আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ 'শক্তভাবে প্রতিহতের' ঘোষণা সরকারের, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মধ্যরাতেও ভিড়, ভারতের নিন্দা

ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ 'শক্তভাবে প্রতিহতের' ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ভাঙচুর চলছিল। শেখ মুজিবের বাড়ি ভাঙার ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, “এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা তীব্র নিন্দনীয়!” সর্বশেষ খবরাখবর জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

সরাসরি কভারেজ

  1. বৃহস্পতিবার যা যা ঘটেছে

    • সারাদেশে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় 'গভীর উদ্বেগ' প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, "সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড শক্তভাবে প্রতিহত করবে।"
    • ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের বাড়িতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ভাঙচুর চলে। বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষের ভিড় রয়েছে সেখানে।
    • ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ভাঙচু্র ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভারত সরকার একটি বিবৃতি দিয়েছে।
    • ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে, পলাতক অবস্থায় ভারতে বসে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে জনমনে গভীর ক্রোধের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
    • শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের বিপক্ষে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য ভারতকে লিখিতভাবে বলা হয়েছে এবং তাদের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে তা বলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
    • ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা স্থাপনায় ভাঙচুর ও হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র।
    • ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফর এবং বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়ার পেছনে ‘অর্থ অপচয়’ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
    • অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে রাত আটটা নাগাদ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয় তাকে।
    • দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে আয়নাঘর পরিদর্শন করবেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
    • বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য চলতি বছর একুশে পদক পাচ্ছেন ১৪ জন নাগরিক এবং বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এর মধ্যে ছয় জন মরণোত্তর সম্মাননা পাচ্ছেন।
    • ঢাকায় ছিনতাই ঠেকাতে ট্রাফিক সার্জেন্টদের হালকা অস্ত্র দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
    • ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে উত্তীর্ণ ছয় হাজার ৫৩১ জন প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। মেধার ভিত্তিতে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয় এসময়।
    • নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    সর্বশেষ সংবাদ ও বিশ্লেষণ জানতে ভিজিট করুন বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট

  2. ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ 'শক্তভাবে প্রতিহতের' ঘোষণা অন্তর্বর্তী সরকারের, গভীর রাতে বিবৃতি

    সারাদেশে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় 'গভীর উদ্বেগ' প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।

    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই বিবৃতি পাঠানো হয়।

    এতে বলা হয়, "অন্তর্বর্তী সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে কতিপয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সারাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছে।"

    "সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড শক্তভাবে প্রতিহত করবে," বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    এতে আরো বলা হয়, "অন্তর্বর্তী সরকার নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রস্তুত। কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে দায়ী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং দোষীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।"

    দু'দিন ধরে ঢাকায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাড়িসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি-ঘর ও শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি ভাঙচুর করা হয়।

    এসব ঘটনায় সরকারের দিক থেকে সেভাবে শক্ত অবস্থান দৃশ্যমান ছিল না।

    ফলে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার বিকেলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বিবৃতি দেওয়া হয়।

    তাতে বলা হয়, "ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত।"

    একই সঙ্গে বলা হয়, "পলাতক অবস্থায় ভারতে বসে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে জনমনে গভীর ক্রোধের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।"

    এরপর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে সরকারের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়।

  3. শেখ মুজিবের বাড়ি প্রায় ধ্বংসস্তূপ

    ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের বাড়িতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ভাঙচুর চলছিল।

    টানা দুই দিন এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে ভাঙা বাড়িটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    সেই ধ্বংসস্তূপ থেকেই ভবন ভাঙার হাতুড়ি দিয়ে দেয়ালের রড বের করে তা সংগ্রহ করেন কেউ কেউ।

    বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের বলছিলেন, ভবনটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে না দেয়া পর্যন্ত এই স্থান থেকে যাবেন না তারা।

    বুধবারের মত বৃহস্পতিবার রাতেও বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষের উপস্থিতি ছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে।

    একদিকে ভাঙার কর্মকাণ্ড চলছিল অন্যদিকে দেখা যায় রান্নার আয়োজন।

  4. ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনায় ভারতের নিন্দা

    বাংলাদেশের ঢাকায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ভাঙচু্র ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভারত সরকার একটি বিবৃতি দিয়েছে।

    সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে উদ্ধৃত করে সেখানে বলা হয়েছে, “শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি দখলদার বাহিনী ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের বীরোচিত প্রতিরোধের মূর্ত প্রতীক ছিলেন, তার ঐতিহাসিক বাসভবনটি যেভাবে পাঁচই ফেব্রুয়ারি ধ্বংস করা হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

    “সেই স্বাধীনতার সংগ্রাম বাংলার পরিচিতি ও গর্বকে লালন করেছিল। আর যারাই সেই লড়াইকে মর্যাদা দেন তারাই জানেন বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার ক্ষেত্রে এই বাসভবনটির গুরুত্ব কতটা ছিল!” বলা হয় ভারতের বিবৃতিতে।

    এতে আরো বলা হয়, “এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা তীব্র নিন্দনীয়!”

    ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর আগে বাংলাদেশ সরকার তাকে যে বার্তা দিয়েছে সে ব্যাপারে দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

  5. হামলা-ভাঙচুর করে কেউ টিকতে পারে না: শেখ হাসিনা

    বাংলাদেশে গত কয়েক দিন আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জুলুম করে কেউ টিকে থাকতে পারে না।

    বৃহস্পতিবার দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে অনলাইনে কথা বলেন শেখ হাসিনা। যেটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সরাসরি প্রচার করে দলটি।

    শেখ হাসিনা বলেছেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ ঘর-বাড়ি পোড়ানোর ঘটনা একটি বড় অপরাধ।

    “এতো জুলুম করে কেউ টিকতে পারে না ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না," বলেন তিনি।

    গত পাঁচই অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। সেখান থেকেই অনলাইনে কথা বলেছেন তিনি।

    বুধবার অনলাইনে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বাসভবন 'সুধাসদনে' হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    এছাড়া, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুরসহ দেশের আরো কয়েকটি স্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মন্ত্রী, এমপিসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ও শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়।

  6. শেখ হাসিনার বিদেশ সফরে অর্থ অপচয় হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখবে দুদক

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফর এবং বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়ার পেছনে ‘অর্থ অপচয়’ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

    বৃহস্পতিবার দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

    শেখ হাসিনার বিদেশ ভ্রমণ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাওয়ার পেছনে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের অভিযোগ তুলেছে দুদক।

    মি. হোসেন বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে কমিশন এসব বিষয় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ সফরে গেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ভাড়া করতেন সরকারি টাকায়। নিয়ে যেতেন ‘সফরসঙ্গীদের বিশাল বহর’।

    ক্ষমতায় থাকাকালে গত ১৬ বছর জাতিসংঘের প্রায় প্রতিটি সাধারণ অধিবেশনে সরকার প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। প্রতিবারই নিউইয়র্ক ‘বিশাল বহর’ নিয়ে যেতেন।

  7. অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন আটক

    অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা কার্যালয়ে রাত আটটা নাগাদ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে।

    বিবিসি বাংলাকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক।

    তিনি বলেন, "তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। আমাদের কাছে খবর আছে সে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সে অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।"

    তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে কিনা এ প্রশ্নে জানান, এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটি পরে জানানো হবে।

    গত কয়েকদিন যাবত অভিনেত্রী শাওন ফেসবুকে অন্তর্বর্তী সরকার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের নিয়ে সমালোচনা করে পোস্ট দিয়েছেন।

    তিনি প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী।

  8. আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে 'বঞ্চিত' অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শিগগিরই পাবেন বকেয়া টাকা

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনপ্রশাসনে 'বঞ্চিত' ৭৬৪ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের শিগগিরই আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান।

    ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মি. রহমান জানিয়েছেন, উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে এসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এ তথ্য জানান তিনি।

    “বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য সুসংবাদ। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য গঠিত বঞ্চনা নিরসন কমিটির (বনিক) প্রতিবেদনের আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত সারসংক্ষেপ মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে,” লিখেছেন তিনি।

    সচিব পদে ১১৯ জন, গ্রেড- ১ পদে ৪১ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮ জনকে পদোন্নতির অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন মি. রহমান।

    এছাড়া যুগ্মসচিব পদে ৭২ জন এবং উপসচিব পদে চার জনের পদোন্নতির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    “পদভিত্তিক আলাদা আলাদা জিও জারি করে দ্রুত বকেয়া টাকা প্রাপ্তির জিও জারি করা হবে,” বলে ফেসবুকে জানিয়েছেন মি. রহমান।

    আওয়ামী লীগের আমলে ২০০৯ সাল থেকে গত ৪ঠা অগাস্ট পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে নানাভাবে বঞ্চনার শিকার এবং অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই বঞ্চনা নিরসন কমিটি গঠন করা হয়।

  9. আয়নাঘর পরিদর্শনে যাবেন প্রধান উপদেষ্টা

    আয়নাঘর পরিদর্শন করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা তার সঙ্গে আয়নাঘর পরিদর্শনে থাকবেন বলেও জানানো হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

    প্রেস উইং এক বার্তায় জানায়, যত দ্রুত সম্ভব আয়নাঘর পরিদর্শন করবেন প্রধান উপদেষ্টা।

    এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের সভায় রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য পরিবহন, ব্যাপকহারে আমদানি ও সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    রমজানে লোডশেডিং না রাখা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আলোচনা হয়।

  10. একুশে পদক পাচ্ছেন ১৪ ব্যক্তি ও জাতীয় নারী ফুটবল দল

    বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য চলতি বছর একুশে পদক পাচ্ছেন ১৪ জন নাগরিক এবং বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এর মধ্যে ছয় জন মরণোত্তর সম্মাননা পাচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মনোনীতদের নাম প্রকাশ করেন।

    পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তিরা হলেন–– শিল্পকলায় (চলচ্চিত্র) আজিজুর রহমান (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) উস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) ফেরদৌস আরা, শিল্পকলা (আলোকচিত্র) নাসির আলী মামুন, শিল্পকলায় (চিত্রকলা) রোকেয়া সুলতানা।

    এছাড়া সাংবাদিকতায় মাহফুজ উল্লাহ (মরণোত্তর), সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারে মাহমুদুর রহমান, সংস্কৃতি ও শিক্ষায় ড. শহীদুল আলম, শিক্ষায় ড. নিয়াজ জামান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেহেদী হাসান খান, সমাজসেবায় মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী (মরণোত্তর) পদক পাচ্ছেন।

    কবি হেলাল হাফিজ পাচ্ছেন ভাষা ও সাহিত্যে, এ বিভাগে মরণোত্তর একুশে পদক পাচ্ছেন শহীদুল জহির এবং গবেষণায় মঈদুল হাসান।

    এছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছরের একুশে পদক পাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল।

    উল্লেখ্য, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের তৈরি ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি করে পদক, চার লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে পদকপ্রাপ্তদের।

    বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক দেয়া শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর প্রবর্তন করেন।

  11. ট্রাফিক সার্জেন্টদের 'স্মল আর্মস' দেওয়ার ঘোষণা ডিএমপির

    ঢাকায় ছিনতাই ঠেকাতে ট্রাফিক সার্জেন্টদের স্মল আর্মস (হালকা বা ছোট অস্ত্র) দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

    আজ বৃহস্পতিবার উত্তরায় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি আয়োজিত ‘ঢাকা মহানগরীতে কাউন্টার ও ই-টিকিটিং পদ্ধতিতে বাস চলাচল’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার এ কথা বলেন।

    উত্তরার হাউস বিল্ডিং থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত ছিনতাই প্রতিরোধের ব্যবস্থা কী এমন প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “এই এলাকায় ছিনতাই হয়। এর আগেও আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। এক মাস আগেও রাজধানীতে ছিনতাইয়ের প্রকোপ বেড়েছিলো। ব্যাপক ধরপাকড়ের কারণে ১৫ দিন ধরে ছিনতাই খুব কমে গেছে। কারণ তাদের (ছিনতাইকারীদের) জেলে রাখা হয়েছে।”

    মি. আলী বলেন, “আপনারা জানেন, আমাদের জনবল কম। ট্রাফিকের লোক আরও অসহায়। একজন ডিউটি করেন। তারা নাজুক অবস্থায়। সার্জেন্টদের স্মল আর্মস দিয়ে দিচ্ছি তিনি যেন এক, দুই বা তিন জন ছিনতাইকারী মোকাবিলা করতে পারেন।”

    বুধবার রাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলা ও ভাঙচুরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে মি. আলী বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি। রাত দুইটা-আড়াইটা পর্যন্ত আমি মনিটরিং করেছি।”

  12. ধানমন্ডিতে শেখ মুজিবের বাড়ি ও সারা দেশে ভাঙচুর-লুটপাটের নিন্দা আসকের

    রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা স্থাপনায় ভাঙচুর ও হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

    গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, “বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে সারা রাত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানান স্থাপনায় ভাঙচুর ও হামলার এই ঘটনাগুলোকে আইনের শাসন, আইনের সমান আশ্রয় লাভ ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের পরিপন্থী বলে আসক মনে করে।”

    গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে আসক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, “ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে হামলা এবং ধ্বংস করার মতো একটি ঘোষণা গতকাল (বুধবার) দিন জুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালাতে দেখা যায়।"

    "এর পরপরই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সেখানে ছাত্র-জনতা নামে একদল লোক জড়ো হয়ে ভাঙচুর, তাণ্ডব, লুটপাট শুরু করে। এক পর্যায়ে সেখানে আগুন দেয়া হয়।”

    আইন ও সালিশ কেন্দ্র গণমাধ্যমের সংবাদের বরাত দিয়ে বলছে, সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে উপস্থিত থাকলেও তাদের কোনো তৎপরতা ছিল না, বরং সেনাবাহিনীর দলটি এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে সারা দেশে এই ভাঙচুর ও লুটপাট ছড়িয়ে পড়ে।

    এছাড়া আজ বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির সুধা সদনে লাগানো আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের 'নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায়' উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এই মানবাধিকার সংস্থাটি।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মানবাধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসনের চেতনার প্রতি আসক পরিপূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং সমর্থন করে বলে জানিয়েছে আসক।

    একইসাথে আসক মনে করে, “চলমান তাণ্ডবগুলো গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা হুমকিস্বরূপ।”

    সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে আসকের পক্ষ থেকে।

  13. ছেলেসহ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ২৮টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের ১৬টি এবং তার ছেলে রাহার মালেকের ১২টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা জব্দ করার আদেশ দিয়েছে আদালত।

    বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের করা আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

    দুদকের করা আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের নামে ব্যাংক হিসাবগুলোতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আসামিরা বর্ণিত হিসাবগুলোয় রক্ষিত অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন।

    মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ব্যাংক হিসাবগুলোয় রক্ষিত অর্থ হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে তদন্তে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করেছে দুদক।

    পরে আদালত ওই আদেশ দিয়েছে।

  14. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেলো দুদক

    দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।

    বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির জন্য দুপুরে ঢাকার একটি বিচারিক আদালতের এজলাসে তোলা হয় তাকে। পরে রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেয় আদালত।

    এর আগে গত বুধবার বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে দুদক।

    কিন্তু আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন শুনানির জন্য আজকের দিন ঠিক করেন।

    দুদকের রিমান্ড আবেদনে শিবলী রুবাইয়াতের বিরুদ্ধে তিন কোটি ৭৬ লাখের বেশি টাকার ঘুষ গ্রহণ এবং দেশে অবৈধভাবে টাকা আনার অভিযোগ করা হয়।

  15. ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারের কী ভূমিকা ছিল ‘সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই’- হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

    ধানমন্ডি ৩২ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারের কী ভূমিকা ছিল “সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই” বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি আরও বলেছেন, ভারতে বসে শেখ হাসিনা “দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে”।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুরের প্রসঙ্গে টেনে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “গতকালকে যে ঘটনা ঘটেছে সেটি এখনও চলমান, সেটি এখনও শেষ হয় নাই। এটি কারা করেছে এই তথ্য আমাদের কাছে নেই। এতে সরকারের কী ভূমিকা ছিল সেই তথ্যও আমাদের কাছে নেই। সুতরাং আমরা অল্প কিছু সময় আশা করব… আজকের দিনের মধ্যে সব কিছু পরিষ্কার হয়ে হবে… কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, কারা এজন্য দায়ী… সকল পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেলে আমরা এই সম্পর্কে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া মিডিয়ার সামনে জনগণের সামনে প্রকাশিত করব। অপূর্ণ তথ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সঠিক নয়।”

    তিনি বলেন, ‘‘আমরা ধারণা করছি, এগুলো গণতন্ত্রকে ধবংস করার জন্য, আগামী দিনে গণতন্ত্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে সেজন্য কেউ কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ আছে তা জানার চেষ্টা করব।”

    মি. হাফিজ বলেন, “পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে বসে এদেশকে আনস্টেবল সিচ্যুয়েশনে নেবার জন্য, এদেশকে ধবংস করতে যেটুকু তিনি বাকি রেখেছেন সেটি পূর্ণ করার জন্যে নতুনভাবে এই ফ্যাসিস্ট দলকে (আওয়ামী লীগ) নিয়ে মাঠে নামতে চান।”

    তিনিআরও বলেন, “এখন প্রয়োজন বাংলাদেশে সকল দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্য। বিশেষ করে যে ছাত্রসমাজ অংশ গ্রহন করেছে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে তাদের এবং হাসিনাবিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য আমরা গড়ে তুলতে চাই।”

  16. শেখ হাসিনার 'সহিংস আচরণের প্রতিক্রিয়ায়' বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা: অন্তর্বর্তী সরকার, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িসহ ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি

    ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে, পলাতক অবস্থায় ভারতে বসে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে জনমনে গভীর ক্রোধের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করছে তারা।

    বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "গত ছয় মাসে ৩২ নম্বর বাড়িটিতে কোনো ধরনের আক্রমণ, ধংসযজ্ঞ হয়নি। গতকাল রাতে এটি ঘটেছে পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে যার দুটো অংশ আছে। একটা অংশ হলো, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আত্মদান করেছেন শেখ হাসিনা তাদেরকে অপমান করেছেন, অবমাননা করেছেন। শহিদের মৃত্যু সম্পর্কিত অবান্তর, আজগুবি ও বিদ্বেষমূলক কথা বলে পলাতক শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবজ্ঞা করেছেন ও অশ্রদ্ধা জানিয়েছেন।"

    এতে আরো বলা হয়েছে, "মানুষের মনে জুলাই গণহত্যা নিয়ে যে ক্ষত রয়েছে সে ক্ষততে শেখ হাসিনা একের পর এক আঘাত করে চলছেন। তার এই সহিংস আচরণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকার দেশ ও জনগণের জানমালের রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক আছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার যথাযথ চেষ্টা করছে," বিবৃতিতে যোগ করা হয়েছে।

    এতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, "সরকার আশা করে, ভারত যেন তার ভূখণ্ডকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে এমন কাজে ব্যবহৃত হতে না দেয় এবং শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেয়।"

    শেখ হাসিনা বক্তৃতা দেবেন এ কথা চাউর হওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বুলডোজার দিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন অনেকে। রাত ৯টার দিকে শেখ হাসিনার সেই ভাষণটি শুরু হওয়ার আগে থেকেই সেখানে ভাঙচুর শুরু করে বিক্ষুব্ধরা।

  17. শেখ হাসিনাকে ‘বিরত রাখতে’ ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

    ভারত থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য-বিবৃতির কারণে গতকাল বুধবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর ও আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। শেখ হাসিনা যাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এ ধরনের বক্তব্য না দেন, তাকে বিরত রাখার জন্য ভারতকে লিখিতভাবে বলা হয়েছে এবং তাদের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে তা বলে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

    রাজধানীর ৩২ নম্বরে আজ ও গতকালের ভাঙচুরের ঘটনা তুলে ধরে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে মি. হোসেন বলেন, “ দেখুন প্রথম কয়েক দিনে একটু আইনশৃঙ্খলা সমস্যার পরে আস্তে আস্তে কিন্তু সবকিছু স্ট্যাবিলাইজ করে আসছিলো। আপনারা একটা জিনিস খেয়াল করবেন, এ ধরনের ঘটনা তো তখনেও ঘটতে পারতো। ঘটেনি কিন্তু।”

    “কিন্তু অবস্থানটা হচ্ছে এরকম যে শেখ হাসিনা ভারতে থেকে যে সমস্ত বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন সেটাকে ছাত্র-জনতা ভালোভাবে নেয়নি। তিনি অবিরাম প্রোভোক (উসকানি) করতেছেন। তারই ফলশ্রুতিতে এ ঘটনাটা ঘটতেছে বলে আমাদের বিশ্বাস। আর যদি তিনি এ ধরনের ঘটনা থেকে বিরত থাকতেন তাহলে এরকম ঘটনা হয়তো ঘটতো না,” দাবি করেন মি. হোসেন।

    এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আপনারা জানেন যে সেনাবাহিনীও কিন্তু সেখানে উপস্থিত রয়েছিলো এবং তারা কনটেইন করতে পেরেছিলো যাতে বাড়াবাড়ি এর চেয়ে বেশি কিছু না হয়। তারা তো যখন শুরু হয়ে গেছে তখন সম্পূর্ণ থামাতে পারেনি। কিন্তু এটা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে বা আরও যাতে ক্ষতি না হয় এটা তারা কনটেইন করতে পেরেছিলো।”

    শেখ হাসিনা যাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এ ধরনের বক্তব্য না দেন, তাকে বিরত রাখার জন্য ভারতকে লিখিতভাবে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

    তিনি বলেন, “এখনও আমরা জবাব পাইনি। আজ আবারও তাদেরকে আমরা গত কয়েক দিনের পরিস্থিতির জন্য প্রোটেস্ট নোট দিয়েছি। হাইকমিশনার এখন নেই, তাই অ্যাকটিং হাইকমিশনারকে ডেকে এ ধরনের প্রোভোক করার প্র্যাকটিসটা বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছি।”

    পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক প্রশ্নে মি. হোসেন বলেন, “পাকিস্তানের সাথে আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার কাজটা, আমরা দাঁড়িয়ে থাকলে তাদেরও কোনো লাভ নেই, আমাদেরও কোনো লাভ নেই। আমরা নিশ্চয়ই আমাদের স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি আমরা চাইবো যে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কটা আমরা আরেকটি দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক হিসেবে দেখতে চাই, নিয়ে যেতে চাই।”

    পাকিস্তানের সাথে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মি. হোসেন বলেন, “এটার পজিটিভ বেনিফিটস আছে। আমরা চেষ্টা করবো আমাদের সর্বোচ্চ বেনিফিট যাতে আদায় করতে পারি”।

  18. সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাঙচুরের পর আগুন

    সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ লোকজন।

    আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারটার দিকে বাঘা উপজেলার আরানী পৌরসভায় অবস্থিত মি. আলমের বাড়িতে ভাঙচুর ও পরে আগুন দেয়া হয়।

    আগুনে চারতলা ভবনটির বেশিরভাগ কক্ষ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহীর একজন স্থানীয় সাংবাদিক জানান, সকাল সাড়ে এগারটার দিকে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ জনের একটি মিছিল বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে শাহরিয়ার আলমের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়। তাদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতা, বিএনপি, জামায়াতের স্থানীয় কর্মীরাও ছিলেন।

    বাড়ির প্রধান দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সবগুলো রুমে ভাঙচুর চালান তারা। এরপর সোয়া ১২টার দিকে বাড়িতে আগুন দেয়া হয়।

    এ সময় পুরো চার তলা ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দে চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টা খানেক পর ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।

    রাজশাহীর পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, এখন সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত আছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

  19. ভবন ভাঙতে বুলডোজার কোথা থেকে এলো- এ নিয়ে প্রশ্ন

    বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনসহ দেশের নানা স্থানে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    এসময় ভেকু ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে দেখা যায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি। খুলনা ও কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ভাঙার সময়ও ভেকু ও বুলডোজার ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

    অনেকেই বলছেন, আগেই ঘোষণা দেয়া কর্মসূচি ঠেকাতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কেন? একইসঙ্গে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এসব বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।

    এ নিয়ে গণ অধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূর বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এখানে মনে হয় সরকারের ভেতর থেকে সমর্থন রয়েছে। না হলে তো এভাবে পূর্ব ঘোষণা দিয়ে এই পদক্ষেপ নেয়া কিংবা এই কর্মযজ্ঞে পাবলিককে উত্তেজিত করে অস্থিরতা তৈরি করা – এটা তো সরকারের ভেতরের সমর্থন ছাড়া হওয়ার কথা না।”

    একই সঙ্গে উপদেষ্টাদের দিকেও আঙুল তুলে তিনি বলেন, “আমরা তো দেখি নাই সরকারের ভেতর থেকে এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বরং সরকারের উপদেষ্টাদের কারও কারও ফেসবুকে লেখাতেও আমরা দেখেছি যে এটাতে সমর্থন রয়েছে। সরকার যদি এই ধরনের কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেয় তাহলে তো নৈরাজ্য তৈরি হবেই।”

    অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলছেন, এই ঘটনায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুবই দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।

    বিশেষ করে এই বুলডোজার কোথা থেকে এলো- এমন প্রশ্নও তুলে তিনি বলেন, “সরকার যদি এভাবে এটাতে ইনভলভ হয়ে যায় সেটা খুবই দুঃখজনক এবং খুবই উদ্বগের কারণ। এরকম পথ থেকে সরকারকে অবিলম্বে সরে আসা উচিত।”

  20. প্রাথমিকের সাড়ে ছয় হাজার সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল

    ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে উত্তীর্ণ ছয় হাজার ৫৩১ জন প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। মেধার ভিত্তিতে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয় এসময়।

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

    সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা অনুসরণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে ফলাফল প্রকাশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন নিয়োগবঞ্চিত ৩০ জন প্রার্থী। ওই রিটের শুনানি শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করে।

    গত বছরের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে রায় দেয় আপিল বিভাগ। এ রায়ের ফলে শিক্ষকদের নিয়োগ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

    সবশেষ, গত ১৯শে নভেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে উত্তীর্ণ ছয় হাজার ৫৩১ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট।

    এদিকে এ রায়ের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের সামনেই বিক্ষোভ করেন এই নিয়োগ হারানো অনেকে।