হংকংয়ে নির্বাচন: গণতন্ত্রপন্থীদের বিজয় কী পরিবর্তন আনতে পারে?

ছবির উৎস, AFP
হংকংয়ের নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থীদের ব্যাপক জয়ের বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে দেখবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রশাসনিক প্রধান ক্যারি লাম। সেখানকার ১৮টি ডিসট্রিক্ট কাউন্সিলের মধ্যে ১৭টিতেই জিতেছেন গণতন্ত্রপন্থী প্রার্থীরা।
বেইজিং বিরোধী আন্দোলন শুরুর পর এই প্রথম হংকংয়ে কোন নির্বাচন হলো, আর তাতে বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছেন।
ভোটের ফলাফলে মিস লামের নেতৃত্বের সমালোচনা এবং চলমান বিক্ষোভের প্রতি জন সমর্থনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
হংকংয়ে মিস লাম একটি বিতর্কিত প্রত্যর্পণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবার পর থেকে তার বিরোধিতায় বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠেছে।
সোমবার অনলাইনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মিস লাম বলেছেন, নির্বাচনের ফলের প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল।
তিনি বলেছেন, "অনেকেই মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের অসন্তুষ্টি এবং সমাজের গভীরে নিহিত সংকটের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ফলাফলে।"

ছবির উৎস, AFP
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেছেন, "সরকার জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনবে এবং বিবেচনা করবে।"
এদিকে,এ বিজয়ের পর চীন এখনো কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
কিন্তু জাপানে সফররত চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, "যাই ঘটুক না কেন, হংকং সব সময় চীনের একটি অংশ। হংকংয়ে গোলমাল করার চেষ্টা কিংবা এর সমৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা কাজে আসবে না।"
হংকংয়ের জন্য এর মানে কী?
হংকংয়ের ডিসট্রিক্ট কাউন্সিলরদের খুব সামান্য রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকে। তারা মূলত স্থানীয় ইস্যু, যেমন গণপরিবহনের রুট বা পয়ঃনিষ্কাশনের মত বিষয় নিয়ে কাজ করেন।
মূলত রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকা বা কম থাকার কারণেই এই নির্বাচন নিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে তেমন আগ্রহ থাকে না।
কিন্তু এই কাউন্সিলররাই ১১৭ জন সদস্যকে নির্বাচন করেন, যারা ১২০০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে যাবেন যে কমিটি হংকংয়ের প্রধান প্রশাসককে নির্বাচন করবেন।
যাকে পরে চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেয়।
আরো পড়তে পারেন:
হংকংয়ের এই ব্যাপক বিজয়ের মানে হচ্ছে, এবার ওই ১১৭ জনের সব কজন সদস্যই হতে যাচ্ছেন গনতন্ত্রপন্থী নেতা।
ফলে ২০২২ সালে যখন নতুন প্রশাসক নিয়োগের সময় আসবে তখন নিঃসন্দেহে তাদের প্রতিপত্তি অনেক বেশি থাকবে।
কিন্তু এই ফলাফলের একটি প্রতীকী মানে আছে, সেটি হলো জনগণ এই প্রথম ক্যারি লামের বিষয়ে নিজেদের মতামত জানানোর সুযোগ পেয়েছে।
যদিও হংকংয়ের কর্তৃপক্ষ এবং চীনের সরকার তাদের সবার হয়ত আশা ছিল সেখানকার নীরব জনতা যারা বিক্ষোভে নামেনি তাদের মতামত সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে।








