প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে রোডম্যাপ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, "অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রোডম্যাপ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু তুলে ধরেননি। আশায় ছিলাম।"
সোমবার (২৬শে আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় পার্টি একাংশের চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টার মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমাদের প্রায় ৬০ লাখ লোকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। পত্রিকায় দেখলাম প্রধান উপদেষ্টার মামলা ওঠানো হয়েছে। আরেকজন উপদেষ্টার মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই আমাদের ১ লাখ ৪৫ হাজার মামলা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে। আমরা আশা করেছিলাম প্রধান উপদেষ্টা একটি রোডম্যাপ দেবে, কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার মুখ থেকে সেটা শুনতে পাইনি।"
রোববার আনসারদের সচিবালয় ঘেরাও ও শিক্ষার্থীদের সাথে সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, "গতকাল সচিবালয় ঘেরাও করে আনসার সদস্যদের পোশাক ব্যবহার করে একটা গোলযোগ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। ছাত্ররা সেটা নস্যাৎ করে দিয়েছে। এটা কিন্তু অশনি সংকেত। অর্থ্যাৎ যারা পরাজিত শক্তি তারা চায় বিভিন্নভাবে এই বিজয়কে নস্যাৎ করার জন্য। আমরা জনগণকে আহ্বান জানাবো এই বিষয়গুলোকে প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য।"
বিএনপি মহাসচিব বলেন, "গতকাল সচিবালয়ে আনসারদের ঘেরাও কর্মসূচি ও পরে গোলযোগ তৈরির চেষ্টা এটা অশনি সংকেত। যারা পরাজিত তারা এখনও চক্রান্ত করছে, বিজয়কে নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য। জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।"
মির্জা ফখরুল বলেন, "যখন ফ্যাসিবাদ ছিল, তখন তো দাঁড়াবার কথাও চিন্তা করেননি। সময় দিন নতুন সরকারকে, তার নিশ্চয় বিষয়টি দেখবে। সচিবালয় ঘেরাও করে কোনো কিছু আদায়ের চেষ্টা করবেন না, জনগণ ভালো চোখে দেখবে না।"
"দেশে সকল পরিবর্তন এনেছে ছাত্ররা। আমি শিক্ষক হিসেবে আহ্বান জানাতে চাই, অযথা বলপ্রয়োগ করে কোনো কিছু করবেন না," যোগ করেন মি. আলমগীর।
তিনি বলেন, "প্রশাসনে এখনও সেই সমস্ত ব্যক্তিকে দেখছি, যারা আওয়ামী লীগ সরকারকে মদদ দিয়েছে, হত্যায় সহযোগিতা করেছে। প্রশ্নবিদ্ধ মানুষদের প্রশাসন থেকে সরিয়ে দিতে হবে। অনতিবিলম্বে দেশপ্রেমিক মানুষকে নিয়ে সরকার চালাতে হবে।"