ফিলিস্তিনী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা ফিলিস্তিনের 'আত্মসমর্পণ'

ইসরায়েলী-ফিলিস্তিনী দ্বন্দ্ব নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিকল্পনা তৈরি করছে তাকে 'আত্মসমর্পণ' বলে বর্ণনা করেছেন ফিলিস্তিনী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ মালকি। তিনি বলেছেন, এই পরিকল্পনা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মি. মালকি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাকে 'শতবর্ষের সেরা পরিকল্পনা' বলে বলছেন - তা আসলে "ফিলিস্তিনীদের শত-বর্ষব্যাপী দুর্ভোগকেই বৈধতা দেবে।"
এই পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। তবে ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী মাসে এটি প্রকাশ করা হবে।
ইসরায়েল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কোন অবস্থান নেয়নি।
এ মাসের গোড়াতে মি. ট্রাম্পের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার, যিনি একই সঙ্গে তার মেয়ের স্বামী, তিনি জানান যে প্রস্তাবিত "কাঠামোতে … দু'পক্ষই লাভবান হবে।" তিনি এই শান্তি পরিকল্পনাটির রূপকার।
তবে এই শান্তি কাঠামোতে তথাকথিত 'দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান' থাকবে কি না, তা পরিষ্কার নয়।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ঐ পরিকল্পনায় ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনী রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়।
দুটি রাষ্ট্রই ভাগাভাগি করে জেরুসালেমকে রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করবে।

ছবির উৎস, Getty Images
আরো পড়তে পারেন:
ফিলিস্তিনী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ এই 'দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান'-এর পক্ষে।
তবে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েলি নেতাদের মনোভাব বেশ শীতল।
লন্ডনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসে এক ভাষণে ফিলিস্তিনী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ মালকি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন যে ইসরায়েলের ঔপনিবেশিক নীতিমালায় সমর্থন দিতে যাচ্ছে" তার সব ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
"শান্তি প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেয়ার প্রশ্নে বিশ্ব এক বেপরোয়া ড্রাইভারের হাতে পড়েছে," তিনি বলেন, "(কিছু একটা করার বদলে) আমরা বসে দেখছি সেই ড্রাইভার গাড়িটিকে খাদে ফেলে দেয় নাকি ফিলিস্তিনী জনগণের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেয়।"
ইসরায়েল-অধিকৃত এলাকাগুলিতে বসতি স্থাপন এবং অন্যান্য তৎপরতাকে ফিলিস্তিনীরা প্রায়ই এক ধরনের ঔপনিবেশিকতা বলে বর্ণনা করে। তবে ইসরায়েল একে বরাবরই নাকচ করে।
উনিশশো সাতষট্টি সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল এপর্যন্ত ওয়েস্ট ব্যাংক এবং পূর্ব জেরুসালেমে মোট ১৪০টি বসতি নির্মাণ করেছে এবং ছয় লক্ষ ইহুদি সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করেছে।
ফিলিস্তিনীরা দাবি করে এই জায়গাগুলো তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও এই ধরনের বসতি নির্মাণ বেআইনি। কিন্তু ইসরায়েল তা মানে না।
মি. মালকি তার ভাষণে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় "নেই কোন স্বাধীনতা প্রস্তাব, নেই স্বাধিকারের প্রস্তাব, নেই মুক্তি কিংবা ন্যায়বিচার।"
"(যুক্তরাষ্ট্র) যদি মনে করে যে এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের ভবিষ্যতের ওপর এবং ঐ অঞ্চলের ওপর কোন প্রভাব ফেলবে না, তাহলে তারা ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে বাস করছে, আমরা নই।"
মি. ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রতি ইঙ্গিত করে মি. মালকি বলেন, ফিলিস্তিনীরা কোনমতেই ঐ পরিকল্পনা মেনে নেবে না।








