নেপাল বিমান দুর্ঘটনা: 'পরিবার চায়নি একমাত্র সন্তান পাইলট হোক'

পৃথুলা রশীদ

ছবির উৎস, facebook

ছবির ক্যাপশান, পৃথুলা রশীদ

এটি ছিল কো-পাইলট হিসেবে পৃথুলা রশীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইটটিও ছিল কাঠমান্ডুতেই।

তার তরুণ জীবন সম্পর্কে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলছিলেন তার খালাতো বোন তাসমিন রহমান অমি।

তিনি বলছিলেন, পৃথুলার পাইলট হওয়া পরিবারের অনেকেই পছন্দ করেনি।

জীবনের শঙ্কা রয়েছে এমন একটা পেশায় যে তিনি যোগ দেবেন এটা অনেকেই মেনে নিতে পারেনি।

"ও জয়েন করার পর থেকেই আমরা এই ঝুঁকির বিষয়টা জানতাম। কিন্তু বেসিক্যালি, ও নিজে এই পেশায় যেতে চেয়েছিল," বলছিলেন মিস রহমান।

পৃথুলার মন ছিল খুবই অনুসন্ধিৎসু । নানা জিনিস সম্পর্কে তিনি জানতে চাইতেন।

ছেলে বেলায় তিনি একবার নিজের ওপর পরীক্ষা করে দেখতে গিয়েছিলেন যে মারা গেলে কেমন লাগে।

আরো দেখুন:

পোষা প্রাণীদের প্রতি তার ছিল মায়া।

ছবির উৎস, facebook

ছবির ক্যাপশান, পোষা প্রাণীদের প্রতি তার ছিল মায়া।

তার বাবা সে সময় বাসায় ছিলেন। তিনিই মেয়েকে বিপদের হাত থেকে বাঁচান।

'চড়ুইপাখি মরে গেলে ক'দিন খায়নি পৃথুলা'

তাসমিন রহমান অমি বলছিলেন, পৃথুলা রশীদ ছিলেন খুবই কোমল প্রাণের মানুষ। বাসায় খরগোশ, মাছ পুষতেন।

তিনি বলেন, রাস্তার কুকুরদের জন্য তার ছিল অসীম মায়া। একবার একটি কুকুরের শ্বাসকষ্ট দেখে বাবার ইনহেলার দিয়ে চিকিৎসা করেন।

একবার এক চড়ুই পাখি ডানা ভেঙে বাসায় এসে পড়েছিল। অনেক যত্ন নিয়ে তিনি সেই পাখির শুশ্রূষা করেন। কিন্তু পাখিটি শেষ পর্যন্ত বাঁচেনি। এই শোকে পৃথুলা দুই-তিন দিন ভাল করে খাওয়া দাওয়া করতে পারেননি কলে তিনি জানিয়েছেন।

"সে ছিল এমন এক মানুষ যার উপস্থিতি আপনার মনে ভাল করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট," বলছিলেন তিনি," আপনার মন খুব খারাপ, কিন্তু ও এমন একটা কিছু করবে, বা এমন একটা কিছু বলবে, যাতে আপনার একদম মন ভাল হয়ে যাবে।"

কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গত সোমবারই নিশ্চিত করে যে নিহতদের মধ্যে ইউএস-বাংলার ঐ ফ্লাইটের পাইলট পৃথুলা রশীদও রয়েছেন।

আরো পড়ুন: