেন।
২৫শে মার্চ রাতে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হলো পশ্চিম পাকিস্তানে এবং ফয়সালাবাদের একটি জেলে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হলো। এরপর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২-এর দশই জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে গেলেন শেখ মুজিবুর রহমান। অল্পদিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি থাকার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
১৯৭৫-সালে ১৫ই অগাস্টের রাতে ঢাকার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতেই সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হাতে নিহত হয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে।








