ভারতের ঔরঙ্গাবাদে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা: মৃত্যু ও অগ্নিসংযোগ

    • Author, অমিতাভ ভট্টশালী
    • Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা

ভারতের মহারাষ্ট্রে ঔরঙ্গাবাদ শহরে হিন্দু আর মুসলমানদের মধ্যে এক সংঘর্ষে দুজন মারা গেছেন। পুলিশ কর্মকর্তা সহ আহত হয়েছেন আরও অনেকে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪০টি দোকান আর দুই ডজন গাড়ি।

জলের বিল বাকি থাকায় শহরের নানা এলাকায় লাইন কেটে দিচ্ছিল কর্পোরেশন। কয়েকটি মুসলিম এলাকায় জলের লাইন কাটা নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হয় অশান্তি। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে।

ঔরঙ্গাবাদের কেন্দ্রস্থলে শাহগঞ্জ আর কাছাকাছি মোতি করঞ্জা, রাজা বাজার, নবাবপুরা, গান্ধীনগর - এই সব এলাকায় হিন্দু আর মুসলমানদের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যে থেকেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রায় সারা রাত দোকান আর গাড়িতে অগ্নিসংযোগ চালাতে থাকে দাঙ্গাকারীরা। সঙ্গে চলতে থাকে ব্যাপক পাথরবাজি।

পুলিশ কমিশনার মিলিন্দ ভারাম্বে বিবিসিকে বলছেন, সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তেই বাহিনী গিয়ে ওই সব অঞ্চলে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও প্লাস্টিক গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল রাতেই। তবে আজ শনিবার ভোর সাড়ে চারটে থেকে আবারও পাথর ছুঁড়তে শুরু করে একদল যুবক।

এই যুবকদের এখনও চিহ্নিত করা না গেলেও তারা বাইরে থেকেও এসে থাকতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:

যেভাবে দাঙ্গার সূত্রপাত

এই গোটা অশান্তির সূত্রপাত জলের সংযোগ নিয়ে। বিল বকেয়া থাকায় কর্পোরেশন থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলের লাইন কাটা হচ্ছিল।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কয়েকটি মুসলিমের বাড়িতেও জলের লাইন কাটা হয়।

গান্ধীনগর এলাকার দুই সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা জল ভরতে এলে তাদের মধ্যে বচসা, হাতাহাতি শুরু হয়।

সেটাই শেষমেশ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্থানীয় সূত্রগুলি বলছে, ওই এলাকাগুলিতে হিন্দু আর মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই থাকে। আর দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিলই।

পুলিশ এর আগেও হিন্দু আর মুসলিম - উভয় পক্ষের নেতাদের ডেকে বিরোধ মেটানোর পরামর্শ দিয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জলের লাইন কাটার পরে তা আগুনের ফুলকির কাজ করে।

শুরু হয়ে যায় পাথরবাজি আর অগ্নিসংযোগ। গুজবও রটতে থাকে সারা শহরেই।

গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মানুষজনের স্বাভাবিক চলাচলের ওপরে ১৪৪ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়েছে।

দাঙ্গা কবলিত এলাকায় টহল

পুলিশ কমিশনার বলছেন বাড়তি বাহিনী আনা হয়েছে। দাঙ্গা কবলিত এলাকাগুলিতে টহল চলছে।

সকালের পরে নতুন করে কোথাও অশান্তি ছড়ায় নি। তবে উত্তেজনা এখনও রয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলছেন, দাঙ্গায় যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের একজন হিন্দু, অন্যজন মুসলমান। একজনের বয়স ১৭, অন্যজনের ৬২।

পুলিশ বলছে, এদের মধ্যে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি একটি দোকানের ভেতরে ছিলেন রাতে। সেই দোকানে আগুন লাগার পরে তিনি আর বেরিয়ে আসতে পারেন নি।

অন্য ব্যক্তি একটি চায়ের দোকান চালান।

প্রাচীন অজন্তা-ইলোরা গুহামালার সবথেকে কাছের শহর এই ঔরঙ্গাবাদ।

শহরের কাছেই রয়েছে মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের সমাধিও।