সুন্দরবনে বনদস্যুরা কি আবার ফিরে আসছে?

ছবির উৎস, STR
- Author, শাহনাজ পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে সুন্দরবনের কয়রা এলাকায় র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে চারজন বনদস্যু নিহত হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার কয়রা খালে ভোরের দিকে বনদস্যুদের সাথে তাদের বন্দুক যুদ্ধ হয়েছে।
তাতে আমিনুর বাহিনী নামে একটি বনদস্যু দলের প্রধান ও তার সহযোগীসহ চারজন নিহত হন।
এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন র্যাব-৬ এর মেজর মোহাম্মদ শামীম সরদার।
তিনি বলছেন, নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে তারা সোমবার গভীর রাত থেকে অভিযান শুরু করেন।
সুন্দরবনে কী আবারো বনদস্যুদের কার্যক্রম শুরু হল?
বাংলাদেশে ২০১৬ সালে মাস্টার বাহিনী নামে সুন্দরবনের সবচাইতে বড় বনদস্যু বাহিনী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। সেখান থেকেই শুরু।
তখন তারা তাদের আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেয় এবং পুনর্বাসনে রাজি হয়।

ছবির উৎস, RAPID ACTION BATTALION
এরপর ২০১৮ সাল পর্যন্ত কয়েক দফায় আরও কয়েকটি বাহিনী আত্মসমর্পণ করার পর সুন্দরবনকে বনদস্যু মুক্ত ঘোষণা করা হয়।
মেজর সরদার বলছেন, "যারা আত্মসমর্পণ করেনি তারাই মূলত গত এক বছরে ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করে বিচ্ছিন্নভাবে নতুন ছোট দল গড়ে তুলছেন।"
কিন্তু গত এক বছরে বেশ কটি বন্দুকযুদ্ধের খবর এসেছে।
বনদস্যুরা কীভাবে কাজ করে?
মেজর সরদার বলছেন, "এরা রাতের দিকে ডাকাতি করে তারপর সরু খালগুলোতে প্রবেশ করে লুকিয়ে থাকে। যখন মাছ ধরার মৌসুমে বা বনে যাওয়ার মৌসুমে তারা মূলত জেলেদের ওপরই হামলা করে।"
আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়ায় আলাপ আলোচনায় বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন মংলা থানার চিলা ইউনিয়নের মৎস্য ব্যবসায়ী ও মহাজন মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী।
তিনি বলছেন, "দেখা যাচ্ছে কেউ আত্মসমর্পণ করেছে। পরবর্তীতে তার আত্মীয়দের কেউই ওই পথে যাচ্ছে। যারা বেশিরভাগের লোকই কর্মহীন।"

ছবির উৎস, Barcroft Media
তিনি আরও বলছেন, "এছাড়া সুন্দরবন অনেক বড় এলাকা। অনেক খালবিল। কিছু কিছু আছে অনেক সরু। সেখানে বনদস্যুদের পক্ষে লুকিয়ে থাকা অনেক সহজ। যখন রাত হয় ওরা বড় ট্রলার ব্যবহার করে। আর যখন দিন হয় তখন ছোট নৌকা ব্যাবহার করে যেকোনো খালে গিয়ে লুকিয়ে থাকে।"
জেলেরাই সবচাইতে বড় শিকার
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলছেন সুন্দরবনে সবসময়ই জেলেরাই বনদস্যুদের মুল শিকার। জেলেরা ভয়ে অনেক নৌকা নিয়ে একসাথে চলাচল করে থাকেন।
সুন্দরবনের ভেতরে রাতের বেলায় নির্দিষ্ট এলাকায় থাকার চেষ্টা করেন।
জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিহত করার ঘটনাও রয়েছে।
চাঁদপাই এলাকার জেলে বিদ্যুৎ মণ্ডল বলছেন, তাদের জন্য মুল সমস্যা হয় যখন বনদস্যুরা কাউকে জিম্মি করে।
তিনি বলছেন, "ধরেন পাঁচটা লোক একসাথে একটা ট্রলারে আছে। যদি মালিক থাকে তাহলে ওরা মালিককে নিয়ে যায়। তা না হলে মাঝিদের নিয়ে যায়। এরপর ওদের জিম্মি করে বলে বাড়িতে ফোন দিতে বলে। ধরেন তিরিশ বা চল্লিশ হাজার টাকা চায়। এতদিনের টাইমের মধ্যে। এতটাকা জেলেরা কিভাবে দেবে?"

ছবির উৎস, Barcroft Media
তিনি আরও বর্ণনা দিয়ে বলছিলেন, "তথ্য এলাকায় আসার পর প্রশাসনকে জানানোর কোন উপায় নেই। জেলেদের টার্গেট থাকে তখন ওই লোকটাকে কিভাবে ছাড়াবে। তারা জেলেদের মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিকাশের মাধ্যমে পাঠায়। তারপর তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।"
দস্যুবৃত্তির পথই কেন বেছে নিচ্ছেন?
সেসময় আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুদের সরকার এখনো পুনর্বাসনে সহায়তা করছে।
এমনকি তাদের আইনি সহায়তা দেয়ারও আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো।
মংলা এলাকায় আত্মসমর্পণকারীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন, "ভালো জীবনে যেতে গেলে একটু কষ্ট করে চলতে গেলে অনেকের হয়তো ভালো লাগে না। দেখা যাচ্ছে যে একটা লোককে ধরে অনেক টাকা নিলো তারা। এটা পুরোটাই লোভ। যেখানের পয়সার লোভ যে কাজে সেটা ভালো লাগাই মনে হয় স্বাভাবিক।"
তিনি আরও বলছেন, "সরকার যেভাবে আমাদের সহায়তা করছে তারপরেও যদি কেউ মনে করে আমার ওই পেশাই ভালো তাহলো তার জন্য এটা ভালো হবে না।"








