এনআরসি নিয়ে অমিত শাহকে কী বললেন মমতা?

দিল্লিতে মুখোমুখি অমিত শাহ ও মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার

ছবির উৎস, India MHA/Twitter

ছবির ক্যাপশান, দিল্লিতে মুখোমুখি অমিত শাহ ও মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি

ভারতের আসামে যাদের নাম এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জী থেকে বাদ পড়েছে, তাদের নাম ফের তালিকায় ঢোকানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

এদিন দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র সঙ্গে দেখা করে তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু করা নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে আজ কোনও কথা হয়নি ঠিকই - কিন্তু তার সরকার রাজ্যে কিছুতেই এনআরসি চালু করতে দেবে না।

বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য বলছে রাজ্য সরকার কী বলছে তাতে কিছু যায় আসে না - গোটা দেশের স্বার্থেই আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিক তালিকা তৈরি করা হবে।

একজন বলছেন পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশেই এবার এনআরসি চালু হবে, অন্যজনের হুমকি কিছুতেই পশ্চিমবঙ্গে নাগরিক তালিকা করতে দেব না।

সেই দুজন, যথাক্রমে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রথম কোনও সরকারি বৈঠক হয়েছে আজ (বৃহস্পতিবার) দিল্লিতে।

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি-র বিরুদ্ধে কলকাতায় মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে পদযাত্রা। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি-র বিরুদ্ধে কলকাতায় মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে পদযাত্রা। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

নর্থ ব্লকে সেই বৈঠক শেষে মিস ব্যানার্জি বলেন, "আসামে যেভাবে এনআরসি থেকে উনিশ লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়েছে আমি একটা চিঠি দিয়ে ওনাকে বলেছি এটা মোটেও ঠিক হয়নি।"

"এদের মধ্যে অনেক বাঙালির নাম বাদ গেছে। বাংলাভাষীরা যেমন বাদ পড়েছেন, হিন্দিভাষী বা গোর্খারাও বাদ পড়েছেন। হিন্দুরাও আছেন, মুসলিমরাও আছেন।"

"এমন কী অসমিয়া অনেক লোকের নাম পর্যন্ত তালিকায় নেই।"

"কাজেই আমরা মনে করি এই লিস্টটা ভুলে ভরা। মন্ত্রীকে আমরা বলেছি যাদের নাম তালিকায় নেই তাদের নাম সেখানে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা হোক - কারণ এই ভারতীয়রা একটা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে!"

তবে তার নিজের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু করা নিয়ে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও কথা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

আসামে এক সংবাদ সম্মেলনে এনআরসি-র পক্ষে সওয়াল করছেন অমিত শাহ। ফাইল ছবি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আসামে এক সংবাদ সম্মেলনে এনআরসি-র পক্ষে সওয়াল করছেন অমিত শাহ। ফাইল ছবি

তবে পাশাপাশি মিস ব্যানার্জি একথাও বলতে ভোলেননি, "আমাদের অবস্থান তো সবারই জানা - যে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি-র কোনও প্রয়োজন নেই। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারও একই কথা বলছেন।"

"আমাদের বক্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন দিয়ে শুনেছেন, বিষয়টা দেখবেনও বলেছেন।"

মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বৈঠকের পর অমিত শাহর মন্ত্রণালয় অবশ্য তা নিয়ে কোনও বিবৃতি জারি করেনি, ওই বৈঠকের আলোচনা নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্যও মেলেনি।

তবে বিজেপির দাবি, এই বৈঠকের পরও এনআরসি নিয়ে তাদের অবস্থান বিন্দুমাত্র পাল্টাবে না।

পশ্চিমবঙ্গে দলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভারতী ঘোষ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "আমাদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার - এদেশের কোনও বৈধ নাগরিকের সঙ্গে অন্যায় করা হবে না, তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না কিংবা নতুন আশ্রয়ও তাদের খুঁজতে হবে না।"

"এমন কী, প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহ বারবার বলছেন বিদেশ থেকে আসা হিন্দুদের আমরা শরণার্থীর মর্যাদা দিই, তারাও এদেশে থাকতে পারবেন।"

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতী ঘোষ

ছবির উৎস, Bharati Ghosh/Facebook

ছবির ক্যাপশান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতী ঘোষ

তাহলে কি এনআরসি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আমলই দিচ্ছে না?

ভারতী ঘোষের জবাব, "মমতা ব্যানার্জি কী বললেন তা নিয়ে বিজেপি বিন্দুমাত্র ভাবিত নয়। দেশের জন্য কোনটা ভাল তা সবাই জানে, আমরা সেটাই করব।"

"এই মমতা ব্যানার্জিই ২০০৪ সালে রাজ্যে এনআরসি চেয়ে পার্লামেন্টে হইচই বাঁধিয়ে দিয়েছিলেন, স্পিকারের দিকে একতাড়া কাগজ ছুঁড়ে মেরেছিলেন।"

"আর আজ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য তিনি এনআরসি রুখতে চান। আসলে তিনি একজন চরম সুবিধাবাদী।"

মমতা ব্যানার্জি এদিন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত আছে বলেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক খুব জরুরি।

বিজেপি আবার সেই সীমান্তের দিকে আঙুল তুলেই বলছে - সেই পথে যারা অনুপ্রবেশ করছেন তাদের নিয়ে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি বন্ধ করতেই পশ্চিমবঙ্গে অবিলম্বে এনআরসি চালু হবে।