আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
খুলনায় পুলিশ লাইনের কাছে ভিক্ষা করার সময় নারীর বুকে হঠাৎ গুলি ও তারপর
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা খুলনার ফুলবাড়ি এলাকায় মসজিদের সামনে হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক নারী। কিন্তু তাকে গুলি করলো কে বা এ গুলি এলো কোথা থেকে?
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা খুলনার ফুলবাড়িতে পুলিশ লাইনের পাশের একটি মসজিদের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।
গুলিবিদ্ধ নারীর নাম মমতাজ বেগম, যদিও তিনি এখনো জানেননা যে কে তাকে গুলি করেছে বা তার শরীরে কিভাবে কোন দিক থেকে এসে এটি বিদ্ধ হলো।
তার ছেলে শেখ জুয়েল হোসেনের দাবি পুলিশ লাইনের পাশে মসজিদের কাছে একটি হোটেলে নাস্তা করে বের হবার সময় তার মা গুলিবিদ্ধ হন।
তবে খান জাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন ঘটনার সময় ওই নারী মসজিদের সামনে ভিক্ষা করছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানিয়েছেন যে গুলিটি পুলিশ লাইনের দিক থেকে আসে। এরপর ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন ৪৮ বছর বয়সী ওই নারী। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
ঘটনা ৩০শে নভেম্বর
মমতাজ বেগমের ছেলে শেখ জুয়েল হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানান, যশোর-হাইওয়ে রোড সংলগ্ন (আর আর এফ) পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার এলাকায় মসজিদের কাছে হোটেলে নাস্তা করছিলেন তার মা মমতাজ বেগম।
"নাস্তা করে হোটেল থেকে বের হবার সময় হঠাৎ তিনি পড়ে যান ও বুকে রক্ত দেখা যায়। পরে লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান যে তার বুকে গুলি লেগেছে"।
মিস্টার হোসেন ডাক্তারদের বরাত দিয়ে বলেন বুলেটটি পেটের বাম পাশে এবং সেটি অপারেশন করে সরাতে হবে। কিন্তু এখনো সেটি করা হয়নি।
এরইমধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেয়া হয়েছে।
ঘটনার দিন ঢাকায় চাকুরির ইন্টারভিউ দিতে এসেছিলেন মিস্টার জুয়েল। কিন্তু সেটি অসমাপ্ত রেখেই বাড়িতে ফিরতে হয় তাঁকে।
ঘটনার পর হাসপাতালে মমতাজ বেগমকে দেখতে যান খুলনার খান জাহান আলি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কয়েকজন। সেসময় তাকে পর্যাপ্ত সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও পরে সেটি তারা পুলিশের কাছ থেকে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন শেখ জুয়েল।
পুলিশ কী বলছে?
খানা জাহান আলি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন ওই নারী মসজিদের সামনে ভিক্ষার জন্য আরও ভিক্ষুকের সাথে অবস্থান করছিলো।
"নামাজ শেষে ভিক্ষা পাওয়ার আশায় সেখানে বসেছিলেন তিনি। হঠাৎ বুকে ব্যথা পেয়ে পড়ে গেলে অন্য ভিক্ষুকসহ স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নেন। এরপর জানা যায় যে তার শরীরে গুলি লেগেছে"।
মিস্টার ইসলাম বলেন খবর পেয়ে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটে গিয়েছেন এবং ওই নারীর সাথে কথা বলেছেন।
"চিকিৎসকরা বলছেন গুলিটি না বের করলেও সমস্যা হবেনা কারণ সেটি পেটে ঢোকেনি। তার কোনো ক্ষতি হবেনা। তবে আমরা তাদের বলেছি যে গুলি বের করতে। তবে এজন্য যেই মেশিন দরকার সেটি নষ্ট থাকায় তারা সেটি পারছেনা। মেশিনটি ঠিক হলেই আবার তাকে হাসপাতালে এনে গুলি বের করা হবে"।
গুলিটি এলো কোথা থেকে ?
পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলছেন গুলি এসেছে কোথা থেকে তা তারাও এখনো নিশ্চিত নন।
"তবে পাশেই পুলিশ লাইনে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ফায়ারিং চলছিলো। সেখান থেকে এসেছে কি-না সেটি তদন্ত শেষ হলে বলা যাবে"।
যদিও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তানিম হাসান বলছেন পুলিশ লাইনের দিক থেকেই এসেছিলো গুলিটি।
তার মতে সে কারণেই পরে পুলিশ কর্মকর্তারা অনেকেই হাসপাতালে গেছেন ও ওই নারীর সাথে কথাও বলেছেন।