নেপাল দুর্ঘটনা: বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান খাতকে প্রভাবিত করবে?

ছবির উৎস, BISHNU SAPKOTA
কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার ফ্লাইটে যে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটা বাংলাদেশে বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে ১৯৮৪ সালের পর এই প্রথম ।
বাংলাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে বিমান পরিচালনা খুব লাভজনক একটি খাত হিসেবে গড়ে উঠতে দেখা যায়নি।
এমনকি গত দুই দশকে বেশ কয়েকটি বিমান কোম্পানি চালু হলেও, আবার বন্ধও হয়ে গেছে তাদের বেশ কয়েকটাই।
এর মধ্যে ইউএস বাংলার ফ্লাইট বিধ্বস্ত হওয়ায় দেশের বেসরকারি বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলবে?
বাংলাদেশের একজন বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজি ওয়াহিদুল আলম বলছিলেন বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো গত ৪/৫ বছর ধরে গড়ে উঠেছে।
আরো পড়ুন:কীভাবে করা হয় বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত?
তিনি বলছিলেন "মোটামুটি একটা অবস্থা নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল তারা, তাদের শিডিউল মেইনটেইন, সেবার মান সব মিলিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছিল"।
"কিন্তু এই ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই একটা প্রভাব আসবে। মানুষের মনে ভীতি, আশঙ্কা কাজ করবে। এর ফলে সাময়িকভাবে একটা স্থবিরতা দেখা দিতে পারে" তবে সুদূর প্রসারী প্রভাব থাকবে বলে মনে করছেন না মি. আলম ।
কারণ হিসেবে তিনি বলছেন এয়ারলাইন্সগুলো অভ্যন্তরীণ রুটে ভালো নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এখন মানুষের প্রয়োজন এবং চাহিদার কারণে প্রভাবটা সুদূরপ্রসারী হবে না।
তবে এক্ষেত্রে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে বলে মনে করছেন এভিয়েশন এক্সপার্টরা।

ছবির উৎস, ছবির কপিরাইটPRAKASH MATHEMA
"ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টটা যদি ঠিকমত করতে পারে তাহলে আমি মনে করে যাত্রীদের আস্থার জায়গাটা ফিরে আসবে" বলছিলেন তিনি।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিমান দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। সেসব দেশে বিমান সংস্থা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ মিলে কতটা আন্তরিকতার সাথে এই দুর্ঘটনা মোকাবেলা করছে সেটার দিকে যাত্রীরা নজর রাখে।
সেসব ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে নেপালের দুর্ঘটনার 'ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট' করা যেতে পারে বলে তিনি মত দেন।
বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বিমানের ফিটনেস, নিরাপত্তা, পাইলটের দক্ষতা এবং সেবার মানদণ্ড এসব কিছু মনিটর করে থাকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
আগে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলের জন্য বাংলাদেশ বিমানের ওপরই নির্ভরশীল ছিলেন এ দেশের মানুষ।
১৯৯৬ সালে বেসরকারি খাতে প্রথম বিমান সংস্থা হিসেবে অ্যারো বেঙ্গল এয়ারলাইন্সের যাত্রা শুরু হয়।
এর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১২টি বিমান সংস্থা এলেও কেবল তিনটি টিকে আছে; এগুলো হলো, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার ও রিজেন্ট এয়ার।








