আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
গণফোরামের নির্বাচিত প্রার্থী মোকাব্বির খান ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সংসদে গেলে কী প্রভাব পড়বে ঐক্যফ্রন্টে?
- Author, সায়েদুল ইসলাম
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিরোধী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম দল, গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুইজন প্রার্থী, সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
আগামী ৭ই মার্চ শপথ গ্রহণ করতে চেয়ে তারা স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন, যদিও তাদের দল বা জোট এখনো সংসদে যাওয়ার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তাদের এই সিদ্ধান্ত কি প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে যাচ্ছে?
গণফোরামের প্রতীক নিয়ে আর বিএনপির সমর্থনে সিলেট-২ আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন স্থানীয় রাজনীতিতে অনেকটা অপরিচিত মুখ মোকাব্বির খান।
যদিও ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি আর অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার দল বা জোট, কিন্তু যুক্তরাজ্যে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মি. খান বলছেন, জনগণের সেবা করার জন্যই তিনি সংসদে যেতে চান।
তিনি বলছেন, সংসদে শপথ পড়ানোর ব্যাপারে আগ্রহের কথা জানিয়ে আমি স্পিকারকে চিঠি দিয়েছি। তিনি সময় দিলে সে অনুযায়ী শপথ নেবো।
তবে তার এই সিদ্ধান্ত দলের সিদ্ধান্তের পুরোপুরি বাইরে নয় বলে তিনি দাবি করছেন।
''এর আগে দলের যেসব বৈঠক হয়েছে, তাতে কয়েকজন বাদে বেশিরভাগ নেতাই সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। সুতরাং আমার সংসদের যাওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারটি পুরোপুরি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে বলা যাবে না।''
কিন্তু তিনি স্বীকার করেন, তার এই সিদ্ধান্ত তিনি এখনো সরাসরি দলকে জানাননি।
আরো পড়ুন:
একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন গণফোরামের আরেক বিজয়ী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর যদিও তিনি শপথ নেয়ার আগে আর বেশি কথা বলতে চান না।
তিনি বলছেন, ''আগামী ৭ই মার্চ শপথ নিতে চেয়ে আমি স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছি। শপথের আগে আর কিছু বলতে চাই না।''
তবে আইনকানুন দেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
সুলতান মনসুর আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের কিছু আগে গণফোরামে যোগ দেন।
তবে স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানালেও, তারা এখনো তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানাননি নিজের দলকেই।
কিন্তু তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে দল কি সিদ্ধান্ত নেবে? সেটি এখনো জানাতে পারছেন না গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
তিনি বলছেন, ''এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের দলের বৈঠকে আলোচনা হবে। সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তারা এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে আমরা জানতে পেরে বিষয়টি সভায় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।''
''প্রথমত তাদের কাছে তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হবে। এরপরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।''
ডিসেম্বরের নির্বাচনে গণফোরামের দুইটি আর বিএনপির ছয়টি সহ বিরোধী জোটের মোট আসন রয়েছে আটটি। নির্বাচনে অনিয়মের প্রশ্ন তুলে সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলেও, এ নিয়ে বিভিন্ন সময় দলগুলোর ভেতরেই ভিন্নমতও দেখা গেছে।
দলের একটি অংশ যেমন পুরোপুরি সংসদ বর্জনের পক্ষে, আরেকটি অংশ নিজেদের বক্তব্য প্রকাশের জন্য সংসদে যেতে চান।
আইন অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার দিন থেকে পরবর্তী তিনমাসের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে হবে।
কিন্তু এককভাবে দুইজন বিজয়ীর সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ জোটের বড় দল বিএনপি।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, ''আমার নিশ্চয়ই ইতিবাচকভাবে এটা দেখছি না। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের সব দলের সিদ্ধান্ত হচ্ছে সংসদে না যাওয়া। সেখানে সেই সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে পার্লামেন্টে যোগ দেয়া, নিশ্চয়ই এটা একটা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটাই সমীচীন বলে আমি মনে করি।''
''কিন্তু গণফোরাম কি করবে এখনো জানি না। আমরা বিষয়টি অবশ্যই দেখবো যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা।''
এতে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা উৎসাহিত হতে পারে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী জানান, এখনো সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আছে। অন্য কোন সিদ্ধান্ত যদি হয়, সেটাও তো একসঙ্গেই হবে।
এ বিষয়ে আলোচনা করতে রবিবার রাতে জরুরি স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে দলটি।
গণফোরামের দুই বিজয়ী বলছে, তারা আইনি সব দিক খতিয়ে দেখেই সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কিন্তু দলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর, দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে সংবিধান কি বলছে?
সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলছেন, এই বিষয়টি একটু আলাদা, যেটা সংবিধানে পরিষ্কার করা নেই।
তিনি বলছেন, ''আমাদের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদে দুইটি পরিস্থিতির কথা বলা আছে। কোন সংসদ সদস্য যদি দল থেকে পদত্যাগ করে অথবা তিনি যদি সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারাবেন। এখানে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শপথ নেয়ার ব্যাপারে কিছু বলা নেই। বর্তমান অবস্থা ওই দুই অবস্থার কোনটার মধ্যে পড়ে না।''
''এখন যে পরিস্থিতি হচ্ছে, তাদের সংসদ সদস্যপদ থাকবে কি থাকবে না, অর্থাৎ তাদের শপথ নেয়ার কারণে ৭০ অনুচ্ছেদ ভঙ্গ হয়েছে কি হয়নি, আমার ধারণা এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হবে। তখন হাইকোর্টে ব্যাখ্যা এবং রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে,'' বলেন মি: মালিক।
তবে বিএনপি, গণফোরাম বা অন্য দলগুলোর নেতারা দাবি করছেন, দুইজন বিজয়ী সদস্য ফ্রন্টকে পাশ কাটিয়ে সংসদে গেলেও, সেটি তাদের জোটের ওপর কোন প্রভাব ফেলবে না।