‘আন্তর্জাতিক অপরাধ
(ট্রাইব্যুনাল) সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৪’–এর খসড়ায় সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশের যে বিধান প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা বাদ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
তবে আরও কিছু সংশোধনী এনে
করা অধ্যাদেশের খসড়াটি অনুমোদন দিয়েছে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
এর ফলে ট্রাইব্যুনালের আওয়ামী
লীগ নেতাদের বিচার করা গেলেও তারা দলের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে
পারবে না।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ
সম্মেলনে এ কথা জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনাতে বলা হয়েছে আমরা এই
বিচারকে অন্য কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত করতে চাই না। রাজনৈতিক দল বা বড় সংগঠনকে
নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন আসলে এই আইনকে অযথাই প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে আমরা
সেই সুযোগ দিতে চাই না”।
অধ্যাপক নজরুল বলেন, “কোন রাজনৈতিক দল বা অন্য কোন সংগঠন তাদের
অপরাধমূলক কার্যক্রমের জন্য যদি নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন হয় বা যদি নিষিদ্ধের দাবি ওঠে
তাহলে আমাদের অন্যান্য আইন রয়েছে, সে সমস্ত আইনে নিষিদ্ধ করার বিধান আছে”।
এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা
বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
নেয়ার সুযোগ তৈরি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়।
উপদেষ্টা বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর সন্ধ্যায় আইন উপদেষ্টা আইন উপদেষ্টা
বলেন, “আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিধানে আইনটি নাই দেখে যে আমাদের সেই সুযোগ
নেই তা নয়, যুদ্ধাপরাধ বিচার আইনে না থাকলেও অন্যান্য প্রচলিত আইন দেশে রয়েছে।''
তিনি জানান, পরবর্তীতে জনদাবি তৈরি হলে ও রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে
তার ভিত্তিতে যে কোন দলকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য নিষিদ্ধ করা যাবে।