নিরাপদ সড়ক: ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোন পরিবর্তন এসেছে?

    • Author, সানজানা চৌধুরী
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন এবং একে ঘিরে গত কয়েকদিনের সংঘাত সহিংসতার পর ঢাকার পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছে।

সপ্তাহের কর্মদিবস হলেও মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। সড়কে বাস না থাকলেও অন্যান্য যানবাহন ছিল আগের মতোই।

রাস্তায় যে সীমিত সংখ্যক যানবাহন রয়েছে তার বেশিরভাগকে দেখা যায় সতর্ক অবস্থায় চলাচল করতে।

কারণ চলমান ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে নগরীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ছিল পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যের পাশাপাশি আনসার এবং রোভার স্কাউটসের সদস্যরা।

সবাই যেন ট্রাফিক আইন মেনে চলে এবং সড়কে কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যেই চলছে তাদের কার্যক্রম।

মহাখালীর পুলিশ বক্সের কাছে চোখে পড়ে ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য কিছু দূর পর পর দাঁড়িয়ে মোটরবাইক ও গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

অন্যদিকে রাস্তা পার হতে পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারসহ ট্রাফিক নিয়মের ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে দেখা যায় রোভার স্কাউটসের সদস্যদের।

ট্রাফিক সপ্তাহের কার্যক্রম সফল করতে পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ি মাঠে নামার কথা জানান সিনিয়র রোভার স্কাউট ফারজানা আক্তার ঝর্ণা। তিনি বলেন,

"আমরা মানুষকে বলছি তারা যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার না হন। যেন ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করেন। আমরা মানুষকে সচেতন করছি, কেন এই সচেতনতা প্রয়োজন সে বিষয়ে তাদের বুঝিয়ে বলছি।"

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন, ট্রাফিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করে পুলিশ।

তবে আদৌ কতোটা আইন মানছে মানুষ? সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ সিএনজি অটোরিক্সা চালকের লাইসেন্স থাকলেও যে গুটিকয়েক বাস চলছে সেগুলোর বেশিরভাগের নেই কোন বৈধ কাগজপত্র।

বিশেষ করে সরকারি স্টাফবাসগুলো চলছে কোন নিয়মনীতি না মেনেই। এরইমধ্যে পাঁচজন বাস চালককে বনানী থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান মহাখালি থানার সাব ইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেন।

তবে পুলিশের নজরদারি বেশি ছিল মোটর বাইকের কাগজপত্র পরীক্ষা নীরিক্ষা নিয়ে। এরমধ্যে এক ব্যক্তিকে পাওয়া যায় যিনি নিজেকে পুলিশ সদস্যের মিথ্যা পরিচয়ে লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালিয়ে আসছেন।

এ ধরণের ঘটনায় কাউকে কোন ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান সাব ইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেন।

আদতে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন দেখছেন না বলে জানান বাসের জন্য অপেক্ষারত চাকুরিজীবী সাহানা আক্তার।

তিনি বলেন, "রাস্তায় দেখছি পুলিশ বাইকগুলোকে দাঁড় করিয়ে কাগজপত্র দেখছে। এই জন্য কিছুটা নিয়ম হয়তো কেউ কেউ মানছেন। তবে বাসগুলো ওই আগের মতো রাস্তার মাঝখান থেকেই লোক তুলছে। ইচ্ছামতো চলছে।"

এদিকে কাকলি থেকে শুরু করে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত চেকপোস্ট চোখে পড়ে।

প্রত্যেকটি চেকপোস্টেই ছিল পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য। এছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং আনসার সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়।

মূলত বেআইনীভাবে চলাচলরত যান ও চালকের নামে মামলা ও জরিমানা দায়েরের কাজ করছেন তারা।

তবে চেকপোস্ট পার হয়ে পুলিশের চোখের আড়াল হতেই অনেক যানবাহনকে আগের মতোই এলোমেলোভাবে চলাচল করতে দেখা যায়।

আরও পড়তে পারেন:

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য নিয়ে মাঠে নামলেও এতো মানুষকে শৃঙ্খলায় আনা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, "যে সব গাড়ির লাইসেন্স, ফিটনেস, ইনস্যুরেন্স, রুট পারমিট বা চালকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই, মোটরসাইকেলে তিনজন ও হেলমেট ছাড়া যারা সড়কে নামেন, বা কোন আইন লঙ্ঘন করছেন তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনানুযায়ি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করছি। তবে সবাইকে হাতে ধরে ধরে আইন শেখানো সম্ভব না। এক্ষেত্রে নাগরিকদেরও সেটা মেনে চলার মানসিকতা থাকতে হবে।"

ট্রাফিক সপ্তাহের প্রথম দুই দিনে ঢাকার বিভিন্ন যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে প্রায় ১৭ হাজার মামলা হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে অন্তত ৯২ লাখ টাকা।

মামলা জরিমানার ভয় সেইসঙ্গে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন ঢাকাসহ সারাদেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ফেরাতে বিশেষ করে জন মানুষকে সচেতন করতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন মীর রেজাউল আলম।