রাহুল গান্ধী কি ভারতীয় নাগরিক নন? সরকারের নোটিশ

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিরোধী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি চিঠি লিখে দু সপ্তাহের মধ্যে জানাতে বলেছে যে তিনি সত্যিই ব্রিটিশ নাগরিক কিনা।

মন্ত্রণালয়ের যে বিভাগ নাগরিকত্ব দেখে, তারাই এই চিঠি পাঠিয়েছে।

দেশে যখন লোকসভা নির্বাচন চলছে তখন বিরোধী নেতাকে এ ধরণের চিঠি দেওয়া নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস।

"রাবিশ," তার ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন রাহুল গান্ধীর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। "পুরো ভারত জানে রাহুল এ দেশের নাগরিক। ভারতেই তার জন্ম।"

"হেরে যাবে বুঝতে পেরে বিজেপি এখন এসব করছে।"

বিতর্কের সূচনা করেছেন বিজেপির সিনিয়র নেতা এবং এমপি সুব্রমনিয়ম স্বামী। তিনি লিখিতভাবে সরকারের কাছে অভিযোগ করেছেন যে ২০০৫-০৬ সালে ব্রিটেনে একটি কোম্পানির নথিপত্রে রাহুল গান্ধী নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

মি স্বামী ২০১৫ সালেও ঠিক একই নথিপত্র উল্লেখ করে রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তা নিয়ে তদন্ত দাবি করে তখন সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ বিষয়ক মামলাও হয়েছিল। কিন্তু আদালত ঐ মামলা খারিজ করে দেয়।

ভারতে যখন নির্বাচন চলছে তখন কেন আবার মি: স্বামী একই অভিযোগ সামনে আনলেন এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মি: গান্ধীকে চিঠি পাঠালো - তা নিয়ে ক্ষেপে গেছে কংগ্রেস।

কংগ্রেসের মুখপাত্র রাজদ্বীপ সুরজেওয়ালা বলেছেন, "বিজেপি আতঙ্কের মধ্যে পড়ে গেছে।"

চার বছর পর নতুন করে একই অভিযোগ এখন কেন তুলছেন সুব্রমনিয়ম স্বামী?

দিল্লিতে বিবিসি বাংলার শুভজ্যোতি ঘোষ বলছেন, নির্বাচনের সময় নতুন করে রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্বেরই প্রশ্ন তুলে বিজেপি হয়তো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।

তিনি বলছেন, সোনিয়া গান্ধীর ইটালীয় নাগরিকত্বের প্রশ্ন তুলে কংগ্রেসকে ঘায়েল করার চেষ্টা বহুদিন ধেই বিজেপি করছে। এখন সেই একই ইস্যুতে রাহুল গান্ধীও এখন তাদের টার্গেট।

"প্রমাণ হোক বা না হোক, নির্বাচনের মাঝে এই ইস্যুটি তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার আশা করছে বিজেপি।"

রাহুল গান্ধী দুটো আসন থেকে নির্বাচন করছেন।