কেন পাঁচ লাখেরও বেশী মানুষ ফ্রাইড চিকেন স্বাদ বিশেষজ্ঞ হতে চান?

দক্ষিণ কোরিয়ায় গত বছর ১১৯ জন এ পরীক্ষায় পাস করেছিলো। এবার এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ।

গত সপ্তাহান্তে পাঁচশ মানুষ সমবেত হয়েছিলো সউলের একটি হোটেলে। তারা এসেছেন একটি টেস্টে বা পরীক্ষায় অংশ নিতে। তাদের আশা ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ বিচারের যোগ্যতার আনুষ্ঠানিক সনদ পাবেন তারা।

এই ভাগ্যবান পাঁচশ জনও বেরিয়ে এসেছেন একটি শক্তিশালী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যেখানে প্রাথমিকভাবে তাদের প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে পাঁচ লাখ সত্তর হাজার জনের সাথে।

তাদের সনদ দেয়া হবে 'শিমেলিয়ার' হিসেবে। এটি আসলে চিকেন ও ওয়াইন বিশেষজ্ঞের সমন্বিত একটি নাম।

পরীক্ষা কেমন ছিলো?

একটি মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপার কোম্পানি এ পরীক্ষার আয়োজন করে। যেখান ৩০ নাম্বারের লিখিত প্রশ্ন, পাঁচটি লিসেনিং এসেসমেন্ট ও প্রাকটিক্যাল ছিলো ১০ নাম্বারের। যেমন ধরুন কাউকে হয়তো বলা হয়েছে যে -তেলে ভাজার শব্দ শুনে বলতে হবে যে কয়টি চিকেন উইংস ভাজা হয়েছে।

গত বছর ১১৯ জন এ সনদ জিতে নিয়েছিলেন।

বড় ব্যবসা, আরও বড় প্রতিযোগিতা

"ফ্রাইড চিকেন দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি বিশাল বিষয়," বলছিলেন বিবিসি কোরিয়ান সার্ভিসের কেভিন কিম।

"গরুর মাংস একটু ব্যয়বহুল। আর মোবাইল অ্যাপস ক্রমাগত বেড়ে যাওয়া ও ফুড ডেলিভারি ব্যবসার প্রসারের কারণে ফ্রাইড চিকেন হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক পছন্দের বিষয়ে"।

স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায় গত বছর চিকেন ফ্রাইডের প্রায় ৩৬ হাজার দোকানের হিসেব করা হয়েছে, যা সারা বিশ্বে ম্যাকডোনাল্ডসের মোট সংখ্যার সমান।

তাই বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়টিও সহজে অনুমানযোগ্য।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর জিন রিয়ু বলছেন সবচেয়ে বড় মোবাইল ফুড ডেলিভারি অ্যাপস বায়েডাল মিনজোক প্রতি মাসে গড়ে দু কোটি অর্ডার পায় যার ২০ থেকে ৩০ ভাগই থাকে ফ্রাইড চিকেনের।

কিন্তু কেন এই প্রতিযোগিতা?

কেন পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করলো?

জবাবে জিন রিয়ু বলেন, "আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারিনা কেন এতো মানুষ উৎসাহী হলো ও পরীক্ষায় অংশ নিলো"।

তবে এরপর একটি ভিন্ন ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

তার মতে, "এখন তরুণরা কিছুটা হতাশায় ভুগেন। আমাদের অভিভাবকদের প্রজন্ম সঞ্চয় করতে তাদের বেতন থেকে এবং শেষ পর্যন্ত একটি বাড়ি কিনতে পারতেন। এখন সবাই একটি ছোট বিষয়ের ওপর ফোকাস করে যাতে অনেক বেশি অর্জন করতে চায়"।

চিকেন নিয়ে সমস্যা

দক্ষিণ কোরিয়াতে ২০১১ সালের বিশ্ব অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে তারকা স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট বড় সমস্যায় পড়েছিলেন।

একশ মিটার দৌড়ে ফলস স্টার্টিংয়ের কারণে নাটকীয়ভাবে ডিসকোয়ালিফাইড হন তিনি।

অনেকেরই অনুমান এ ঘটনার জন্য দায়ী হোটেলের সরবরাহ করা ফ্রাইড চিকেন।

অর্থাৎ সেখানকার ফ্রাইড চিকেন এতো মজারই হয়েছিলো যে বোল্ট আর পারফর্ম করতে পারেননি।

ওই রেস্টুরেন্ট পুরো সপ্তাহ জুড়ে উসাইন বোল্টকে ফ্রি ফ্রাইড চিকেন দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলো।

ওদিকে আগামী সপ্তাহেই এবারের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম জানা যাবে বলে জানিয়েছে আয়োজন কর্তৃপক্ষ।