আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানজুড়ে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আবার হামলা ইসরায়েলের

ইরানে হামলার পরে পেন্টাগন দাবি করেছে, হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনকে অনুশোচনা করার মতো পাল্টা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ইরানে ফের বিমান হামলা চালানোর তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েল।

সরাসরি কভারেজ

  1. রোববার সারাদিন যা যা ঘটেছে:

    • ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
    • হামলার পর স্যাটালাইটে তোলা ছবিতে ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা এলাকায় ছয়টি নতুন গর্ত দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন বোমা হামলার পরই এই গর্তগুলো সৃষ্টি হয়েছে। তবে হামলার পর এখন পর্যন্ত কোনও তেজস্ক্রিয়তা সনাক্ত হয়নি বলেও জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
    • ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বলেছে, তারা ওয়াশিংটনকে এমনভাবে পাল্টা জবাব দেবে যে, তারা অনুশোচনা করতে বাধ্য হবে। পাল্টা হামলা চালানো হলে ইরানকে "অপ্রতিরোধ্য শক্তির" মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। মধ্যপ্রাচ্যে "দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে" জড়ানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও আগ্রহ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
    • মার্কিন হামলার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের কর্মকর্তারা। হরমুজ প্রণালী বন্ধ না করার বিষয়ে ইরানকে রাজি করানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
    • যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রেট আইন প্রণেতাদের অনেকে ইরানে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়াই এ হামলা চালানো হয়েছে।
    • যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাতের কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সোমবার ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে আলোচনা করবেন তিনি।
    • ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। ইরানের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার।
    • ইরানে মার্কিন হামলার পর সোমবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ।
    • হামলা চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক জ্ঞান 'ধ্বংস করা যাবে না' বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি।
    • যুক্তরাষ্ট্রের পর রোববার ইরান জুড়ে কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলে।
    • ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের প্রথম দলকে আগামী সপ্তাহে দেশে ফেরানো হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বিবিসি বাংলার লাইভ পাতা আজ এখানেই শেষ হচ্ছে। সোমবার নতুন খবর নিয়ে পুনরায় পাতাটি চালু হবে।

    ততক্ষণ বিবিসি বাংলার সঙ্গেই থাকুন।

    বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর পড়ার জন্য মূল পাতায় ক্লিক করুন। এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

  2. হরমুজ প্রণালী বন্ধ না করার জন্য ইরানকে রাজি করাতে চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান

    হরমুজ প্রণালী বন্ধ না করার বিষয়ে ইরানকে রাজি করানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে একথা জানিয়েছেন।

    এর আগে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন দেশটির কর্মকর্তারা ।

    "যারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, সেই চীনের সরকারকে আমি উৎসাহিত করবো তারা যেন এ বিষয়ে (ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে) যোগাযোগ করে," বলেন মি. রুবিও।

    হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা ইরানের জন্য আরেকটি "ভয়াবহ ভুল" বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যা উত্তেজনা বাড়িয়ে দেবে বলে তিনি বর্ণনা করেছেন।

    ইরানের জন্য এটি "অর্থনৈতিক আত্মহত্যা" হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

  3. হামলা চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক জ্ঞান 'ধ্বংস করা যাবে না' : বেহরুজ কামালভান্দি

    হামলা চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক জ্ঞান 'ধ্বংস করা যাবে না' বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ'র খবরে এ কথা বলা হয়েছে।

    "পারমাণবিক শিল্পের শেকড় ইরানে রয়েছে এবং এই শিকড় ধ্বংস করা যাবে না," বলেন কামালভান্দি।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিই একই কথা বলেন।

    তিনি বলেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দেশটির "স্থানীয় পারমাণবিক জ্ঞানের" ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা "বোমা হামলার মাধ্যমে ধ্বংস করা যাবে না"।

  4. ইরানে মার্কিন হামলায় ১১ জন আহত: রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি

    ইরানে পারমাণবিক স্থাপনা গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন ইরানি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

    আহতদের মধ্য কারোর অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় এবং সাতজন ইতোমধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

    মার্কিন হামলার পর তোলা স্যাটেলাইটের ছবিতে ফোর্দো পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা এলাকায় ছয়টি নতুন গর্ত দেখা গেছে।

    ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বোমার আঘাতেই ওই গর্তগুলো সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে গর্ত সৃষ্টি হলেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনও তেজস্ক্রিয়তা সনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

    ইরানের রেড ক্রিসেন্টের প্রধান পিরহোসেইন কুলিভান্দ বলেছেন যে, গত কয়েক দিনের ইসরায়েলি হামলায় তাদের অন্তত তিনজন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া সংস্থার একটি হেলিকপ্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সেইসঙ্গে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হাসপাতাল, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি কেয়ার হোমেও ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন পিরহোসেইন কুলিভান্দ।

  5. মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে আগ্রহ নেই যুক্তরাষ্ট্রের : জেডি ভ্যান্স

    মধ্যপ্রাচ্যে "দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে" জড়ানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

    মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শান্তি নিশ্চিত করার জন্যই শনিবার রাতে ইরানে সীমিত পরিসরে হামলা চালানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

    মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এবিসি নিউজের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মি. ভ্যান্স আরও বলেন, মার্কিন হামলা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে "এক বছর বা তারও বেশি সময়" পিছিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

    এখন ইরান সরকারকে "বুদ্ধিমানের মতো পথ বেছে নিয়ে" পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে এসে স্থাপনাগুলো ভাঙার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানিয়েছেন মি. ভান্স।

    "আমরা চাই না ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক," বলেন জেডি ভান্স।

    মার্কিন সেনাদের ওপর কোনো ধরনের পাল্টা হামলা হলে ইরানকে "অপ্রতিরোধ্য শক্তির" মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

  6. ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের প্রথম দল ফিরতে পারেন সামনের সপ্তাহে

    চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের প্রথম দলকে আগামী সপ্তাহে দেশে ফেরানো হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাহ আসিফ রহমান।

    “ইরানের পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সহযোগিতায় এই প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে। মন্ত্রণালয় চেষ্টা করছে যে, প্রত্যাবাসনে আগ্রহী প্রথম দলটি যাতে আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে পৌঁছায়,” বলেন মি. রহমান।

    গত প্রায় দশ দিন ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারির বাসভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা, ভ্রমণসহ বিভিন্ন কারণে সম্প্রতি ইরানে যাওয়া অনেকে দেশটিতে আটকে পড়েছেন।

    এর মধ্যে শনিবার রাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রর সরাসরি হামলা সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

    এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা।

    “ইরানে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেখানে বসবাসরত এবং দেশে ফিরতে ইচ্ছুক সকল বাংলাদেশি নাগরিকের দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বাংলাদেশ সরকার শুরু করেছে,” বলেন মি. রহমান।

    এর আগে গত মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, ইরানে থাকা প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশির মধ্যে চারশ জনের মতো তেহরানে রয়েছেন।

    চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি হতাহতের শিকার হয়নি বলেও জানান কর্মকর্তারা।

  7. মার্কিন হামলার পর স্যাটেলাইট ইমেজে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার যে চিত্র দেখা গেছে, বেনেডিক্ট গারম্যান

    ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বোমা হামলার পর নতুন স্যাটেলাইট ইমেজ প্রকাশিত হয়েছে।

    এই স্যাটেলাইট ইমেজে গত রাতের ফোর্দো পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় মার্কিন হামলার পরের পরিস্থিতি দেখানো হয়েছে।

    ২২শে জুন তোলা ম্যাক্সার টেকনোলজির হাই রেজুলেশনের ছবিতে দেখা গেছে, সেখানে ছয়টি নতুন গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন বোমা হামলার পরই এই গর্তগুলো সৃষ্টি হয়েছে।

    এর পাশাপাশি পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ধূসর ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ। যা বোমা হামলার ফলে সৃষ্টি হয়েছে।

    উল্লেখ্য, এমন গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার জন্য যেসব “বাংকার ধ্বংসকারী” বোমা লাগে, তার মধ্যে একটি হলো ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর বা এমওপি নামক একটি বোমা।

    কিছুক্ষণ আগে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, তাদের অভিযানের অংশ হিসাবে এগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল।

    ম্যাকেঞ্জি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেসের জ্যেষ্ঠ চিত্র বিশ্লেষক স্টু রে বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, ‘এসব বোমা যে জায়গা দিয়ে প্রবেশের করে সেখানে বড় কোন গর্ত তৈরি হয় না। বরং এগুলো ভূগর্ভে প্রবেশের পর নিচের অংশের দিকে বড় বিস্ফোরণ ঘটায়’।

    নতুন স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে দুটি পৃথক আঘাতস্থলে তিনটি পৃথক বোমা আঘাত করেছে এবং মাটির ধূসর রঙ দেখে মনে হচ্ছে বিস্ফোরণের ফলে কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ ছিটকে পড়েছে চারপাশে”।

    স্টু রে আরো বলেন, পারমাণবিক স্থাপনার টানেলের প্রবেশপথগুলো আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ টানেলগুলোর আশেপাশে কোনো গর্ত বা আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

    তার ধারণা, ইরান সম্ভবত ইচ্ছাকৃতভাবে টানেলগুলো বন্ধ করে রেখেছিল, যেন বিমান হামলায় সেগুলোকে লক্ষ্য করা না হয়।

    তবে এই হামলায় ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনাটি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

    ধারণা করা হচ্ছে, হামলার আগের কয়েকদিনে ইরান কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল।

  8. ইরানজুড়ে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল

    ইরান জুড়ে কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

    এর আগে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানে এই হামলা চালায়।

    ইসরায়েলের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, সকালে ৩০টি যুদ্ধবিমান ইরান জুড়ে কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে ৬০টিরও বেশি যুদ্ধাস্ত্র বা বোমার ব্যবহার করা হয়েছে।

    তারা জানায়, প্রথম দফার হামলায় নিশানা করা হয় ইয়াজদ অঞ্চলের একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র সদর দফতর। এরপর হামলা চালানো হয় ইসফাহান, বুশেহর ও আহভাজের সামরিক স্থাপনায়।

    উল্লেখ্য, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন যে, রাতের বোমা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছে।

  9. ইরানে মার্কিন হামলার পর সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে?

    বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৪৫ বছরের টানাপোড়েনের মধ্যে এটি “এক বড় মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত”।

    তিনি জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে আমেরিকা সীমারেখা অতিক্রম করেছে।

    ডুসেট ব্যাখ্যা করে বলেন যে, এই হামলা নিশ্চিতভাবে এই উত্তেজনাকে নতুন পরিস্থিতিতে ফেলেছে, যা ‘খুবই অপ্রত্যাশিত এবং বিপজ্জনক’।

    লিজ বলেন, পরবর্তীতে কী ঘটবে তা নির্ভর করছে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় সেটির ওপর।

    তিনি যোগ করেন, এখন এটা শুধু কথার লড়াই নয়, বরং মাটির ওপর বাস্তব যুদ্ধও “ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে”।

    ইরানের কাছে খুব কম বিকল্প রয়েছে বলেও মনে করেন লিজ ডুসেট।

    এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সবসময়ই ‘চরম সতর্কতা’ অবলম্বন করে এসেছেন। ইরানিরা যেটাকে বলে ‘কৌশলগত ধৈর্য’ বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগিয়ে চলা। সেই পথেই তিনি চলেছেন। কিন্তু এখন সেই খেলা প্রায় শেষের পথে”।

    “তিনি যদি খুব কম কিছু করেন, তাহলে সম্মান হারাবেন। আর যদি বেশি কিছু করেন, তাহলে সবকিছুই হারাতে পারেন”, যোগ করেন লিজ ডুসেট।

  10. ইরানে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ

    ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

    রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, এই ধরনের পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই নাজুক একটি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরও বিঘ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘যেকোনো সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষে বাংলাদেশ তার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে। বাংলাদেশ সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করছে’।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিরসনে এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালনে বাংলাদেশ জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে গঠনমূলক আলোচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে চলাই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপনের একমাত্র টেকসই পথ।

  11. দক্ষিণ ও মধ্য ইরানের দুই প্রদেশে ইসরায়েলি হামলা

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসি অনুমোদিত ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের বুশেহর শহরের কাছে দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

    অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, ইয়াজদ প্রদেশের কিছু স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে ইরান।

    ইরানের ইয়াজদের আল-গাদির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর ইউনিটের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে মেহের নিউজ তাদের টেলিগ্রামে জানিয়েছে যে, প্রদেশের দুটি সামরিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

    উল্লেখ্য, বুশেহর প্রদেশেই ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত।

    জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা বা আইএইএ গতকাল(শনিবার) সতর্ক করে বলেছে যে, বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালালে বিপজ্জনক মাত্রায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    ইরানি গণমাধ্যমে এসব হামলার খবর প্রকাশ পেলেও, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

  12. ট্রাম্প কবে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

    পেন্টাগনে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক কবে বা কখন ইরানে হামলার “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত” নিয়েছিলেন?

    উত্তরে মি. হেগসেথ বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন এবং তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলেছিলেন”।

    তিনি বলেন, যে কারণে তিনি ইরানকে সব ধরনের সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু জবাবে ইরান কেবলমাত্র ঠুনকো অজুহাতই দিয়েছিল।

    তিনি যোগ করেন, “ট্রাম্পের কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্ত ছিল না। কিন্তু এমন একটা সময় সামনে আসলো, যখন তিনি অনুভব করলেন হুমকি বন্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে কি-না, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন দুই সপ্তাহের মধ্যে।

  13. যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরদিন পেন্টাগনে ব্রিফিং করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

    ব্রিফিং এর শুরুতেই তিনি জানান, শনিবার রাতের হামলা পরিকল্পিতভাবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘দুর্বল’ এবং ‘ধ্বংস’ করার জন্য চালানো হয়েছিল।

    তিনি বলেন, ‘এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ হয়েছে। তবে সামরিক বা বেসামরিক লোক হতাহত হয়নি’।

    হেগসেথ আরও বলেন, “বহু প্রেসিডেন্টই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে চূড়ান্ত আঘাত হানার স্বপ্ন দেখেছেন। কিন্তু ট্রাম্প ছাড়া কেউই তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি”।

    যে কারণে এই অভিযানকে সাহসী ও দুর্দান্ত বলেও আখ্যা দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    “যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কথা বলেন, তখন বিশ্বের তা শোনা উচিত,” যোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কোনো দেশই এই ধরনের অভিযান চালাতে পারত না।”

  14. পুতিনের সাথে বৈঠক করতে রাশিয়ায় যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাতের কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সোমবার ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে আলোচনা করবেন তিনি।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন যে, তিনি আজ (রোববার) সন্ধ্যায় মস্কো যাবেন এবং আগামীকাল (সোমবার) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে আলোচনা করবেন।

    মি. আরাঘচি বলেছেন যে, ‘আমি আগামীকাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করব এবং আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    ইরানের ওপর মার্কিন হামলার স্পষ্ট নিন্দা জানানো দেশগুলির মধ্যে চীনের পাশাপাশি রাশিয়া এবং মিশর ও ওমানের মতো বেশ কয়েকটি আরব দেশও রয়েছে।

    ক্রেমলিন এবং বেইজিং এর আগে ইরানের উপর ইসরায়েলের আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছিল।

    এই বছরের শুরুর দিকে রাশিয়া এবং ইরান একটি কৌশলগত জোট চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যার প্রথম ধারাটি সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার উপর জোর দেয়া হয়েছে।

  15. ওয়াশিংটন অনুশোচনা করানোর মতো পাল্টা হামলার হুমকি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর

    যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বা বিপ্লবী বাহিনী বলেছে, তারা ওয়াশিংটনকে এমনভাবে পাল্টা জবাব দেবে যে, তারা অনুশোচনা করতে বাধ্য হবে।

    তারা দাবি করেছে, আমেরিকার ওই হামলা 'প্রকাশ্য অপরাধ' ও 'আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন'।

    একটি বিবৃতিতে এই বাহিনীটি বলেছে, ''সন্ত্রাসী আমেরিকা কর্তৃক আজকের আগ্রাসী আচরণ ইরানকে এমন পথে ঠেলে দিয়েছে- যার ফলে ইরানকে বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার হিসাবে অন্যদের চিন্তা ও আক্রমণকারীদের হিসাবের বাইরে বিকল্প বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।''

    ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ''এই ভূমিতে হামলার এমন জবাব দেওয়া হবে, যাতে তারা অনুশোচনা করতে বাধ্য হবে।''

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও সেখানকার সদস্যরা 'নাজুক' অবস্থায় রয়েছে।

    কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কীভাবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি বিপ্লবী বাহিনী।

  16. পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাব কীভাবে দিতে পারে ইরান?

    গত সপ্তাহে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ায় তাহলে তার জবাব দেওয়া হবে।

    আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি বলেন, “আমেরিকানরা যেন বুঝে নেয়, যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপ তাদের এমন ক্ষতি করবে যা কখনো পূরণ করা যাবে না”।

    শনিবার ইরানের আঞ্চলিক মিত্র ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী হুমকি দিয়ে বলেছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে তারা লোহিত সাগর দিয়ে চলা মার্কিন জাহাজগুলোতে হামলা চালাবে।

    এই ধরনের বক্তব্যের পর ধারণা করা যায় যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাটি ও নাগরিকরা এখন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

    ইরান বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে? এর জবাব হলো-

    - তারা চাইলে উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অথবা ঘাঁটিতে আক্রমণ করতে পারে। যা উপসাগর থেকে তেলের প্রবাহ ব্যাহত করতে পারে এবং তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের সামরিক পদক্ষেপ আপাতত শেষ হয়েছে। এবং তারা তেহরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে চায় না।

    এমন বার্তা হয়তো ইরানকে আরও সংযত প্রতিক্রিয়া জানাতে উৎসাহিত করতে পারে।

    সম্ভবত আমেরিকান লক্ষ্যবস্তুতে এমনভাবে আক্রমণ করা হতে পারে, যাতে উল্লেখযোগ্য হতাহতের ঘটনা না ঘটে।

    ২০২০ সালে ট্রাম্প ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর ইরান আগেও এই পথ অনুসরণ করেছিল।

    এখানে লক্ষণীয় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান যদি প্রতিশোধ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী সামরিক জবাব দেবে।

    যে কারণে এখন মধ্যপ্রাচ্যে একটাই আলোচনা- ইরানে মার্কিন হামলা কী এই সংঘাতের সমাপ্তির সূচনা, নাকি যুদ্ধের আরো রক্তাক্ত পর্বের অপেক্ষা।

  17. ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর আরব বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় হামলা চালানোর পর, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে।

    আরব দেশগুলোও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আরব দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো-

    ওমান

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ছিল। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এই দেশটি।

    ওমানের সুলতান যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সরাসরি বিমান হামলার ফলে সৃষ্ট উত্তেজনার গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানান।

    সৌদি আরব

    যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শক্তিশালী নিরাপত্তা সম্পর্ক রয়েছে সৌদি আরবের।

    মার্কিন হামলার পর সৌদি আরব ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানায়। দেশটি বলেছে, এই ধরনের হামলা ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপরও আঘাত।

    কাতার

    হামলার পর কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে যে, বর্তমান বিপজ্জনক উত্তেজনা পরিস্থিতি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে। একই সাথে সবপক্ষকে বিচক্ষণতা ও ধৈর্য ধারণের আহবান জানানো হয় বিবৃতিতে।

    মিশর

    হামলার পর এই অঞ্চল আরো বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার দিকে ঝুঁকতে পারে বলে সতর্ক করেছে কাতার।

    দেশটি জোর দিয়ে বলেছে যে, সামরিক সমাধান নয়, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক আলোচনাই এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায়।

    লেবানন

    লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন বলেছেন, "ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় বোমা হামলা উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। যা এ অঞ্চল এবং দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ"।

  18. ট্রাম্প ইরান ও আমেরিকান জনগণের সাথে 'বিশ্বাসঘাতকতা' করেছেন: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, এই হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প শুধু ইরানই নয়, বরং আমেরিকার জনগণের সাথেও 'বিশ্বাসঘাতকতা' করেছেন।

    তিনি বলেন, “ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট হন, তখন বলেছিলেন তিনি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ানো বন্ধ করবেন। কিন্তু এখন তিনি তা না করে উল্টো আমাদের সঙ্গে কূটনীতির নামে প্রতারণা করেছেন এবং আমেরিকার জনগণকেও ঠকিয়েছেন। তিনি এমন একজন যুদ্ধাপরাধীর নির্দেশে কাজ করছেন, যিনি বহুদিন ধরে আমেরিকার মানুষ ও তাদের অর্থ ব্যবহার করে ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে”।

  19. মার্কিন হামলার আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার যে চিত্র দেখা গেছে স্যাটেলাইট ইমেজে

    রাতভর যেসব স্থানে মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে, তার হাই রেজ্যুলেশনের কোন স্যাটেলাইজ ইমেজ এখনও পর্যন্ত দেখা যায় নি।

    তবে, স্যাটেলাইট ইমেজ সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সার গত কয়েকদিন আগে তোলা ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রের কিছু ছবি শেয়ার করেছে।

    ম্যাক্সার জানিয়েছে, গত ১৯ ও ২০শে জুন তোলা এসব ছবিতে ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাটির প্রবেশপথের আশপাশে অস্বাভাবিক ট্রাক ও যান চলাচল করতে দেখা গেছে।

    প্রথম ছবিতে দেখা যায়, একটি টানেলের প্রবেশপথের দিকে যাওয়া সড়কের পাশে ১৬টি পণ্যবাহী ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

    আর পরবর্তী ছবিতে মূল স্থাপনার কাছে ট্রাক ও বুলডোজার দেখা যায়।

    ওই পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশে নতুন করে খনন কাজ চলেছে বলেও ম্যাক্সার সরবারহকৃত স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যায়।

    একই সাথে টানেলের প্রবেশপথের ভেতরেও মাটি খোঁড়ার চিহ্ন রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান সম্ভবত হামলার আশঙ্কায় স্থাপনাটি আরও সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছিল।

    ম্যাক্সার জানিয়েছে, শুক্রবার তোলা আরও একটি ছবিতে ফোর্দো স্থাপনা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নতুন করে নির্মিত প্রতিরক্ষা কাঠামোর চিহ্নও দেখা গেছে।

  20. ইসরায়েলের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ইরানের ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে আমরা কী জানি?

    ইসরায়েলের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় ইরান খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে।

    কিছুক্ষণ আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের জারি করা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রথমবারের মতো ‘খাইবার' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে।

    এই ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে আমরা কতুটুক জানি?

    এই ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য তুলে ধরা হলো -

    খাইবার ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সর্বশেষ মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে একটি।

    আনুষ্ঠানিকভাবে খোররামশাহর-৪ নামে পরিচিত। এটি দেশীয়ভাবে উৎপন্ন খোররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজের ফোর্থ জেনারেশন।

    ২০০০ কিলোমিটার পাল্লার খায়বার ক্ষেপণাস্ত্র দেড় হাজার কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম, যা ইরানের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে সবচেয়ে ভারী ওয়ারহেডগুলির মধ্যে একটি এটি।

    তরল জ্বালানিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে উড়ন্ত অবস্থায়েই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    এর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলের বাইরে ওয়ারহেডের গতিপথ সামঞ্জস্য করার সক্ষমতাও রয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির।

    ইরানে নির্মিত এর আগের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর তুলনায় অনেকটাই নির্ভুলভাবে লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এটি।

    প্রযুক্তিগতভাবে খাইবারের সর্বোচ্চ গতি বায়ুমণ্ডলের বাইরে আনুমানিক ম্যাক ১৬। যা শব্দের গতির ১৬ গুণ এবং এর ভেতরে আনুমানিক ম্যাক ৮।

    প্রযুক্তিগতভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র এতটাই শক্তিশালী যে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো বেশ কঠিন।