শোকরানা মাহফিল নিয়ে মাওলানা মাসউদ: 'রাজনৈতিক বার্তা নয়, শুকরিয়া জানাতে সমাবেশ'

কওমি মাদ্রাসা

ছবির উৎস, ALLISON JOYCE

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের করে আইন পাস হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের নেতা আহমদ শফীর সভাপতিত্বে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের সমাবেশ হয়েছে সকালে।

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতির জন্য এই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

আয়োজকরা এই সমাবেশকে 'শোকরানা মাহফিল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সারাদেশ থেকে কওমী মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। এ সংবর্ধনা দিয়েছে কওমী মাদ্রাসাগুলোর একটি সংগঠন হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতুল কাওমিয়া বাংলাদেশ।

আজ এই সমাবেশের জন্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএস সি) পরীক্ষার তারিখ পাল্টানো হয়েছে।

নির্বাচনের আগে এই সমাবেশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।

তবে এই সমাবেশের অন্যতম একজন উদ্যোক্তা মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ বলছেন, কোন রাজনৈতিক বার্তা দেয়া এ সমাবেশের উদ্দেশ্য নয়।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফরিদউদ্দীন মাসউদ বলেন, এর মধ্যে কেউ রাজনৈতিক বার্তা দেখতেই পারেন - তবে তা এ সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য নয়।

তার কথায়, কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই এ সমাবেশ।

"এ সমাবেশের সাধারণ বার্তাটা এটাই যে প্রধানমন্ত্রী আলেমদের সাথে, মুসলমানদের সাথে - যে ওয়াদা করেছিলেন, সেই ওয়াদা তিনি রক্ষা করেছেন, বাস্তবায়ন করেছেন।"

"তাই তার ওপর আস্থা রাখা যায় যে ভবিষ্যতেও তার ওয়াদার বাস্তবায়ন তিনি করবেন" - বলেন মি. মাসউদ।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ভিডিওর ক্যাপশান, কীভাবে পরিচালিত হয় কওমী মাদ্রাসা?

স্বীকৃতি তো অনেক আগেই, এখন সংবর্ধনা কেন?

এর অন্যতম উদ্যোক্তা মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের কাছে বিবিসি বাংলার সাইয়েদা আক্তার জানতে চেয়েছিলেন, দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের সমমানের স্বীকৃতি তো অনেক আগেই দেয়া হয়েছে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীকে এখন কেন সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে?

কওমী মাদ্রাসা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কওমী মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পায়।

জবাবে তিনি বলেন, কওমী মাদ্রাসার একটা বিরাট অংশের জন্য এটা ছিল দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। তারা দীর্ঘদিন এ স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। নজিরবিহীনভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ স্বীকৃতি দিয়েছেন সেজন্যই তাকে এ কৃতজ্ঞতা । "হাদিসে আছে যে মানুষের প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করে না সে আল্লাহরও শুকরিয়া জ্ঞাপন করে না। এজন্য এ অনুষ্ঠানের নামকরণ হয়েছে শোকরানা মাহফিল।"

বার্তা: 'ব্যক্তি শেখ হাসিনার ওপর আস্থা'

নির্বাচনের আগে ১০ লাখ লোকের এত বড় সমাবেশ করে তারা কি কোন বার্তা দিতে চাইছেন?

এ প্রশ্নের জবাবে মি. মাসউদ বলেন, আলেমদের এত বড় জমায়েত তো দেশবাসীকে বার্তা দেবেই - এটা তো স্বাভাবিক।

সেই বার্তাটা কি তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সেটা হলো ব্যক্তি শেখ হাসিনার ওপর আস্থা। যে তিনি যা ওয়াদা করেন তা রক্ষা করেন।

কওমী মাদ্রাসা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০১৫ সালের এক জরিপে দেখা যায় কওমী মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লক্ষের কাছাকাছি।

তাহলে কি তারা আওয়ামী লীগের প্রতি এক ধরণের সমর্থন জ্ঞাপন করবেন এ সমাবেশে?

জবাবে মাওলানা ফরীদউদ্দীন মাসউদ বলেন, এটা পার্টি বা রাজনীতির হিসেবে সমর্থন নয়, সেটা হলো ব্যক্তি শেখ হাসিনার ওপর আস্থা। যে তিনি যা ওয়াদা করেন তা রক্ষা করেন।

এত বিশাল সংখ্যক মানুষের একটি সমাবেশ সরকার হতে দিচ্ছে যা অনেক রাজনৈতিক দলকেই দেয়া হয়নি, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতার একটি বার্তা লোকে পাবে। এর অর্থ কি এই যে নির্বাচন পর্যন্ত এ ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘায়িত হবে?

কওমী মাদ্রাসা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসার সংখ্যা ১৩ হাজারেরও বেশি।

এ প্রশ্নের জবাবে মি. মাসউদ বলেন, এটা মৌলিকভাবে কোন রাজনৈতিক সভা নয়, রাজনৈতিক মঞ্চের পক্ষ থেকে এ সভা করা হচ্ছে না। সুতরাং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকে কি কারণে প্রশাসন অনুমতি দেয়নি বা দিয়েছে- সেটা এখানে ভিন্ন কথা। কারণ এটা একটা ধর্মীয় সমাবেশ - স্বাভাবিক ভাবেই এর অনুমোদন হতেই পারে। কোন রাজনৈতিক স্বার্থের সাথে এটাকে সংশ্লিষ্ট করাটা মনে হয় ঠিক হবে না।

তবে তিনি বলেন, "মানুষ যেহেতু সামাজিক জীব, রাজনীতি তার জীবনের অঙ্গ - তাই কেউ হয়তো রাজনৈতিক বার্তা পেতেও পারে। কিন্তু এটা তার উদ্দেশ্য নয়।"

নির্বাচনের আগে ধর্মপ্রাণ মানুষের ভোট আকর্ষণের ক্ষেত্রে এ সমাবেশ কি একটা ভুমিকা রাখবে?

"এটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নয়, জনগণ হয়তো এরকম ইঙ্গিত পেতেও পারে। কিন্তু এটা এই সমাবেশের উদ্দেশ্য নয়।"

আরো পড়ুন: