আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
অভিশংসন: ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করা কি সত্যি সম্ভব?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য শুনানীর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। কংগ্রেস কমিটির সামনে এখন সাক্ষীদের শুনানি ও জেরা চলছে। এটি একটি প্রকাশ্য প্রক্রিয়া এবং মার্কিন জনগণ টিভির পর্দায় প্রতিদিনের শুনানি দেখছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ : তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন যেন তিনি সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করেন - যে মি. বাইডেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে মি. ট্রাম্পকে অভিশংসন করার জন্য অনুসন্ধান শুরু করেছেন।
কিন্তু এর মাধ্যমে কি মি. ট্রাম্পকে আসলে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে? এ প্রশ্নের জবাব পেতে হলে দেখতে হবে যে প্রক্রিয়াটা ঠিক কীভাবে কাজ করে।
'এক কঠিন ও বিরল প্রক্রিয়া'
অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট মানে হচ্ছে কোন সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে পার্লামেন্টে অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত করা।
একজন আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করার কথা মার্কিন সংবিধানে আছে, তবে কাজটা সহজ নয়।
প্রথমত: মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অপরাধ বা অসদাচরণের অভিযোগ আনতে হবে, তার পর উচ্চকক্ষ সেনেটে এক বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে।
এটা বেশ কঠিন এবং বিরল একটি প্রক্রিয়া।
কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে শুনানীর পর অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হতে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট, প্রস্তাবের পক্ষে পড়তে হবে মোট ২১৮টি ভোট।
কিন্তু ১০০ সদস্যের সেনেটে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং তাকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে হলে লাগবে দু-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থাৎ অন্তত ৬৭ জন সেনেটরের সমর্থন।
এটা হবার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
কারণ বর্তমান সেনেটে ট্রাম্প সমর্থক রিপাবলিকান সেনেটার আছেন ৪৭ জন। ফলে ইমপিচমেন্টের পক্ষে সেনেটে ৬৭ ভোট মিলবে না বলেই মনে হয়।
তাহলে অতীতে কী হয়েছে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মাত্র দু'বার দু'জন প্রেসিডেন্ট অভিশংসিত হয়েছেন।
এ্যান্ড্রু জনসন ১৮৬৮ সালে, এবং বিল ক্লিনটন ১৯৯৮ সালে।
তবে তাদের পদ ছাড়তে হয় নি। সেনেটের বিচার প্রক্রিয়ায় দু'জনেই খালাস পান। তবে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ওয়াটারগেট কেলেংকারির কারণে ইমপিচ হবার আগেই পদত্যাগ করেছিলেন।
এবারে দেখা যাচ্ছে, মি. ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রস্তাব কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও সেনেটে হবে না।
এই সেনেটে এসেই বহু প্রেসিডেন্ট অভিশংসনের হাত থেকে বেঁচে গেছেন।
বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তাদের সদস্য সংখ্যা ২৩৩। তবে সেনেটে রিপাবলিকানদের আছে ৪৭টি আসন। তাই অভিশংসনের প্রস্তাব দু-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না, যদি না রিপাবলিকান সেনেটররাও মি. ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দেন।
তাহলে এই ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া আদৌ হচ্ছে কেন?
বিবিসির বিশ্লেষক এ্যান্টনি জার্কার বলছেন, এ প্রশ্নের উত্তর আছে মার্কিন নির্বাচন-পূর্ব রাজনীতির হিসেব-নিকেশে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধ অভিশংসনের চেষ্টা হবে কিনা এ নিয়ে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভেতরে আলোচনা-বিতর্ক হয়েছে।
অভিশংসনের পক্ষে যে ডেমোক্র্যাটরা, তারা মনে করেন অভিশংসনের একটা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হবে আমেরিকান জনমতে পরিবর্তন আনা। তাদের মতে, মার্কিন জনমত এখন এর পক্ষে না থাকলেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ সংগৃহীত হলে এবং তা জোরালোভাবে উপস্থাপিত হলে জনগণ এর পক্ষে আসবে।
অনেক ডেমোক্র্যাট মনে করেন, অভিশংসন একটা নৈতিক দায়িত্ব, কারণ প্রেসিডেন্ট তাদের মতে প্রেসিডেন্ট আইন ভেঙেছেন, তার শপথবাক্য লংঘন করেছেন। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তার অর্থ হবে এতে পরোক্ষ সম্মতি দেয়া এবং আরো আইন ভাঙতে তাকে উৎসাহিত করা।
তবে এটা রাজনৈতিকভাবে বিজয়ী হবার মতো ইস্যু হবে কিনা - এ নিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে।
স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সহ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে ইমপিচমেন্ট করতে গেলে উল্টো রিপাবলিকানদের ভিত্তিই সংহত হতে পারে, এবং মধ্যপন্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে - কারণ তারা চান কংগ্রেস নীতিনির্ধারণী ইস্যুর দিকেই মনোযোগ দিক।