ফ্রান্সের সুইমিং পুলে বুরকিনি পরে নিষেধাজ্ঞা ভাঙ্গলেন মুসলিম নারীরা

ছবির উৎস, CITIZEN ALLIANCE OF GRENOBLE
নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে ফ্রান্সের একটি স্থানীয় সুইমিং পুলে মুসলিম নারীরা বুরকিনি পরে সাঁতার কেটেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার নিয়ে রোজা পার্কস যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, সেটার অংশ হিসেবে রবিবার গ্রিনোবেল শহরে একদল নারী বুরকিনি পরে সুইমিং পুলে নামেন।
দ্য জিন বর্ন নামে এই সুইমিং পুলটি ফ্রান্সের আরো অনেক সুইমিং পুলের মধ্যে একটি, যেখানে বুরকিনি পরা নিষেধ।
দেশটির অনেকেই মনে করেন এই সুইমস্যুট রাজনৈতিক ইসলাম এবং অসঙ্গতিপূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক।
গত মাসে "অপারেশন বুরকিনি" নামে একটা প্রচারণা শুরু করে সিটিজেন অ্যালায়েন্স অব গ্রিনোবেল এর সদস্যরা। তারা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, এটা মুসলিম নারীদের অধিকার।
সুইমিং পুলে কী ঘটেছিল?
সুইমিং পুলে আসার পর এইসব নারীরা পোশাক বদলে বুরকিনি পরেন। সেইসময় লাইফগার্ড যারা ছিলেন তারা তাদের সতর্ক করে বলেন সুইমস্যুট হিসেবে বুরকিনি পরা যাবে না।
এই নিষেধাজ্ঞার পরেও এই নারীরা সুইমিং পুলে নামেন এবং একঘণ্টা যাবৎ গোসল করেন।
তাদের অনেকেই এটা করতে পেরে আনন্দ উল্লাস করছেন। পরে ওই নারীদেরকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং প্রত্যেককে নিয়ম ভাঙ্গার অপরাধে ৪০ ডলার জরিমানা করে।
বিবিসির সাথে আলাপকালে হাসিবা এবং লাতিফা নামে দুইজন বিক্ষোভকারী বলেছেন, তাদের অন্যান্য নাগরিকদের মত একই রকম অধিকার থাকা দরকার।
হাসিবা বলছিলেন "আমাদের একটা স্বপ্ন আছে। আমরা আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে গ্রীষ্মের গরমে পাবলিক সুইমিং পুলে যাবো, অন্যদের সাথে মজা করবো। যেটা অন্য সবাই করে থাকে আমরা সেটাই করতে চাই।"
লাতিফা বলছিলেন, "আমাদের উচিত ফ্রান্সের বৈষম্যমূলক এই নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা উচিৎ। আমরা আসলে সরকারি যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে, সেসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।"
বুরকিনি কী?
বুরকিনি শব্দটি বোরকা এবং বিকিনি শব্দের মিশ্রণ।

ছবির উৎস, REUTERS
বুরকিনি মুসলিম নারীদের জন্য বাজারে আনা হয়, যাতে করে মুসলিম নারীরা পাবলিক সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে পারেন।
এই সুইমস্যুটটি সারা শরীর ঢেকে রাখে শুধু মুখ এবং পায়ের পাতা দেখা যায়। কিন্তু বুরকিনি ফ্রান্সে বিতর্কিতই থেকে গেল।
ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি শহরের কর্তৃপক্ষ এই পোশাকটাকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করে। ২০১০ সালে ফ্রান্স ইউরোপের মধ্যে প্রথম দেশ যারা জনসম্মুখে সম্পূর্ণ মুখ ঢাকা বোরকা নিষিদ্ধ করে।








