ব্রিটেনে কর্মীদের অনেকেই একটু বেশি শিক্ষিত

ছবির উৎস, Getty Images
ইংল্যান্ডে কর্মরতদের মধ্যে ৩১ শতাংশ কর্মীই চাকরির চাহিদার দরকারের তুলনায় 'অধিক-শিক্ষিত'।
দেশটির অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্স (ওএনএস)বা জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
১৯৯২ সালের আগে যারা স্নাতক করেছে তাদের মধ্যে এই 'অতি-যোগ্যতা'র পরিমাণ ছিল ২২ শতাংশ। কিন্তু ২০০৭ সালের পর যারা স্নাতক করেছে তাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেড়েছে।
ওএনএস জানাচ্ছে, বর্তমানে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ না পেয়ে কম যোগ্যতার কাজ বেছে নেয়া মানুষের সংখ্যা ৩৪ শতাংশ।
ব্রিটেনের মধ্যে লন্ডনেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় 'অতি-শিক্ষিত' কর্মীরা কাজ করছে। জানা যাচ্ছে, লন্ডনে কাজের তুলনায় 'অতিযোগ্যদের' পরিসংখ্যান ২৫ শতাংশ।
মানবিক ও কলা বিভাগ থেকে স্নাতক পাশ করাদের মধ্যে নিজেদের অর্জিত ডিগ্রীর চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতার কাজ করার প্রবণতা বেশি।
ওএনএস জানাচ্ছে, সাধারণত ২৫-৪৯ বছর বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যেই ওভার এডুকেশান বা 'অতি-শিক্ষিত' হবার হার বেশি।
যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে 'অতি-শিক্ষিত' হবার বাস্তবতাটি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। ফলে এটিকে এখন একটি দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০০৬ সাল থেকে ব্রিটেনের সমন্বিত কর্মীদের মধ্যে অতি শিক্ষিত কর্মীর পরিমাণ শতকরা ১৬ ভাগ। ২০১৭ সালেও পরিসংখ্যান একই আছে।
ওএনএস বলছে, সকল কিছুর চেয়ে অর্থোপার্জনের উপরে বেশি গুরুত্ব দেয়ার কারণেই হয়তো অর্জিত ডিগ্রীর চেয়েও কম যোগ্যতার কাজের প্রতি মানুষ আগ্রহী হচ্ছে।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
ওএনএস বলছে, প্রথাগত বিদ্যার্জনের বিষয়টিকেই যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে ধরে নেয়া এবং শিক্ষা ও 'দক্ষতা'র মধ্য ফারাক করতে না পারাও হয়তো একটি কারণ।
অবশ্য দরকারের চেয়ে বেশি পড়ালেখা জানা ব্যক্তিকে কাজে নিলে উৎপাদনে বা অফিসের কাজে কোনো প্রভাব পড়ে কিনা এই নিয়ে এখনো কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন হতে পারে ওভারএডুকেশান বা 'অতি-শিক্ষা' বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে?
ওএনএস বলছে, কোনো একটি কাজের জন্য যে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে কোনো ব্যক্তির যদি এর চেয়ে বেশি ডিগ্রি থাকে তবে সেটিকেই অতিশিক্ষা বলে বোঝানো হচ্ছে।
কোনো কর্মীর দক্ষতা ও জ্ঞানকে যখন কোথাও সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয় না তখন সেটি বোঝাতেও অতিশিক্ষা শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
যাই হোক, এ মাসের শুরুর দিকেই সরকারী উপাত্ত থেকে জানা গেছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি হলে অর্থ-কড়ি উপার্জনের সুযোগ বাড়তে পারে।
উপাত্ত থেকে আরো জানা গেছে, ৩০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শুধু স্নাতক তাদের তুলনায় মাস্টার্স করা ব্যক্তিদের আয় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
কেস স্টাডি: এলিজাবেথ
ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে সম্প্রতি অনার্স পাশ করেছে এলিজাবেথ। কিন্তু সে তার অর্জিত ডিগ্রির মানের সমান কোনো কাজ বা চাকুরী খুঁজে পায়নি। তাই, স্বল্প পারিশ্রমিকের একটি কাজ সে বেছে নিয়েছে।
এলিজাবেথ বলছিলেন, যে বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন সেটি পছন্দ করার কারণে এখন তার অনুশোচনা হয়।
তিনি বলছিলেন, "এতদিনে আমি হয়তো অনেক কিছুই হতে পারতাম। মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমার একটা ডিগ্রী আছে আবার আমি ভাষাটাও বলতে পারি তাহলে আমি কিচেন পোর্টার [রেস্টুরেন্টে থালা-বাসন ধোয়া ও খাবার দেয়ার কাজ] হিসেবে কাজ করি কেন? এটা সত্যিই দুঃখজনক যে, যারা আমার চেয়ে কমযোগ্যতা সম্পন্ন তারা আমার চেয়ে ক্যারিয়ারের দিকে এগিয়ে রয়েছে।"








