আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
জেএনইউ নিয়ে দীপিকার 'স্ট্যান্ড' কেন ব্যতিক্রমী?
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
ভারতের নামী বলিউড তারকা দীপিকা পাডুকোন মঙ্গলবার রাতে দিল্লির জেএনইউ-তে নির্যাতিত ছাত্রছাত্রীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর পর তার পক্ষে ও বিপক্ষে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
শাসক দল বিজেপির কোনও কোনও নেতা একে দীপিকার 'প্রোমোশনাল গিমিক' বলে খারিজ করে দিয়ে তার আসন্ন ফিল্ম বয়কটের ডাক দিয়েছেন।
কিন্তু পাশাপাশি এদেশে অনেকেই আবার তার সাহস ও নির্ভীকতার অকুণ্ঠ প্রশংসা করছেন।
তবে বাস্তবতা এটাই - কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা বলিউড তারকারা ভারতে কোনও বলিষ্ঠ রাজনৈতিক অবস্থান নিচ্ছেন এমন ঘটনা খুবই বিরল।
আর সে দিক থেকে দীপিকা পাডুকোনের এই পদক্ষেপ যে ভীষণই ব্যতিক্রমী তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লির জেএনইউ-তে সবরমতী হোস্টেলের সামনে আন্দোলনরত বামপন্থী শিক্ষার্থীরা যখন একটানা স্লোগান দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আচমকাই তাদের মাঝখানে এসে হাজির হন বলিউডের ব্লকবাস্টার অভিনেত্রী দীপিকা পাডুকোন।
তিনি সেখানে অবশ্য কোনও ভাষণ দেননি, কিন্তু ছাত্রদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে নীরবে বহুক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থেকেছেন।
এবং গুন্ডাদের লাঠির আঘাতে ঘায়েল ছাত্র সমিতির সভাপতি ঐশী ঘোষের সামনে করজোড়ে দাঁড়িয়ে তার চেয়ে অনেক ছোট ওই মেয়েটিকে শ্রদ্ধা ও শুভকামনাও জ্ঞাপন করেছেন।
ঐশী পরে এদিন বলছিলেন, "এখন সময়টাই এমন - যে যখন কোনও মানুষ কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এসে সামিল হন তখন তার গুরুত্ব বিরাট।"
"আর সেটা যদি দীপিকা পাডুকোনের মতো এমন কেউ হন, যারা আমাদের কৈশোরের রোল মডেল তাহলে তো কথাই নেই!"
বিজেপির নেতা ও সমর্থকরা অবশ্য প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দীপিকার বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণে নামেন।
শুক্রবারেই মুক্তি পাচ্ছে অ্যাসিড ভিক্টিমদের নিয়ে তার নতুন ছবি 'ছপক' - সেই ছবির শস্তা প্রচারের জন্যই তার জেএনইউতে যাওয়া, এই যুক্তি দিয়ে ছবি বয়কটের ডাকও দিচ্ছেন তারা।
তবে কংগ্রেসের মিলিন্দ দেওরা, অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ সহ অনেকেই কুর্নিশ করেছেন দীপিকার সিদ্ধান্তকে, তার পাশে দাঁড়িয়েছেন সোনাক্ষী সিনহা, নিমরাত কাউরের মতো অনেক বলিউড সতীর্থও।
বলিউডে দীপিকার সহকর্মী, পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ যেমন বলছেন, "ঐশী ঘোষের সামনে হাত জোড় করে দীপিকার ছবি খুব শক্তিশালী একটা বার্তা দেয় - সেটা শুধু সংহতির নয়, 'আমি তোমার কষ্টটা বুঝি'-রও।"
"আর সবাই জানেন নিজের ছবি মুক্তির ঠিক আগে এমন একটা পদক্ষেপ ব্যবসায়িক দিক থেকে কতটা ঝুঁকির।"
"কিন্তু সারা দেশ জুড়ে এখন যে ভয়ের বাতাবরণ - দীপিকা কিন্তু সেই ভয়টাকেই ফুৎকারে উড়িয়ে দিল!"
হলিউডে জর্জ ক্লুনি বা লেডি গাগা যেমন অনায়াসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেন কিংবা ব্রিটেনেও হিউ গ্রান্ট ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে প্রচার করতে পারেন।
কিন্তু বলিউডে তেমন 'পলিটিক্যাল স্ট্যান্ড' নেওয়ার চল নেই বলেই দীপিকার পদক্ষেপ এতটা ব্যতিক্রমী।
মুম্বাইতে টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেসে মিডিয়া ও কালচারাল স্টাডিজের অধ্যাপক হরমনপ্রীত কাউর বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "বলিউডে আসলে খুব কম তারকাই সরকার বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।"
"দীপিকারই স্বামী রণবীর সিং বা আলিয়া ভাটরা সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি বলেওছেন তারা রাজনৈতিক মতামত দিতে চান না।"
"আবার এই বলিউডেই আছেন জাভেদ আখতার বা নাসিরুদ্দিন শাহ্-রা, যারা মুখ খুলতে পিছপা নন।"
"কিন্তু বলিউডে যে সরকারপন্থীদেরই পাল্লাভারী, তা বোঝা যায় গত এক-দেড় বছরে একের পর এক প্রচারধর্মী ফিল্মের মুক্তির হিড়িক দেখলেই!"
অধ্যাপক কাউর আরও বলছিলেন, "আসলে ভারতে বলিউড ও রাজনীতির ইকোসিস্টেমটাই এমন - যেখানে তাদের একে অন্যকে দরকার, পরস্পরের স্বার্থ নিবিড়ভাবে জড়িত।"
আর সে কারণেই দীপিকা পাডুকোনের মতো সুপারস্টার যখন সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে দ্বিধা করেন না, তা এদেশে এতটা তুমুল আলোড়ন ফেলে।