আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

ইরানে ইসরায়েলের 'মিসাইল' হামলা

ইরানের ভূ-খণ্ডে ইসরায়েলি 'মিসাইল' আঘাত করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। ইসফাহান প্রদেশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে ইরান বলছে, দেশের বাইরে থেকে হামলার বিষয়ে তারা নিশ্চিত নয়।

সরাসরি কভারেজ

  1. এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে

    শুভ সন্ধ্যা!

    বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটা পেরিয়ে গেছে।

    ইরানে ইসরায়েলের হামলা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিবিসি বাংলা যা যা জানতে পেরেছে, সেগুলো একনজরে নিচে তুলে ধরা হলো।

    • একটি ইসরায়েলি মিসাইল ইরানে আঘাত হেনেছে, বিবিসি'র মার্কিন সহযোগী সিবিএস নিউজকে এমন তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দু'জন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
    • তেহরান থেকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো, কেন্দ্রীয় ইস্ফাহান প্রদেশে বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে। ইরানের বড় বিমান ঘাঁটিগুলোর একটি এখানে। তবে, হামলার দাবিকে একরকম খারিজই করছে তারা।
    • বিবিসি পারসিয়ানের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজে, ইস্ফাহানের রাতের আকাশে কমলা রঙের আলোর ঝলকানি দেখা যায়। যা দেখতে বিমান বিধ্বংসী কোনো গোলার বিস্ফোরণের বলে প্রতীয়মান হয়।
    • ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
    • ইতালির ক্যাপ্রিতে জি সেভেন নেতাদের এক বৈঠক শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন, এই হামলা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে অবহিত ছিল কিনা সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলায় "সম্পৃক্ত ছিল না"।
    • যুক্তরাজ্য, চীন ও মিসরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিবদমান পক্ষগুলোকে শান্ত থাকার তাগিদ দিয়েছে।
    • দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে সপ্তাহজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছিল। সিরিয়ায় ইরানের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা, যা ইসরায়েল করেছে বলেই অনেকের ধারণা এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ডে নজিরবিহীন হামলায় সেই টানাপোড়েন আরো গতি পায়।

    বিবিসি বাংলার লাইভ রিপোর্টিং এখানেই শেষ হচ্ছে। সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

    সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে।

    ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় সারাদিনের ঘটনাপ্রবাহ ক্রমানুসারে দেখতে পাবেন এই লাইভ পেজে।

  2. ইরানের হামলার বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়েই যাচ্ছেন ব্লিনকেন

    ব্লিনকেনকে আরো একবার ইরানে সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলো।

    তার কাছে প্রশ্নটা এভাবে তুলে ধরা হয়, ইরান এবং ইসরায়েল যেন পরিমিত এবং হিসাব নিকাশ করে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তার মানে কি বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো গেল?

    রাফাহ্'র(ফিলিস্তিনি এলাকা) ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।

    ব্লিনকেন আগের কথারই পুনরাবৃত্তি করেন। বলেন, তার নজর উত্তেজনা নিরসনে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান।

    রাফাহ্'র ব্যাপারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান সমর্থন করতে পারে না। তিনি বলেন, রাফাহ্ এলাকায় প্রায় ১৪ লাখ মানুষ আছেন। কোনো সংঘাতের মুখে তাদের সরিয়ে আনা "কঠিন কাজ"।

    বলেন, সেখানে ব্যাপক সামরিক অভিযানের "পরিণতি হবে ভয়াবহ"।

    গাজার নেতৃত্বে থাকা হামাসেরও সমালোচনা করেন ব্লিনকেন।

  3. সহিংসতা রোধ করাই জি সেভেন'র লক্ষ্য - ব্লিনকেন

    পরের প্রশ্নটিও ইরানে ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে।

    প্রশ্ন করা হয়, "আপনি কি মনে করেন, ইরান যাতে প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য না হয় সেজন্যই আজকে সীমিত পরিসরে হামলা করা হয়েছে, সেই হিসেবে আপনি কী আশাবাদী(উত্তেজনা নিরসনে)?

    তিনি আবারো বলেন ওই ঘটনা নিয়ে তিনি কোনো কথা বলবেন না।

    "আমাদের এবং জি সেভেনের পক্ষ থেকে শুধু এইটুকু বলতে পারি, উত্তেজনা নিরসন এবং বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোতেই আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ। সত্যি বলতে গেলে অক্টোবরের ভয়াবহ ঘটনা এবং তার প্রথম দিনটি থেকেই সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।"

    "চেষ্টা চলমান থাকবে," বলেন ব্লিনকেন।

  4. ইরানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবহিত ছিল কিনা বলতে নারাজ ব্লিনকেন

    জি সেভেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে এখন সংবাদ সম্মেলন করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টিন ব্লিনকেন।

    তাকে প্রথম প্রশ্নটিই করা ইরানের ইসরায়েলের হামলা প্রসঙ্গে। জানতে চাওয়া হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে অবহিত করা হয়েছিল কিনা।

    "যুক্তরাষ্ট্র কোনো আক্রমণে সঙ্গে জড়িত নয়," এর বাইরে আর কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

    "যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাত" এবং উত্তেজনা এড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও জি সেভেন।

    ব্লিনকেন আরো যোগ করেন, ইসরায়েল একটা "নজিরবিহীন হামলার" শিকার হয়েছে এবং "ইসরায়েল যেন নিজেকে রক্ষা করতে পারে, এটা নিশ্চিত করাই" যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য।

  5. হামলার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ মুহূর্তে জানিয়েছে ইসরায়েল - ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন কিছুক্ষণ আগে।

    সেখানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জিজ্ঞেস করা হয়, ইরানের ওপর ইসরায়েলে আক্রমণের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র জানতো কিনা?

    উত্তরে, আন্তোনিও তাজানি বলেন, মার্কিন সরকারকে "একেবারেই শেষ মুহূর্তে" অবহিত করেছে ইসরায়েল। দাবি করেন, হামলার সঙ্গে ওয়াশিংটনের "কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না"।

    এবারের জি সেভেন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ইতালির ক্যাপ্রিতে। সেখানেই এসব কথা বলেন মি. তাজানি।

  6. পশ্চিমা কর্মকর্তা বলছেন - ইসরায়েল ‘বাজিয়ে দেখছিলো’,

    ইরানের কেন্দ্রীয় প্রদেশ ইস্ফাহানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ‘মাইক্রো ড্রোন’ হামলার ঘটনার পর ইরানিরা সতর্ক হয়ে উঠেছে।

    গত ১৩ই এপ্রিল ইসরায়েলের ওপর ইরানের অতর্কিত ড্রোন ও মিসাইল হামলার পর ইসরায়েলের সম্ভাব্য প্রতিশোধের বিষয়ে ধারণা আছে, এমন ক’জন পশ্চিমা কর্মকর্তা বিশ্বাস করেন, এটি কেবল “প্রথম দফা”।

    লেবাননের একজন পশ্চিমা কূটনীতিকের মতে, “কৌশলটি হল: সামান্য হামলার মাধ্যমে ইরানকে বড় পরিসরে পাল্টা হামলা করার জন্য উত্তেজিত করে তোলা।”

    এদিকে, একজন পশ্চিমা সামরিক কর্মকর্তা জানান, সিরিয়া এবং ইরাক থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ড্রোন হামলার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু ছিল জরুরি রাডার ব্যবস্থা।

    তার মতে, "ইসরায়েল ইরান এবং তার মিত্র হিজবুল্লাহ'র মতোই তারা প্রথমে রাডারগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। তাছাড়া, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর লক্ষ্য তৈরির পাশাপাশি তারা ইরানের রাডার সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, যাতে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধা দিতে না পারে।”

    এই ঘটনার ব্যাপারে ইরান থেকে অনেক পরস্পরবিরোধী তথ্য আসছে। ইরানের আইআরজিসি’র ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম তাসনিম যদিও ‘নির্ভরযোগ্য’ সূত্রের বরাত দিতে ‘ইরানে হামলা’র বিষটি অস্বীকার করেছে।

    কিন্তু কিছু ইরানি গণমাধ্যম আবার বলছে যে “এই ঘটনায় ইরানের তরফ থেকে কোনও পাল্টা প্রতিক্রিয়া হবে না।”

    এখন প্রশ্ন হল, এটি কি সত্যিই ইসরায়েলের প্রত্যাশিত প্রতিশোধ ছিল? যে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমি (বিবিসি সংবাদদাতা) ক্থা বলেছি, তারাও বলছেন যে এটি প্রত্যাশিত ছিল না। তারা আমায় বলেছে, এটি কেবলমাত্র “বাজিয়ে দেখার একটি ফাঁদ।”

  7. ইস্ফাহান কেন টার্গেট?

    একজন পারমাণবিক এবং রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ বিবিসিকে বলেছেন, সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ইরানের দ্বিতীয় শহর, ইস্ফাহানকে বেছে নেয়া "অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ"।

    যুক্তরাজ্য এবং নেটোর পারমাণবিক বাহিনীর সাবেক কমান্ডার হামিশ ডি ব্রেটন গর্ডন উল্লেখ করেছেন, শহরটির আশেপাশে অনেকগুলো সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সেগুলোরই একটি ছিল লক্ষ্যবস্তু।

    "[আলোচিত আক্রমণ] যথেষ্ট নিকটে ছিল, যেখানে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে, বলে আমরা ধারণা করি সেই স্থানটির। সুতরাং এটা তাদের জন্য একটা ঝাঁকুনি," বিবিসিকে বলেন তিনি।

    ডি ব্রেটন হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে বলেন, "মূলত সামর্থ্যের এবং সেইসাথে সম্ভবত লক্ষ্য সম্পর্কেও জানান দেয়ার চেষ্টা।"।

    "ইরান ইসরায়েলের দিকে তিনশোর বেশি মিসাইল ছুঁড়েছে, প্রায় সবগুলোকেই ভূপাতিত করা হয়। ইসরায়েল ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে ছুঁড়েছে মাত্র একটি বা দু'টি - যা প্রতিরক্ষা ভেদ করে আঘাত হেনেছে এবং ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে।"

    তিনি আরো দাবি করেন, প্রথাগত সামরিক সক্ষমতার বিচারে ইসরায়েল ইরানের চেয়ে এগিয়ে আছে। সেই জন্যই তেহরান প্রক্সি ওয়্যারে (ছায়াযুদ্ধ) বেশি আগ্রহী এবং "ইসরায়েলের সাথে সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে চলে। কারণ, তারা জানে নিদারুণ পরাজয় হবে তাদের"।

    ইরানিদের তরফে হামলার গুরুত্বকে খাটো করে দেখা প্রসঙ্গে ডি ব্রেটন গর্ডন বলেন, তারা স্বীকার করতে চাইবে না যে কোনো ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের "পুরনো" আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করেছে এবং লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে।"

  8. ইরানের সীমিত প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিই মুখ্য,

    আজ শুক্রবার, মুসলিম বিশ্বে বিশেষ সাপ্তাহিক প্রার্থনার দিন।

    ইরানে এমন দিনগুলোতে প্রায়ই 'জায়নবাদী শত্রু' ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তৃতা দেয়া হয়। প্রচণ্ড আঘাত হেনে শাস্তি দেয়ার কথাও বলা হয়ে থাকে।

    তবে, আজ সকালের সীমিত ইসরায়েলি আক্রমণের ব্যাপারে দেশটিতে খুবই মৃদু প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

    কোনো কোনো কর্মকর্তা তো বলছেন, আদৌ এমন কিছু ঘটেইনি।

    কেউ আবার একে "অল্প কয়েকটি কোয়াডকপ্টার" দিয়ে চালানো "ব্যর্থ হামলা" বলে ঠাট্টাও করছেন।

    দেশের অভ্যন্তরে ভীষণ চাপে থাকা ইরানের শাসকগোষ্ঠীর জন্য নিজেদেরকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যতটা সম্ভব বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

    ইসরায়েলে গত সপ্তাহের ব্যাপক ইরানি ড্রোন এবং মিসাইল হামলাকে উপস্থাপন করা হয়েছিল "শত্রুকে শিক্ষা দেওয়া" হিসেবে। যদিও, ইসরায়েল এবং অন্যদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগই ভূপাতিত করে এবং কোনো হতাহতও হয়নি।

    এটা খানিকটা মুখ রক্ষা ও শক্তিমত্তার প্রদর্শনের ব্যাপার। কিন্তু, একইসঙ্গে এটা সামর্থ্য, প্রতিহত করার সক্ষমতা এবং হিসেবি প্রত্যুত্তরেরও বহিঃপ্রকাশ।

    ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার অনেকেই আছেন যারা আজ আরো বড় একটা হামলা দেখতে চেয়েছিলেন।

    কিন্তু, মিত্রদের অনেকেই স্পষ্ট করে বলেছেন, তেমন কোনো পদক্ষেপ বিপজ্জনক হবে এবং আরও ব্যাপকতর কোনো যুদ্ধ ডেকে আনবে। যা যুক্তরাষ্ট্রকেও যুদ্ধে টেনে আনতে পারে। তাছড়া, জ্বালানির মূল্যস্ফীতি এবং অঞ্চলটি থেকে হাজার হাজার মানুষের বাস্তুচ্যূত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।

    ইসরায়েল বিষয়গুলোকে আমলে নিয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবু, একটা বার্তা দিয়ে রাখলো যে, তারা ইস্ফাহানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি আক্রমণ চালাতে পারে এবং পরবর্তীতে হামলার পরিসর আরও বাড়তে পারে।

  9. সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান ইউরোপিয় কমিশনের

    চলমান উত্তেজনা যাতে আর না বাড়ে সেজন্য ইরান, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট আরসালা ফন দের লিয়েন।

    ফিনল্যান্ডের ল্যাপেনরান্তা থেকে এক বিবৃতি তিনি আরো বলেন, "ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য সবপক্ষেরই আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি।"

  10. ইরানের সাথে ‘উঁচু দরের জুয়া খেলছে’ ইসরাইল - লেবাননে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত

    লেবাননে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত টম ফ্লেচার বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে প্রোগ্রামে বলেছেন, পুরো বিষয়টি এখনও “বেশ ঝাপসা" এবং ওই অঞ্চলের অনেকেই “সত্যিকারের ভয় থেকে জেগে উঠছে।”

    তিনি বলেছেন, “এটি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ইসরায়েল ইরানের সাথে জুয়া খেলা চালিয়ে যেতে চায়।"

    ফ্লেচার আরও বলেছেন যে ওই অঞ্চলের কূটনীতিকরা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য, "সবাই এখন এই বিষয়টির তীব্রতা বা উত্তেজনা কমানোর উপায় খুঁজছেন।”

    "আমরা জানি না, এখন উত্তেজনা কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ইরান স্পষ্টতই ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে যে এটি খুব বড় কোনও বিষয় নয়। তারা এটিকে খাটো করে দেখছে। এবং, ইসরায়েল অবশ্য আরও নাটকীয় কোনও কর্মকাণ্ডকে বেছে নিতে পারতো, " তিনি বলেন।

    ফ্লেচার আরও বলেছেন যে ইসরায়েল ইরানকে "স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছে” যে তারা চাইলে যেকোনও জায়গায় হামলা করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোও এর বাইরে নয়। যদিও ইরান গত কয়েকদিন ধরে “পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ধারেকাছে না যাওয়ার” বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    “এই সমস্ত কিছু মূল বিপদ হল, এখানে হিসেবের গড়মিল হলে অবশ্যই ঝুঁকি আছে,” তিনি বলেন।

  11. তেহরানের দৈনন্দিন জীবনে কোনো প্রভাব পড়েনি

    ইরানি গণমাধ্যম এবং দেশটির কর্মকর্তারা ইস্ফাহান এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরে হামলার খবরটিকে হালকাভাবেই উপস্থাপন করছেন।

    ইরানিয়ান স্পেস অ্যাজেন্সি একজন কর্মকর্তা হোসেইন দালিরিয়ানের দাবি, সীমান্তের বাইরে থেকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়নি।

    এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের পুরোপুরি বিপরীত। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, একটি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ইরানে আঘাত হেনেছে।

  12. ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলা সম্বন্ধে এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে

    গত সপ্তাহে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে তেহরানের নজিরবিহীন হামলার ছয়দিনের মাথায় একটি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ইরানে আঘাত করেছে বলে জানা গেছে।

    এ সম্বন্ধে এখন পর্যন্ত যা যা জানা গেছে, সেগুলো হল:

    • মার্কিন কর্মকর্তারা বিবিসি’র যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, একটি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ইরানে আঘাত হেনছে। শুক্রবার সকালে ইরানের কেন্দ্রীয় শহর ইসফাহানের চারপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে ইরানের গণমাধ্যমে এসেছে
    • ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার মাধ্যমে তিনটি ড্রোনকে ধ্বংস করা হয়েছে
    • ইসফাহান প্রদেশের একজন সেনা জেনারেলকে উদ্ধৃত করে তারা বলেছে, এখন পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি
    • ইসফাহান প্রদেশে একটি বিশাল বিমানঘাঁটি আছে। সেইসাথে, সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা- আইএইই বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কোনও ক্ষতি হয় নি।
    • পেন্টাগন ও ইসরায়েলের সেনাবাহিনী, উভয়ই এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি

    যেখান থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত

    • শনিবার রাতে ইসরায়েল যখন বলেছিলো যে তারা ইসরায়েলের ওপর ইরানের করা হামলার জবাব দিবে, সেই থেকেই ইরানে সর্বোচ্চ সতর্কতা বিরাজ করছিল
    • ১৩ই এপ্রিল, শনিবার রাতে ইরান ইসরায়েলের ওপর নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছিলো। ইসরালকে লক্ষ্য করে ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুঁড়েছিলো ইরান। যদিও ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্ররা সেগুলোর বেশিরভাগকেই ইসরায়েলের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করতে পেরেছিলো
    • সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেট ভবনে ইসরায়েলের (ধারণা করা হয়) হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ইসরায়েলের ওপর ওই হামলা করেছিলো। কনস্যুলেট ভবনের সেই হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলো
    • ইসরায়েল আগেই আভাষ দিয়েছিলো যে তারা ইরানের ওপর পাল্টা হামলা চালাবে। যদিও বিশ্বনেতারা ইসরায়েলকে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছিলো
    • বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই পাল্টা হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিলো
  13. ইরানে ইসরায়েলের হামলা সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

    ইরানে ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে বিবিসি বাংলার ভিডিও প্রতিবেদন।

  14. ‘অবিলম্বে প্রতিশোধ নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই ইরানের’ - ইরানি কর্মকর্তা

    ইসরায়েলের হামলার খবর প্রকাশ হবার কয়েক ঘণ্টা পর একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রতিশোধ নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই ইরানের।”

    দুই মার্কিন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ইরানের ওপর এই হামলার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। যদিও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, “এই ঘটনাটি যে বিদেশি কোন উৎস থেকে হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা বাইরে থেকে কোনও আক্রমণের সম্মুখীন হইনি এবং চলমান আলোচনা হামলার চেয়ে অনুপ্রবেশের দিকেই বেশি ঝুঁকছে।”

    এদিকে মাত্র এক ঘন্টা আগে একজন ইরানি বিশ্লেষক দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিকে বলেছিলেন, “ইসফাহানে বিমান প্রতিরক্ষা দিয়ে যে মিনি ড্রোনগুলোকে গুলি করা হয়েছিলো, সেগুলো ইরানের ভেতর থেকেই অনুপ্রবেশকারীরা উড়িয়েছিলো।”

  15. পারমাণবিক স্থাপনার কোনও ক্ষতি হয়নি: জাতিসংঘ

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে ইরানের পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র বা স্থাপনাগুলোতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

    জাতিসংঘের এই সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জোর দিয়ে বলেছেন যে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সামরিক সংঘাতের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ নয় এবং তিনি সবাইকে সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    এর আগে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন যে ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ’।

  16. বিশ্লেষণ: দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ এখন প্রকাশ্যে,

    ঘটনাটিকে বেশ খাটো করেই দেখাতে চাইছেন ইরানিরা। যেন এর বিশেষ তাৎপর্য নেই। তারা বলছেন,কোনো হামলা হয়নি। ক্ষুদ্রাকৃতি ড্রোনের রম্য ছবি প্রচার করছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

    কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসছে।

    ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের অপেক্ষাকৃত কট্টর অংশ কি পাল্টা জবাব দেবে?

    ইসরায়েল কি আরো হামলার পরিকল্পনা করছে?

    প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে ইতিমধ্যেই দূরত্ব বেড়েছে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের। সেটি হয়তো আর বাড়াতে চাননি নেতানিয়াহু। যে কারণে এই ধরনের হামলার পদক্ষেপটি নিয়ে থাকতে পারেন তিনি।

    ইরানের শনিবারের হামলার জবাবে ইসরায়েলকে আর পাল্টা হামলা না চালাতে বলেছিলেন বাইডেন। যেন 'জয়টা ইসরায়েলের' অনুকূলেই থাকে।

    ব্রিটেনসহ অন্য মিত্ররাও যার যার জায়গা থেকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    যদি আজকের আক্রমণ তারই প্রতিফলন হয়,তাহলে আরেকটা প্রশ্ন দাঁড়ায়। এটা কি ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় থাকা সাবেক জেনারেলদের প্রত্যাশা অনুযায়ী যথেষ্ট শক্ত পদক্ষেপ হলো,ইসরায়েলের শত্রুদের নিরস্ত করতে যে পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছিলেন তারা।

    নেতানিয়াহু’র অতিজাতীয়তাবাদী শরিকরাও একটা প্রচণ্ড প্রতিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। একজন তো বলেই বসেন,ইসরায়েলের ‘নৃশংস’ হওয়া উচিত।

    পশ্চিমা দেশগুলোর মতে,ওই অঞ্চলের ভালোর জন্য ইরান এবং ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ইতি টানা উচিত। এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের শুরুটা হয় দামেস্কে ইরানি কূটনৈতিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে। তিনজন জেনারেলসহ অন্তত সাতজন মারা যান ওই হামলায়।

    এমনকি এই পর্যায়ে এসেও যদি ঘটনাপ্রবাহটা থামে,নতুন দৃষ্টান্ত কিন্তু স্থাপিত হয়েই গেল। ইরান সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে,জবাবে ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল,যা আগে কখনো ঘটেনি।

    ওই অঞ্চলে ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতে দুই দেশের অভ্যন্তরে সরাসরি হামলা না চালানোটাই যেন “রুলস্ অব দ্য গেম’(খেলার নিয়ম) ছিল এতদিন।

    ফলে,দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ছদ্মবেশী সেই যুদ্ধ ছায়া থেকে বেরিয়ে এলো এবার।

  17. ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিলো - মার্কিন গণমাধ্যম

    নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক, এমন কিছু কর্মকর্তা মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেছেন যে ইসরায়েল তাদের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এটিকে সমর্থন করেনি।

    এনবিসি এবং সিএনএন, উভয়ই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে আগাম সতর্কতা দিয়েছে।

    একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন লিখেছে, "আমরা কোনও প্রতিক্রিয়াকে সমর্থন করিনি”।

    তবে হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন এখনও এই হামলার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

    যদিও ইরান বলছে, এই ঘটনার সাথে মাত্র কয়েকটি ড্রোন জড়িত ছিল।

    ইরনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে দেশটির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, "মার্কিন গণমাধ্যমের খবর সত্য নয়”।

  18. ইরানের সংবাদ সংস্থার ভিডিওতে ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনা দেখা যাচ্ছে

    ইরানের ইসলামিক রেভলিউশন গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা একটি ভিডিও পোস্ট করেছে।

    ভিডিও’র ক্যাপশনে লেখা হয়েছে "ইসফাহানের পারমাণবিক কার্যক্রমের কেন্দ্র সম্পূর্ণ নিরাপদ”।

    ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একজন ব্যক্তি ইসফাহান পারমাণবিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের অনেকটা কাছে দাঁড়িয়ে তার ঘড়ি পরীক্ষা করছেন। তখন আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকেও দেখানো হয় যারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি যানের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে মনে হচ্ছে।

    ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টারে একটি ইউরেনিয়াম কনভার্সন ফ্যাসিলিটি (ইউসিএফ) রয়েছে, যা ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড তৈরি করে।

    ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড নিউক্লিয়ার চুল্লির জ্বালানিতেও ব্যবহার করা যায়। আবার এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে।

    ইউসিএফ-এর পাশে একটি ইউরেনিয়াম অক্সাইড পাউডার প্ল্যান্ট (ইইউপিপি) আছে, যা ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইডকে ইউরেনিয়াম অক্সাইডে রূপান্তর করে ও জ্বালানী তৈরি করে।

    ইউরেনিয়াম অক্সাইড আবার ইউরেনিয়াম ধাতুতেও রূপান্তরিত হতে পারে। ইরান বলেছে যে তারা চুল্লির জ্বালানি তৈরিতে ইউরেনিয়াম ধাতু ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু এই ধাতু পারমাণবিক বোমার মূল তৈরিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

    ইসফাহান পারমাণবিক প্রযুক্তি কেন্দ্র চারটি ছোট পারমাণবিক গবেষণা চুল্লিও পরিচালনা করে। এগুলোকে সরবরাহ করেছিলো চীন।

    ইরান জোরের সাথে বলে যে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ। সেইসাথে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আগ্রহ বা আকাঙ্খার কথা তারা অস্বীকার করে।

    কিন্তু ইসরায়েল অভিযোগ করে যে ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা তৈরি করেছে, যা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

  19. বিশ্লেষণ: আকার এবং স্থান বিবেচনায় ইসরায়েলের আক্রমণ খুবই নগণ্য,

    ইরানের গত শনিবারের ড্রোন এবং মিসাইল হামলার জবাব যে দেবে এটা ইসরায়েল আগেই স্পষ্ট করেছিল। সেই জবাব তারা দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

    যদি সত্যিই এটা ইসরায়েলের জবাবের শুরু এবং এটাই শেষ হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে হামলার আকার বা স্থান বিবেচনায় এই জবাব খুবই সামান্য।

    ইস্ফাহানের আজকের সকালটা আর দশটা সকালের মতোই।

    সপ্তাহজুড়ে ইসরায়েলে পশ্চিমা মিত্র, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন, দেশটির সরকারকে তাগিদ দিয়ে আসছিল যেন ইরানি হামলার জবাবে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালানো না হয়।

    যদিও ইরানের সেই হামলা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর, কিন্তু সেটাও আসলে ছিল একটা প্রতিশোধ। পহেলা এপ্রিল সিরিয়ার দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। দু’জন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারসহ ১৩ জন নিহত হন ওই হামলায়। এর প্রতিশোধ নিতেই গত শনিবার ইসরায়েলে আক্রমণ করে ইরান।

    এখন পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে সেটা দুটো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে: ইসরায়েলের হামলা এখানেই শেষ কিনা এবং ইরান পাল্টা হামলার সিদ্ধান্ত নেয় কিনা।

  20. ইসফাহান শহর ‘নিরাপদ’ - ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির সংবাদদাতা

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি আইআরআইবি হামলার খবরটিকে গুরুত্ব দেয়নি বা খারিজ করে দিয়েছে।

    তারা টেলিগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। সেই ভিডিও-তে এই টিভি’র একজন সংবাদদাতাকে ইসফাহান শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি ভবনের শীর্ষে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

    তিনি বলেছেন, "শহরটি নিরাপদ। মানুষ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে।”

    "কয়েক ঘন্টা আগে আকাশে শব্দ শোনা গিয়েছিল। আমরা যা জানি, তা হল- ইসফাহানের আকাশে একাধিক মিনি-ড্রোন উড়ছিলো। তখন সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।”

    "এখন পর্যন্ত, প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ আমাদের কোন তথ্য দেয়নি। কিছু গণমাধ্যম বলেছিলো যে ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের গবেষণা বলছে, এই তথ্যটি মিথ্যা, কোনও স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।"