প্রেসিডেন্ট রুহানি বলছেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি ভেঙ্গে ইরান পরমাণূ কর্মসূচি চালু করছে

ইরানের আনবিক শক্তি কমিশন সোমবার নাতাঞ্জে আধুনিক সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহারের ঘোষণা করেছে।

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, ইরানের আনবিক শক্তি কমিশন সোমবার নাতাঞ্জে আধুনিক সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহারের ঘোষণা করেছে।

ইরান বলছে, তারা তাদের পরমাণূ কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য যে আন্তর্জাতিক চুক্তি করেছিল - তার লঙ্ঘন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ আবার শুরু করবে।

প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এ কথা জানিয়েছেন।

যুক্তরাসহ কয়েকটি পরমাণু শক্তিধর দেশ এবং জার্মানির সাথে সম্পাদিত ওই চুক্তি মোতাবেক ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে রাজী হয়েছিল।

কিন্তু ওই চুক্তি থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই তারা ওই চুক্তির শর্তগুলো ভাঙতে শুরু করে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জানিয়েছেন, তেহরানের কাছে ফরদাও নামে তাদের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ইরান এক হাজারেরও বেশি সেন্ট্রিফিউজের ভেতর গ্যাস ভরা শুরু করেছে।

এর মাধ্যমে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি আবার সক্রিয় করে তোলা হচ্ছে।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এমন এক ধরণের ইউরেনিয়াম যা পারমাণবিক চুল্লিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা যায়, আবার তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করা যায়।

প্রেসিডেন্ট রুহানি বলছেন, ইরান যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা থামানো যাবে না।

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, প্রেসিডেন্ট রুহানি বলছেন, ইরান যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা থামানো যাবে না।

আরো পড়তে পারেন:

দু'হাজার পনের সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানির সাথে সম্পাদিত এক টেকনিক্যাল চুক্তির অধীনে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত রেখেছিল।

বিনিময়ে তার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল।

কিন্তু ইরানের পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই চুক্তির শর্ত আরো বেশি করে লঙ্ঘন করা হলো।

তার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবার কথা ঘোষণা করেন এবং ইরানের ওপর কঠোর সব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করেন।

তিনি চেয়েছিলেন, ইরানকে যেন ওই চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে বাধ্য করা যায়।

কিন্তু এর জবাবে এ বছরের প্রথম দিক থেকেই ইরান ওই চুক্তির শর্তগুলো ক্রমান্বয়ে ভাঙতে শুরু করে।

তেহরানে এক ভাষণে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, যখনই ওই চুক্তির অন্যান্য পক্ষগুলো তাদের অঙ্গীকার পূরণ করবে, তখনই তার দেশ সেন্ট্রিফিউজে গ্যাস ভরার কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে।