গোপনে হজ পালন করেন যেসব মুসলিম

আহমদিয়া মুসলিমদের সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি নেই
ছবির ক্যাপশান, আহমদিয়া মুসলিমদের সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি নেই

সৌদি আরবের মক্কায় প্রতিবছরই হজ পালন করেন মুসলিমরা আর সব প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমই আশা করেন যে তিনি জীবনে অন্তত একবার হজ্ব পালন করবেন।

আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুসারীরা নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে দাবী করলেও মুসলিমদেরই অনেক দল কিংবা উপদল তাদেরকে মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

এমনকি ধর্ম বিশ্বাসের কারণে সৌদি আরবে তাদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের কেউ সেখানে হজ পালন করতে গেলে তাকে আটক কিংবা দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

এর মধ্যেও গোপনে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের অনেকে হজ পালন করে থাকেন। তাদেরই একজনের সাথে কথা বলেছেন বিবিসি সংবাদদাতা।

তিনি বলেছেন, "অনেক ঝুঁকি ছিলো। কিন্তু যখন আপনি যাচ্ছেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তখন আপনিও আল্লাহর সহায়তা পাবেন কারণ তিনি জানেন আমি একজন মুসলিম। তাই আল্লাহর সমর্থন আমি পাবো।"

সারা পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলমান প্রতি বছর হজ করতে সৌদি আরবে যান।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সারা পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলমান প্রতি বছর হজ করতে সৌদি আরবে যান।

মুসলিমদের মধ্যেই একটি অংশ হলো এই আহমদিয়া সম্প্রদায়। ইসলামের নবী মুহাম্মদই সর্বশেষ নবী- এটি তাদের বিশ্বাস নয়।

তাদের বিশ্বাস যে ১৮৩৫ সালে ভারতে জন্মগ্রহণ করা মির্জা গুলাম আহমদ পৃথিবীতে এসেছিলেন নবীর শিক্ষা পুনর্জাগরণের জন্যই।

ফলে ইসলামের অন্য দল উপদলগুলো আহমদিয়াদের অমুসলিম মনে করে।

বিশেষ করে পাকিস্তানে, যেখানে ১৯৭৪ সালে আহমদিয়াদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে আইন করা হয়।

পাকিস্তানে আহমদিয়াদের ধর্ম বিশ্বাসের বিষয়টি তাদের পাসপোর্টে উল্লেখ করা হয় আর সেকারণে সৌদি আরব তাদেরকে সেদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয় না।

কিন্তু যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে বা অন্য দেশের নাগরিক যারা তারা তাদের ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে সৌদি আরবে যেতে পারেন।

ম্যানচেস্টারের দারুল আমান মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ আহমেদ খুরশেদ
ছবির ক্যাপশান, ম্যানচেস্টারের দারুল আমান মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ আহমেদ খুরশেদ

ম্যানচেস্টারের দারুল আমান মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ আহমেদ খুরশেদ বলছেন, "কিছু দেশ ও গ্রুপ আমাদের অ-মুসলিম ঘোষণা করেছে। এটি নিতান্তই তাদের মত। আর একারণেই আহমদিয়াদের জন্য হজ পালন কঠিন। এ কারণেই ভ্রমণের সময় তারা বিষয়টি গোপন রাখে।"

ম্যানচেস্টারের এই মসজিদে আসেন এমন অনেকেই একজনকে চেনেন যিনি হজ পালন করেছেন।

একজন নারী বলেন, "আমি কখনো হজে যাইনি কিন্তু আমি যেতে চাই এবং এটি আমার অন্তরের আকাঙ্ক্ষা। কারণ আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি।"

একজন পুরুষ বলছিলেন, যখন তাদেরই বাধা দেয়া হয় তখনই তাদের মধ্যে হজে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্রতর হয়।

এটাকেই তিনি উল্লেখ করেন ধর্মীয় চেতনা ও ধর্মের প্রতি অনুরাগ হিসেবে।