ভারতে স্বামীকে মারতে মারমুখী স্ত্রীর কাণ্ড

ছবির উৎস, Google
- Author, অমিতাভ ভট্টশালী
- Role, বিবিসি, কলকাতা
দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকের বাসিন্দা এক নারী তার স্বামীর ওপরে পর পর তিনবার গুলি চালিয়েছেন।
স্ত্রীর হাত থেকে বাঁচতে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি চলন্ত বাসে উঠে ওই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তার স্ত্রী গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে আবার ধরে ফেলেন তাকে।
পরে বাসের যাত্রীরা ওই নারীকে নিরস্ত্র করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
স্বামী গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ঘটনাটি ব্যাঙ্গালোরের।
শুক্রবার দুপুরে ৫৩ বছর বয়সী সাই রাম এম আর তার স্ত্রীকে নিয়ে তামিলনাডুর হোসুর থেকে ফিরছিলেন নিজেদের এস ইউ ভি চালিয়ে। পথে একটি রেস্তোরাঁয় তারা দুপুরের খাবার খান, সঙ্গে মদও পান করেন দু'জনে।
ব্যাঙ্গালোরের ডেপুটি পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট এম বি বোরালিঙ্গাইয়া বলেছেন, মদ্যপান এবং দুপুরের খাওয়ার সময় থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মেয়ের বিয়ে নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়।
তারপরে গাড়িতে ওঠেন দুজনেই। মি. সাই রামের স্ত্রী হামসা রাম গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।
ঝগড়া চলতেই থাকায় স্ত্রীর গালে একটা ঘুষি মারেন মি. সাই রাম।
হঠাৎই গাড়িতে রাখা একটি পিস্তল বার করে স্বামীর পেটে তিনটে গুলি চালিয়ে দেন মিসেস রাম।
মি. সাই রাম একটি বেসরকারি নিরাপত্তা এজেন্সির মালিক। তার গাড়িতে সবসময়েই যে একটি পিস্তল রাখা থাকে, সেটা সম্ভবত জানতেন তার স্ত্রী।
মারমুখী স্ত্রীর হাত থেকে বাঁচতে মি. সাই রাম একটি চলন্ত সরকারি বাসে লাফিয়ে উঠে পড়েন।
এবার শুরু হয় নাটকের দ্বিতীয় পর্ব।
ওই বাসটিকে নিজের এস ইউ ভি গাড়ি নিয়েই ধাওয়া করেন মিসেস রাম। ব্যাঙ্গালোর শহরের ঠিক বাইরে বাসটিকে ধরেও ফেলেন তিনি। বাসটিকে থামিয়ে সেটায় চড়ে আবারও পিস্তল উঁচিয়ে স্বামীকে গুলি করার চেষ্টা করেন।
তখনই অন্য যাত্রীরা ধরে ফেলেন মিসেস রামকে।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে মিসেস রাম তাদের জানিয়েছেন যে স্বামী তাকে মারার পরে আত্ম-রক্ষার্থে তিনি গুলি চালিয়েছেন।
আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন নারী পুলিশ অফিসারের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ এটাও খতিয়ে দেখছে যে ওই পিস্তলটির আদৌ লাইসেন্স ছিল কি না!








