ঢাকায় সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থী বনাম আনসার সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া কিছুটা থেমেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে বিক্ষোভরত আনসার বাহিনীর সদস্যরা ছত্রভঙ্গ পড়ে পড়েছেন।
রমনা জোনের পুলিশ কর্মকর্তা হাসান মোঃ নাসের বিবিসিকে বলেছেন, পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে, বেসরকারি কয়েকটি টেলিভিশনের লাইভে দেখা যায়, রাত ১১টার দিকেও উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল।
তবে, সেখানকার পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত।
এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের ওপর আনসার বাহিনীর সদস্যরা হামলা চালিয়েছে, এবং সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
তারা সচিবালয়ে 'আনসার লীগ কতৃক শিক্ষার্থীদের উপর নৃশংস হামলা'র প্রতিবাদ ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করবে বলে জানিয়েছে।
এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেন, আনসার সদস্যরা ছাত্রনেতাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
লাইভে তাকে শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যায়।
এর আগে, বেসরকারি টেলিভিশনের লাইভে দেখা যায়, শার্ট ছাড়া খালি গায়ে কিংবা গেঞ্জি পরা কিছু সংখ্যক আনসার সদস্যকে রাস্তায় বসে আছেন।
এ সময় শিক্ষার্থী ও আনসার সদস্যদের মাঝে ব্যারিকেড হয়ে সেনা সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
সেনা সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত হতে অনুরোধ করছিলেন।
এ সময় আনসার সদস্যদের শার্ট পোড়াতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক জানান, দুইজন সমন্বয়ককে অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে রাতে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে সচিবালয়ের সামনে আসতে থাকে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন এ সময় তাদের উপর চড়াও হয় আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
একইসাথে গুলিও চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
একইসাথে ত্রাণের ট্রাকও আটকে দিয়েছে আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে জানানো হয়েছে, আহত অবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।