দাবদাহের কারণে বাংলাদেশে প্রচণ্ড গরম, কী বলছে আবহাওয়া পূর্বাভাস?

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে দাবদাহ, যাতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর বলছে, এই গরম থাকবে আরো অন্তত দুই দিন।
আবহাওয়াবিদ মোঃ আফতাবউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ''গত কয়েকদিনের মতো আজও গরম তাপমাত্রা অব্যাহত থাকবে। এমনটা চলতে পারে আরো দুইদিন চলতে পারে। তবে দেশের অনেক স্থানে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।''
চৈত্র, বৈশাখ মাসে এরকম দাবদাহ নিয়মিত ঘটনা বলে তিনি উল্লেখ করেন। একে মাঝারি মাত্রার দাবদাহ বলে উল্লেখ করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'ফণি' এখন মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১,৭২৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। সেটি ভারতের দিকে যাবে বলেই ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে ঝড়টি আরো এগিয়ে এলে তার প্রভাবে বাংলাদেশেও বৃষ্টিপাত হতে পারে, কিন্তু সেজন্য আরো কয়েকদিন সময় লাগবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে খুলনায় ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বনিম্ন ছিল সিলেটে ৩১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ ছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবে আর্দ্রতার কারণে আজ এই তাপমাত্রা আরো বেশি অনুভূত হতে পারে।
আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর
আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাসে বলেছে, ঢাকায় আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সর্বোচ্চ উঠতে পারে ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনিম্ন হতে পারে ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঢাকা শহরে বৃষ্টিপাতের কোন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোন কোন এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রচণ্ড গরম নিয়ে অনেকে ফেসবুক পাতায় মন্তব্য করেছেন।

সাইফুল্লাহ বিন তৈয়ব বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, প্রতিদিন ঘরের মেঝেতে বরফ ছিটিয়ে দিতে হচ্ছে আর ঘুমাতে হচ্ছে ৩/৪ ঘণ্টা ঘুমাতে হচ্ছে।
এ এইচ প্রিন্স লিখেছেন, গরম যেমন বেড়েছে, ঠিক একই ভাবে বিদ্যুৎ কোথায় যেন হারিয়ে গেল।
মোতাহার ইসলাম লিখেছেন, গরমে তো চামড়া ঝলসে যায়!

ছবির উৎস, Getty Images
গরমের সময় সতর্কতা
প্রচণ্ড গরমের অসুস্থতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসক ডা. বেনজীর আহমেদ বলছেন, গরমের সময় শুধুমাত্র সতর্ক থেকে অনেক বিপদ এড়ানোর যেতে পারে।
তিনি এজন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
- সূর্যের আলো এড়িয়ে চলা
- ছাতা ব্যবহার
- বেশি করে পানি পান করা
- সূতির কাপড় পরা
- সঠিক জুতা নির্বাচন
- ভারী ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা
- পুরনো বা বাসী খাবার না খাওয়া
- ঘরে পানি ভর্তি বালতি রাখা
- প্রতিদিন অবশ্যই গোসল করা
- হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা









