আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
করোনাভাইরাস : সার্ক দেশগুলোর ইমার্জেন্সি তহবিল
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকে দক্ষিণ এশিয়ার সার্ক জোটভুক্ত দেশের নেতারা করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবিলার লক্ষ্যে রবিবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও কনফারেন্সে মিলিত হয়েছেন।
ওই বৈঠকে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলাতে প্রধানমন্ত্রী মোদী একটি সব সদস্য দেশের যোগদানে একটি 'আপদকালীন তহবিল' গঠন করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অন্য দেশগুলো রাজি থাকলে বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় একটি প্রতিষ্ঠান (ইনস্টিটিউট) স্থাপনে বা আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজনেও প্রস্তুত আছে।
করোনাভাইরাস-জনিত বিপর্যয় রোখার চেষ্টায় সার্ক দেশগুলোর যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা উচিত, সেই আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী টুইট করেছিলেন শুক্রবার বিকেলেই।
তার মাত্র দুদিনের মধ্যেই ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা বা সরকারের প্রতিনিধিরা আজ এই বৈঠকে মিলিত হলেন।
এই ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই - আর উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি জানান করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আঞ্চলিক তহবিলে শুরুতেই ভারত ১ কোটি ডলার দেবে।
এই তহবিলে অন্য দেশগুলোকেও তিনি 'স্বেচ্ছায়' সাধ্যমতো দান করার অনুরোধ জানান।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও করোনাভাইরাস পরীক্ষার সরঞ্জাম-সমেত ভারত একটি 'র্যাপিড রেসপন্স টিম'ও তৈরি রাখবে বলে জানিয়েছে, যাদেরকে সার্কের অন্য দেশগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাব দেন, করোনাভাইরাস সঙ্কট সামলাতে আগামী দিনে সার্ক দেশগুলোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিব বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক অধিকর্তাকে নিয়ে নিয়মিত টেলি-কনফারেন্স করা যেতে পারে।
প্রয়োজনে বাংলাদেশ এই ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর লক্ষ্যে সব সদস্য দেশের সম্মতিক্রমে একটি আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউট (প্রতিষ্ঠান বা গবেষণাকেন্দ্র) স্থাপনেও তৈরি আছে বলে তিনি জানান।
ভারত যেভাবে তাদের বিমানে করে চীনের উহান থেকে ২৩জন বাংলাদেশী ছাত্রকে উদ্ধার করে এনেছে, তার জন্যও প্রধানমন্ত্রী হাসিনা তার বক্তব্যের শুরুতেই ভারতকে ধন্যবাদ জানান।
বস্তুত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের সূত্র ধরে গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সার্কের কার্যক্রম স্তব্ধ হয়ে ছিল।
বহুদিন পরে সেই সার্কের প্ল্যাটফর্ম থেকে দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা কোনও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার ডাক দিলেন।
তবে অন্যান্য দেশের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট এই ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিলেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজে সেখানে ছিলেন না।
তার জায়গায় সে দেশের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন।