কোরান শিক্ষক, ফুটবলার থেকে স্বঘোষিত খলিফা ইব্রাহিম - আইএস নেতা আল-বাগদাদির বিচিত্র জীবন

ছবির উৎস, AFP
জিহাদি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের নেতা এবং স্বঘোষিত 'খলিফা ইব্রাহিম' আবু বকর আল-বাগদাদি মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্তও ছিলেন পৃথিবীর 'মোস্ট ওয়ান্টেড ম্যান।'
পাঁচ বছর আগে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের উত্থানের পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা তাকে খুঁজছিল।
তার মাথার দাম ঘোষিত হয়েছিল ২৫ মিলিয়ন বা ২ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার।
ইসলামিক স্টেট তার সেরা সময়ে নিয়ন্ত্রণ করতো পশ্চিম সিরিয়া থেকে শুরু করে পূর্ব ইরাক পর্যন্ত ৩৪ হাজার বর্গমাইল এলাকা। এই বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দা ৮০ লাখ লোকের ওপর আইএস কায়েম করেছিল এক ত্রাসের রাজত্ব। তেল বিক্রি, অপহরণ ও জবরদস্তির মাধ্যমে তারা আয় করতো শত শত কোটি ডলার।
সে 'খেলাফত' আইএস অনেক দিন আগেই হারিয়েছে, আর শনিবার রাতে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় এক মার্কিন কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছেন আল-বাগদাদি নিজেও।
কিন্তু তা সত্বেও ইসলামিক স্টেট এখনও বহু যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সুশৃঙ্খল একটি সংগঠন হিসেবে টিকে আছে এবং তারা যে স্থায়ীভাবে পরাজিত হয়েছে এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
'বিশ্বাসী'
আল-বাগদাদির আসল নাম ইব্রাহিম আওয়াদ আল-বাদরি। তার জন্ম ১৯৭১ সালে মধ্য ইরাকের সামারা শহরে, এক ধর্মপ্রাণ সুন্নি পরিবারে।
তার পরিবার দাবি করে তারা ইসলামের নবী মোহাম্মদের নিজ গোত্র কুরাইশদের উত্তর পুরুষ। প্রাচীনপন্থী সুন্নি আলেমরা মনে করেন একজন খলিফা হবার জন্য যেসব পূর্ব যোগ্যতা দরকার - তার মধ্যে এই বংশপরিচয় অন্যতম।
তরুণ বয়সে আল-বাগদাদিকে তার আত্মীয়দের অনেকেই ডাকতো 'বিশ্বাসী' বলে। কারণ, দিনের অনেকটা সময়ই তিনি কাটাতেন স্থানীয় মসজিদে, পবিত্র কোরান পাঠ শিক্ষার জন্য।
তা ছাড়াও যারা ইসলামিক আইন বা শরিয়া মেনে চলতে ব্যর্থ হতো তাদের তিনি প্রায়ই তিরস্কার করতেন।

ছবির উৎস, AFP
১৯৯০ সালের প্রথম দিকে তার স্কুলের পড়াশোনা শেষ হয়। এর পরে তিনি চলে যান রাজধানী বাগদাদে।
আল-বাগদাদির সমর্থকদের প্রকাশ করা এক জীবনী অনুযায়ী তিনি বাগদাদের ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন, এবং পিএইচডি'র জন্য কাজ করা শুরু করেন।
ছাত্রজীবনে তিনি থাকতেন বাগদাদের উত্তর-পশ্চিমের তোবচি এলাকায় একটি সুন্নি মসজিদে।
জানা যায়, আল-বাগদাদি সেসময় কোরান তেলাওয়াত শেখাতেন এবং মসজিদের ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলতেন। তা ছাড়া তিনি ছিলেন একজন শান্ত এবং অন্তর্মুখী প্রকৃতির লোক ।
মনে করা হয় - এ সময়ই তিনি সালাফি ও জিহাদি মতবাদে উদ্বুদ্ধ হন।
'জিহাদি বিশ্ববিদ্যালয়'
দু'হাজার তিন সালে ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন উৎখাত হন এক মার্কিন-নেতৃত্বাধীন অভিযানে। জানা যায়, এ সময় 'জামাত জয়শ আহল আল-সুন্নাহ ওয়া-আল-জামাহ' নামে একটি ইসলামী বিদ্রোহী সংগঠন গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখেন আল-বাগদাদি।
এই গ্রুপটি মার্কিন সৈন্য ও তাদের মিত্রদের ওপর আক্রমণ চালাতো। ওই গোষ্ঠীর শরিয়া কমিটির প্রধান ছিলেন আল-বাগদাদি।
এক বছরের মধ্যেই ২০০৪ সালে বাগদাদের পশ্চিমে ফালুজা শহরে মার্কিন সৈন্যদের হাতে ধরা পড়েন আল-বাগদাদি।
তাকে নিয়ে যাওয়া হয় দক্ষিণ ইরাকের ক্যাম্প বাক্কা নামের এক বন্দীশিবিরে।

ছবির উৎস, AFP
অনেকে বলেন, এই ক্যাম্প বাক্কা শেষ পর্যন্ত হয়ে দাঁড়ায় ভবিষ্যতের আইএস নেতাদের একটা 'বিশ্ববিদ্যালয়ের' মতো।
কারণ এখানে থাকা বন্দীরা শুধু যে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয় তাই নয়, তাদের পরস্পরের মধ্যে পরিচয় হয়, গড়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের নেটওয়ার্ক।
এই ক্যাম্প বাক্কায় বন্দী থাকা অবস্থায় আল-বাগদাদি নামাজের ইমামতি করা, খুৎবা দেয়া, ধর্ম শিক্ষার ক্লাস নেয়া ইত্যাদি কাজ করতেন। কখনো কখনো ওই কারাগারের মার্কিন প্রশাসক তাকে ডেকে নিতেন বিভিন্ন ঝগড়া-বিবাদে মধ্যস্থতা করার জন্য।
যুক্তরাষ্ট্র তাকে 'নিম্ন-মাত্রার হুমকি' বলেই বিবেচনা করতো এবং ১০ মাস পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
"যখন আমরা ২০০৪ সালে তাকে আটক করেছিলাম, তখন সে ছিল একটা রাস্তার গুন্ডা" - নিউইয়র্ক টাইমসকে ২০১৪ সালে বলেছিলেন পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা। "এই লোক যে একদিন ইসলামিক স্টেটের নেতা হবে তখন আমাদের পক্ষে এটা অনুমান করা খুবই কঠিন ছিল।"
ইরাকে আল-কায়েদার পুনর্গঠন
ধারণা করা হয়, ক্যাম্প বাক্কা ত্যাগের পরই বাগদাদির সাথে নবগঠিত ইরাকি আল-কায়েদা (আল-কায়েদা ইন ইরাক বা একিউআই)-র যোগাযোগ হয়।
কিছুকালের মধ্যেই - জর্দানের নাগরিক আবু মুসাব আল-জারকাবির নেতৃত্বে একিউআই হয়ে দাঁড়ায় ইরাকি বিদ্রোহীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান শক্তি। শিরশ্ছেদসহ নানা নৃশংসতার জন্য কুখ্যাত হয়ে ওঠে তারা।
একিউআই ২০০৬ সালের প্রথম দিকে জিহাদিদের একটি বৃহত্তর সংস্থা গঠন করে - যার নাম দেয়া হয় মুজাহিদিন শুরা কাউন্সিল। এর প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে এতে যোগ দেয় আল-বাগদাদির গোষ্ঠীটিও।

ছবির উৎস, AFP
সে বছরেই আল-জারকাবি এক মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হবার পর সংগঠনটি নতুন নাম নেয় ইসলামিক স্টেট অব ইরাক (আইএসআই)। বাগদাদি ছিলেন এর শরিয়ার কমিটির তত্বাবধায়ক এবং শুরা কাউন্সিলের সদস্য।
চার বছর পর ২০১০ সালে এক মার্কিন হামলায় নিহত হন আইএসআই-এর নেতা আবু উমর আল-বাগদাদি, এবং তার ডেপুটি আবু আইয়ুব আল-মাসরি। তখন আইএসআই-এর নতুন নেতা নিযুক্ত হন আবু বকর আল-বাগদাদি।
সে সময় মার্কিন সেনানায়করা বিশ্বাস করতেন যে আইএসআই সংগঠনটি কৌশলগত পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে।
কিন্তু আল-বাগদাদি ধীরে ধীরে আইএসআই-কে পুনর্গঠিত করেন সাদ্দাম হোসেনের যুগের বেশ কয়েকজন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাহায্য নিয়ে। এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন যাদের সাথে তার আলাপ হয়েছিল সেই ক্যাম্প বাক্কায় আটক থাকার সময়।
খলিফা ইব্রাহিম
২০১৩ সালের প্রথম দিকে ইরাকে প্রতি মাসেই অনেকগুলো করে আক্রমণ চালাচ্ছিল আইএসআই।
তারা সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহেও যোগ দেয়। ইরাকে যে সিরিয়ান জঙ্গীরা ছিল তাদেরকে সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়, তাদের দিয়ে গঠন করা হয় আল-নুসরা ফ্রন্ট যা ছিল সিরিয়ায় আল-কায়েদার সহযোগী।
সিরিয়ায় তারা পায় নিরাপদ আশ্রয় এবং সেখানে অস্ত্রশস্ত্রও পাওয়া যেতো সহজে।

ছবির উৎস, Reuters
সে বছরই এপ্রিল মাসে ইরাক ও সিরিয়ায় তার দুই বাহিনীকে এক করে বাগদাদি ঘোষণা করেন 'ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক এ্যান্ড লেভান্ত' (আইসিস বা আইসিল) গঠনের কথা।
কিন্তু আল-নুসরা এবং আল-কায়েদার নেতারা এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেন। এর পর বাগদাদির অনুগত যোদ্ধারা আল-নুসরা ত্যাগ করে এবং সিরিয়ায় আইসিসকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।
এর পর ২০১৩ সালের শেষ দিকে ইরাকের প্রতি আবার মনোযোগ নিবদ্ধ করে আইসিস। দেশটিতে শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার এবং সংখ্যালঘু সুন্নি আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যেকার সংঘাতের সুযোগ নেয়। সাদ্দাম হোসেনের সাবেক সহযোগী এবং নানা গোষ্ঠীর সহায়তা নিয়ে আইসিস ফালুজা দখল করে নেয়।
ইরাকি বাহিনীকে উৎখাত করে কয়েক শ' আইসিস জঙ্গী উত্তর ইরাকের শহর মসুল দখল করে ২০১৪ সালের জুন মাসে।
এর পর তারা দক্ষিণ দিকে বাগদাদের দিকে এগুতে শুরু করে। তারা তাদের শত্রুদের মধ্যে গণহত্যা চালায়, ইরাকের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো উচ্ছেদের হুমকির মুখে পড়ে।

ছবির উৎস, AFP
ইরাকের অনেকগুলো ছোটবড় শহরের ওপর নিয়ন্ত্রণ সংহত করার পর আইসিস 'খিলাফত' ঘোষণা করে - যার অর্থ শরিয়া আইন মোতাবেক পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তার ডেপুটি বা 'খলিফা'-র শাসন। আইসিসের নাম পরিবর্তন করে করা হয় 'ইসলামিক স্টেট'।
বাগদাদিকে ঘোষণা করা হয় 'খলিফা ইব্রাহিম' বলে, তার প্রতি সারা দুনিয়ার মুসলিমদের আনুগত্যও দাবি করা হয়।
পাঁচদিন পর একটি ভিডিও ছাড়া হয় যাতে দেখা যায়: মসুল শহরের আল-নূরী মসজিদে বক্তৃতা দিচ্ছেন আল-বাগদাদি। এই প্রথম তাকে ক্যামেরার সামনে দেখা গেল।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সেই আনুষ্ঠানিক ভাষণে ইসলামের প্রথম কয়েক শতাব্দীর খলিফাদের বক্তব্যের মিল আছে। বাগদাদি মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন আইএসের অধীন ভূখন্ডে এসে বসতি স্থাপন করেন এবং অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে ইসলামের যুদ্ধে যোগ দেন। তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার বিদেশী সেখানে পাড়ি দেন।
এক মাসের কিছু বেশি সময় পর আইএস যোদ্ধারা ইরাকের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকার দিকে অভিযান চালায়, ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের হাজার হাজার লোককে হত্যা করতে শুরু করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী ইরাকে জিহাদিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে।

ছবির উৎস, Reuters
এর পর আইএস তাদের হাতে আটক কিছু পশ্চিমা জিম্মির শিরশ্ছেদ করে। এসব ভিডিও প্রকাশ পাবার পর সেপ্টেম্বর মাসে সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু করে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন বাহিনী।
আইএসের পরাজয়
আইএস প্রথমে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের সাথে সরাসরি সংঘাতকে একরকম স্বাগত জানিয়েছিল, তারা একে দেখেছিল ইসলামী ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী মুসলিম ও তার শত্রুদের 'শেষ যুদ্ধের' সুযোগ হিসেবে।
কিন্তু পরের পাঁচ বছরে দেখা গেল, আইএসকে তাদের দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ধীরে ধীরে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ইরাকে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে আইএসবিরোধী যুদ্ধে সহযোগিতা করে কুর্দি পেশমার্গা এবং ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা। আর সিরিয়ায় সহযোগী ছিল বিভিন্ন সিরিয়ান কুর্দি ও আরব মিলিশিয়া বাহিনী।
অন্যদিকে রুশ বিমান হামলা ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের সহযোগিতা নিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের বাহিনীও।
এই পুরো সময়টা জুড়েই আল-বাগদাদি জীবিত না মৃত - এ নিয়ে একটা বিভ্রান্তি বা রহস্য রয়েই গেছে।
২০১৭ সালের জুন মাসে মসুল পুনরুদ্ধারের যুদ্ধের সময় রুশ কর্মকর্তারা বাগদাদি নিহত হবার জোর সম্ভাবনার কথা বলেন। কিন্তু সে বছর সেপ্টেম্বর মাসেই বাগদাদির এক কথিত অডিও বার্তা প্রকাশ পায়।
এর কিছু পরে আইএসের 'রাজধানী' রাক্কার পতন হয়। ২০১৮ সালের আগস্টে বাগদাদি তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে এক নতুন অডিও বার্তা দেন।

পরবর্তীতে মসুল ও রাক্কা থেকে পালানো হাজার হাজার আইএস যোদ্ধার মধ্যেও বাগদাদি আছেন বলে কোন আভাস মেলে নি। তবে এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল ইসলামিক স্টেটেরই একটি অংশ তাকে উৎখাতের চেষ্টা করার পর তিনি ইরাকের পশ্চিম দিকের মরুভূমিতে পালিয়ে গেছেন।
এ বছর মার্চ মাসে যখন সিরিয়ায় আইএসের অধিকারে থাকা শেষ ভূখন্ডটুকুও দখল করে নেয় এসডিএফ, তার মধ্যে দিয়ে বাগদাদির খেলাফতের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।
প্রথম ভিডিওর পাঁচ বছর পর - ২০১৯এর এপ্রিল মাসে বাগদাদিকে আবার দেখা যায় এক নতুন ভিডিওতে। তাকে দেখা যায় উপবিষ্ট অবস্থায়, পাশে রাইফেল।
ভিডিওতে তিনি তার গোষ্ঠীর পরাজয়ের কথা স্বীকার করেন, তবে তার সমর্থকদের প্রতি শত্রুর ওপর আক্রমণের আহ্বানও জানান।
তার শেষ বার্তাটি ছিল একটি অডিও বার্তা - যা বেরোয় সেপ্টেম্বর মাসে।
তিনি তার সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা হাজার হাজার বন্দী আইএস যোদ্ধাকে মুক্ত করে।

ছবির উৎস, AFP
কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তরপূর্ব সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তার পরই কুর্দি এসডিএফ মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।
এসডিএফের বন্দীশিবিরে থাকা অনেক বন্দী পালিয়ে যায়। আইএসের স্লিপার সেলগুলো কয়েকটি আক্রমণও চালায়।
এরই মধ্যে ২৩শে অক্টোবর রাতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী সিরিয়ায় ইদলিব প্রদেশে বারিশা নামের এক গ্রামে দুটি বাড়ি লক্ষ্য করে এক অভিযান চালায় - যার লক্ষ্য ছিল আবু বকর আল-বাগদাদি।
যদিও ধারণা করা হতো যে আল-বাগদাদি লুকিয়ে আছেন ওই জায়গা থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে - কিন্তু দেখা গেল বারিশার ওই অভিযানেই নিহত হন আল-বাগদাদি।

ছবির উৎস, AFP
আল-বাগদাদির সাথে ছিল তার তিন সন্তান। মার্কিন আক্রমণের মুখে তাদের নিয়ে তিনি একটি সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়েন। মার্কিন বাহিনী সুড়ঙ্গটিতে প্রশিক্ষিত কুকুর পাঠালে তিনি আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।
তিন সন্তানসহ নিহত হন আল-বাগদাদি। তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বিস্ফোরণে, কিন্তু তাৎক্ষণিক ডিএনএ পরীক্ষায় তার পরিচয় নিশ্চিত করে মার্কিন বাহিনী।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করে বলেন, 'বাগদাদি কুকুরের মত মারা গেছে।'
ইসলামিক স্টেটের দিক থেকে তাদের নেতা আল-বাগদাদির মৃত্যুর খবর তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয় নি।








