মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সেতু ভেঙে ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত পাঁচ

ছবিতে দেখা যাচ্ছে কিভাবে উল্টে পড়ে রয়েছে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটির একটি বগি।

ছবির উৎস, মাহবুবুর রহমান

ছবির ক্যাপশান, ছবিতে দেখা যাচ্ছে কিভাবে উল্টে পড়ে রয়েছে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটির একটি বগি।

বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি সেতু পার হওয়ার সময় সেতুটি ভেঙে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

রাত সাড়ে এগারোটার দিকে কুলাউড়ার বরমচাল এলাকায় উপবন এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি একটি সেতু পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মৌলভীবাজারে পুলিশ সুপার মোঃ: শাহজালাল জানিয়েছেন ট্রেনটির পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে একটি বগি সেতু থেকে নিচে পানিতে পড়ে যায়।

সেতু থেকে রেললাইন উপড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধারের কথা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্থানীয় কর্মকর্তারা ৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন।

কুলাউরা সাব স্টেশন থেকে বলা হয়েছে হাসপাতালে নেয়ার পর একজন মারা গেছেন।

নিহতের সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এই দুর্ঘটনায় বহু আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্রিজ ভেঙে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ছবির উৎস, মাহবুবুর রহমান

ছবির ক্যাপশান, ব্রিজ ভেঙে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রাথমিকভাবে আহতের সংখ্যাটি নিশ্চিত করতে পারেননি মি. শাহজালাল।

তবে দমকল কর্মীরা বলছেন সংখ্যাটি অন্তত অর্ধশত হবে।

আহতদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল এবং এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩টি ইউনিটের উদ্ধারকর্মীরা সেখানে কাজ করছেন।

সিলেটের সাথে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ট্রেনটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিলো।

তিনি জানিয়েছেন ঢাকা সিলেট মহাসড়কে তিতাস নদীর উপরে একটি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার কারণে সড়কপথে যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

সেকারণে কয়েকদিন ধরে ট্রেনের উপরে বেশ চাপ রয়েছে বলে তিনি জানান।

দমকল বাহিনীর সিলেট অঞ্চলের উপ পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন সকালের দিকে লাইনচ্যুত হওয়া বগি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।

উপড়ে যাওয়া রেললাইন ঠিক করে রেল যোগাযোগ চালু হতে ৪৮ ঘণ্টার মতো সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারনা করছেন তারা।