করোনাভাইরাস: চীনের বাইরে ফিলিপিন্সে প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে

চীনের বাইরে ফিলিপিন্সে প্রথম কোন ব্যক্তির করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে।

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, চীনের বাইরে ফিলিপিন্সে প্রথম কোন ব্যক্তির করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে।

করোনোভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনের বাইরে ফিলিপিন্সে প্রথম কোন ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।

৪৪ বছর বয়সী ওই চীনা ব্যক্তি হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ‌এসেছিলেন, যেখানে প্রথম ভাইরাসটি সনাক্ত করা হয়েছিল।

ফিলিপিন্সে পৌঁছানোর আগেই তিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিনশ জনেরও বেশি লোক মারা গিয়েছেন, আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার জনেরও বেশি।

বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে হুবেই প্রদেশে।

যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য কয়েকটি দেশ চীন থেকে বিদেশীদের আগমন নিষিদ্ধ করেছে এবং তাদের নিজস্ব নাগরিকদের ফিরিয়ে এনে কিছু সময়ের জন্য তাদের আলাদা করে রাখছে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা সার্সের প্রাদুর্ভাবকে ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০০৩ সালে ২৪টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে নতুন ভাইরাসের মৃত্যুর হার অনেক কম, ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে এটি মারাত্মক নয়।

ভিডিওর ক্যাপশান, করোনাভাইরাস: লক্ষণ ও বাঁচার উপায় কী?

আরও পড়তে পারেন:

বিমানবন্দর

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বিমানবন্দরগুলোয় জ্বর মাপার মাধ্যমে ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের সনাক্ত করা হয়।

এই মৃত্যু সম্পর্কে যা জানা গেছে

ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি উহান থেকে হংকং হয়ে ফিলিপিন্সে গিয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী এক চীনা নারী।

গত সপ্তাহে ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত করা গেছে বলে ফিলিপিন্সের স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে শুরুতে ওই ব্যক্তিকে রাজধানী ম্যানিলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার গুরুতর নিউমোনিয়া দেখা দেয়।

ফিলিপিন্সে ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি রবীন্দ্র আবেসিংহে, সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন: "করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনের বাইরে এটিই প্রথম কোন মৃত্যুর ঘটনা। তবে, আমাদের মনে রাখা দরকার যে স্থানীয় কারও সাথে এমনটি হয়নি। এই রোগী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল থেকেই এসেছিলেন।"

মিঃ ডিউক বলেছেন, "এই রোগটি প্রতিরোধে বর্তমানে আমরা চীনা দূতাবাসের সাথে কাজ করছি। আর যে ক'জন এতে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, সেটাই চেষ্টা করা হচ্ছে।"

ওই ব্যক্তির মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হবে বলেও জানান তিনি।

এখন ওই ব্যক্তির সাথে কারা একই ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছেন তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে ফিলিপিন্সের স্বাস্থ্য অধিদফতর। যাতে তাদেরকে আলাদা করে রাখা যেতে পারে।

৩১২ জন বাংলাদেশিকে, চীনের উহান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

ছবির উৎস, STR

ছবির ক্যাপশান, ৩১২ জন বাংলাদেশিকে, চীনের উহান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তাছাড়া, ওই ব্যক্তি পরে অন্য যাদের সংস্পর্শে গিয়েছিলেন যেমন হোটেল কর্মী, তাদের সবাইকে সনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চীন থেকে আসা বিদেশী যাত্রীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ফিলিপিন্স।

এর আগে কেবল হুবেই প্রবেশ থেকে আসা ভ্রমনকারীদের প্রবেশ সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল যা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে।