উত্তর কোরিয়ার পরমানু কর্মসূচি: সিঙ্গাপুরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কিম জং আনের বৈঠকের পর কী হয়েছে

ছবির উৎস, AFP
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তাদের দেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে তারা কিছুতেই তাদের পারমানবিক অস্ত্র ধ্বংস করবেন না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইওং-হো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনাস্থা আরো গভীর হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া বারবারই জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানিয়ে আসছে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য।
দেশটির পরমাণু কর্মসূচির প্রতি সমর্থন রয়েছে চীন ও রাশিয়ার।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পরমানু অস্ত্র ধ্বংস না করা পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার ওপর তাদের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের একদিন পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-আনের সাথে তার সম্পর্কের ওপর নতুন করে আলোকপাত করেছেন।
মি. ট্রাম্প বলেছেন, তারা দু'জন দু'জনের প্রেমে পড়েছেন।
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতে রিপাবলিকান দলের নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, মি. কিম তাকে সুন্দর সুন্দর চিঠি লিখেছেন এবং তারপর থেকেই তারা প্রেমে পড়ে গেছেন।
তিনি এও বলছেন যে, তার সমালোচকরা তাদের নতুন এই সম্পর্কের সমালোচনা করতেও ছাড়বে না। "তারা এখন বলবে যে এই সম্পর্ক বীভৎস এবং প্রেসিডেন্টসুলভ নয়," বলেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধ লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। কিন্তু তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে সেটা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি এও দাবি করেছেন যে উত্তর কোরিয়া এখন তাদের পরমানু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মি কিমের মধ্যে গত জুন মাসে সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে মি. কিম তার পরমাণু কর্মসূচি পরিহারের অঙ্গীকার করেছিলেন।
কিন্তু তারপরে এবিষয়ে কতোটুকু অগ্রগতি হয়েছে সেটা এখনও খুব একটা পরিষ্কার নয়।

ছবির উৎস, Reuters
সিঙ্গাপুরের বৈঠকের পর কী হয়েছে?
সিঙ্গাপুরের ওই বৈঠকে উত্তর কোরিয়াকে পরমানু অস্ত্রমুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেজন্যে কোন সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
কীভাবে পরমানুমুক্ত করা হবে তারও বিস্তারিত কোন বিবরণ নেই। কে বা কারা এই প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখবে সেবিষয়েও কিছু বলা হয়নি।
বৈঠকের পর গত অগাস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ট মিত্র চীন এই প্রক্রিয়াকে খাটো করার চেষ্টা করছে।
চীনের সাথে বাণিজ্যিক বিরোধের জেরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেইজিং-এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছিলেন।
আরো পড়তে পারেন:
সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন তার দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে তিনদিনের এক সফরে উত্তর কোরিয়া গিয়েছিলেন।
গত এক দশকে দক্ষিণের কোন নেতার উত্তর কোরিয়ার রাজধানীতে এটাই ছিল প্রথম সফর।
সফরের পর মি. মুন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান কিম যে তার অঙ্গীকার পূরণের ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সেটা তিনি নিশ্চিত। এছাড়াও মি. কিম তাকে জানিয়েছেন যে তিনি আবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করতে আগ্রহী।
মি. কিম আরো অঙ্গীকার করেছেন যে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের স্থান তিনি ধ্বংস করে দেবেন। তিনি আরো বলেছেন, আমেরিকা যদি একই ধরনের কিছু পদক্ষেপ নেয়, তিনি তখন পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার প্রধান স্থানটিকেও ধ্বংস করে দিতে প্রস্তুত।
মি. ট্রাম্পও বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে মি. কিমের সাথে তার দ্বিতীয় বৈঠকটি হতে যাচ্ছে বলে তিনিও আশা করছেন।









