ট্রাইব্যুনাল অধ্যাদেশের খসড়ায় রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে শাস্তির সুযোগ রাখেনি অর্ন্তবর্তী সরকার
পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনার পদে পরিবর্তন। বৃহস্পতিবার সেনাকুঞ্জে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আ’লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া প্রসঙ্গে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। সাবেক আইজিপি ও এনটিএমসির সাবেক প্রধানসহ আট কর্মকর্তার ট্রাইব্যুনালে শুনানি। দিনের ঘটনাপ্রবাহ জানতে যুক্ত থাকুন।
সরাসরি কভারেজ
বুধবার সারাদিন যা যা হলো
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনে রাজনৈতিক দলের
বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ না রেখে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকার।
বাহারুল আলমকে পুলিশের আইজি ও শেখ মো. সাজ্জাত আলী ডিএমপি
কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
আ’লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপি
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গণহত্যার মামলায় সাবেক পুলিশ প্রধান ও সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল
আহসানসহ আটজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের হাজির করে অভিযোগের শুনানি করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায়
ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় ব্লকেড' কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা।
ডেঙ্গুতে একদিনে দেশে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত একদিনে দেশে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু
হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর এই রোগে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪২৭ জনে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন
এক হাজার ৩৪ জন।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ
তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত একদিনে ডেঙ্গুতে খুলনা বিভাগে দুইজনের
মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও বরিশাল বিভাগে একজন করে মোট
তিনজন মারা গেছে।
অন্যদিকে গত একদিনে সবচেয়ে বেশি ১৮৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এলাকায়।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৬০ জন, খুলনা বিভাগে ১৪৫ জন, চট্টগ্রাম
বিভাগে ১২৮ জন, বরিশাল
বিভাগে ১১১ জন, রাজশাহী
বিভাগে ৬৫ জন, ময়মনসিংহ
বিভাগে ৩৬ জন, রংপুর
বিভাগে ১২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, গত কয়েক বছর ধরে সারা বছর জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে শাস্তির সুযোগ রাখেনি অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার
‘আন্তর্জাতিক অপরাধ
(ট্রাইব্যুনাল) সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৪’–এর খসড়ায় সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশের যে বিধান প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা বাদ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
তবে আরও কিছু সংশোধনী এনে
করা অধ্যাদেশের খসড়াটি অনুমোদন দিয়েছে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
এর ফলে ট্রাইব্যুনালের আওয়ামী
লীগ নেতাদের বিচার করা গেলেও তারা দলের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে
পারবে না।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ
সম্মেলনে এ কথা জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনাতে বলা হয়েছে আমরা এই
বিচারকে অন্য কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত করতে চাই না। রাজনৈতিক দল বা বড় সংগঠনকে
নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন আসলে এই আইনকে অযথাই প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে আমরা
সেই সুযোগ দিতে চাই না”।
অধ্যাপক নজরুল বলেন, “কোন রাজনৈতিক দল বা অন্য কোন সংগঠন তাদের
অপরাধমূলক কার্যক্রমের জন্য যদি নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন হয় বা যদি নিষিদ্ধের দাবি ওঠে
তাহলে আমাদের অন্যান্য আইন রয়েছে, সে সমস্ত আইনে নিষিদ্ধ করার বিধান আছে”।
এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা
বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
নেয়ার সুযোগ তৈরি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়।
উপদেষ্টা বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর সন্ধ্যায় আইন উপদেষ্টা আইন উপদেষ্টা
বলেন, “আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিধানে আইনটি নাই দেখে যে আমাদের সেই সুযোগ
নেই তা নয়, যুদ্ধাপরাধ বিচার আইনে না থাকলেও অন্যান্য প্রচলিত আইন দেশে রয়েছে।''
তিনি জানান, পরবর্তীতে জনদাবি তৈরি হলে ও রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে
তার ভিত্তিতে যে কোন দলকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য নিষিদ্ধ করা যাবে।
ছবির ক্যাপশান, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল
পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনার পদে পরিবর্তন
ছবির ক্যাপশান, নতুন আইজিপি বাহারুল আলম ও ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. ময়নুল ইসলাম ও ঢাকা
মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল হাসানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
পুলিশের আইজি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক
বাহারুল আলম।
আর ডিএমপির
কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপনে তাদেরকে
পুলিশের এই গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পদে তাদের দু্ই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, অন্য কোন পেশা, ব্যবসা কিংবা প্রতিষ্ঠানের সাথে
সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাদেরকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশের
বিশেষ শাখা বা এসবি প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন নতুন আইজি বাহারুল আলম। মি আলম ২০২০ সালে পুলিশের চাকরি থেকে অবসরে গিয়েছিলেন।
গত পাচই অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের
পরপরই মো. ময়নুল ইসলামকে আইজিপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার কিছু দিনের মধ্যে ডিএমপি
কমিশনার করা হয়েছিল মাইনুল হোসেনকে।
এ তথ্য নিশ্চিত
করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি বিবিসি
বাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে সেনাকুঞ্জের উদ্দেশে গুলশানের বাসা
থেকে বের হবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে যোগ দেবেন সেনাকুঞ্জের
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।
এর মাধ্যমে বহু বছর পর খালেদা জিয়া কোন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে সশরীরে অংশ নিচ্ছেন।
সেনাকুঞ্জের
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ
জানায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।
বিএনপি
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির ২৬
জন আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
সেনাকুঞ্জের
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূস প্রধান অতিথি থাকবেন বলে কথা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক শিক্ষাব্যবস্থা দরকার: অধ্যাপক ইউনূস
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেছেন, দেশে উদ্যোক্তাদের একটি প্রজন্ম তৈরি করতে হলে
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হতে হবে যাতে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে।
বুধবার
রাজধানীর সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা এ
মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এমন শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা উচিত নয় যেখানে
শুধু পরীক্ষার নম্বরের ওপর জোর দেয়া হয়। পরীক্ষার নম্বর কত পেল সেটাই যে সবকিছু
না, এটি সকলের
উপলব্ধি করা উচিত”।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতার যে
সম্ভাবনা রয়েছে তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে”।
তরুণ
সমাজের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমাদের তরুণদের ভাষা ও চিন্তা প্রক্রিয়া
বুঝতে হবে। আমাদের জানতে হবে কীভাবে প্রবীণ প্রজন্ম তাদের অভিজ্ঞতা তরুণ প্রজন্মের
সঙ্গে শেয়ার করে নিতে পারে”।
জাতীয় পাঠ্যক্রমে পারিবারিক মূল্যবোধ
অন্তর্ভুক্তির প্রতিও জোর দেন তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের
সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ও শিক্ষা সচিব
সিদ্দিক জোবায়ের উপস্থিত ছিলেন।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
সায়েন্সল্যাব এলাকায় সিটি ও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
ছবির উৎস, AFTAB SHUVO
ছবির ক্যাপশান, রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় সিটি কলেজ ও ঢাকা
কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে।
এসময় দুই পক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল ছোড়াছুড়ির
ঘটনাও ঘটে।
এই সংঘর্ষের কারণে সাইন্সল্যাব এলাকায়
মিরপুর সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে রয়েছে পুলিশ
ও সেনাবাহিনী।
এই সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া
গেছে।
রাজধানীর নিউ মার্কেট থানার ইন্সপেক্টর
তদন্ত মো. হাফিজুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বিকেলে তিনটার দিকে দুই কলেজ
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালোচ্ছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি
ভিডিওতে দেখা গেছে, কলেজ ইউনিফর্ম গায়ে দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা লাঠি সোঠা নিয়ে
রাস্তায় অবস্থান করছে।
কিছুক্ষণ পর পর দুই পক্ষকে ইট পাটকেল ছুড়তেও
দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এই সংঘর্ষের কারণে এই সড়কে কোন যান চলাচল
করতে দেখা যায় নি।
নিউ মার্কেট থানার পুলিশ কর্মকর্তা মি. ইসলাম
বিবিসি বাংলাকে বলেন, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন
তারা।
তবে এতে এখন পর্যন্ত কতজন আহত হয়েছে সেটি
নিশ্চিত করে বলতে পারেনি নিউ মার্কেট থানা পুলিশ।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলার শুনানি পিছিয়েছে
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ২৭শে নভেম্বর ধার্য করেছে আদালত।
বুধবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও এদিন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মো. আবু তাহের এই নতুন তারিখ ধার্য করেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী তার পক্ষে হাজিরা দেন।
আর, অন্য আসামিদের মাঝে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আদালতে হাজির হয়েছিলেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে এই মামলাটি করা হয়েছিল।
এই মামলার অভিযোগ ছিল– চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি শর্ত ভেঙে সরকারের চোখের সামনে অতিরিক্ত এলাকায় কয়লা খনন করে রাষ্ট্রের ক্ষতি করেছে এবং খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ২০১৮ সালে মামলায় হাজিরা শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে আসার সময় খালেদা জিয়া। (ফাইল ফটো)
আ’লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া প্রসঙ্গে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব, “আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ নাকি আমরা দিচ্ছি”- মির্জা ফখরুল
“আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ নাকি আমরা দিচ্ছি। এই কথাটি সঠিক না,” এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
“আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ একটা রাজনৈতিক দল। কে রাজনীতি করবে, কে রাজনীতি করবে না, তা নির্ধারণ করবে জনগণ। সুতরাং, এখানে কোনও ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নাই।”
বুধবার ফেনীতে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক বাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো যে আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হবে কি না। সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন – বিএনপি বলেছে, সব রাজনৈতিক দল অবশ্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তারা ইতোমধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার বলা সেই বক্তব্যের জের ধরে মি. আলমগীর বলেন যে এখানে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
“আমরা কখনোই কোনও দলকে নির্বাচন করতে মানা করিনি। কিন্তু যারা হত্যা করেছে, মানুষ খুন করেছে, অন্যায় করেছে, দেশের সম্পদ নষ্ট করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে, তাদেরকে অবশ্যই, হাসিনাসহ, সকলকে এনে বিচার করতে হবে, শাস্তি দিতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “জনগণ সিদ্ধান্ত নিবে যে তারা কাকে রাজনীতি করতে দিবেন, কাকে দিবেন না।”
ছবির উৎস, Screen Grab/BNP's Facebook Page
ছবির ক্যাপশান, বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
জিয়াউল আহসান ও আরো সাত কর্মকর্তাকে গণহত্যার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো
গণহত্যার মামলায় সাবেক পুলিশ প্রধান ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালকসহ আটজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তাদের বিষয়ে শুনানি চলছে।
এর আগে এদিন সকালে প্রিজন ভ্যানে করে তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় যাদেরকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে, তার হলেন– সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, এনটিএমসি’র সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব) জিয়াউল আহসান, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল কাফি, ডিএমপি’র সাবেক ডিসি মো. জসিম উদ্দিন মোল্লা, ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুর ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান, গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল হক এবং ঢাকা উত্তর ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।
ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান বলেছেন, “আমরা কারও কল রেকর্ড করি না।”
জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বুধবার তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। পরে তার বিরুদ্ধে গুম করে আয়নাঘরে নির্যাতন ও হত্যার তদন্তে পাওয়া অভিযোগ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
মি. ইসলাম শুনানিতে বলেন, “স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় যারাই কথা বলতো, তাদের গুম করে আয়না ঘরে নির্যাতনের পর হত্যার মূল কারিগর জিয়াউল আহসান।”
তবে জিয়াউল আহসান শুনানির শেষে ‘আদালতকে কিছু কথা বলতে চান’ বলেই বলা শুরু করেন।
এনটিএমসি’র এই সাবেক প্রধান বলেন, “আমি যেখানে চাকরি করি, সেটা হচ্ছে টেকনিকেল জিনিস। সেটা কেউ বুঝে না বলেই উল্টাপাল্টা কথা বলেন। আমরা কারেও কল রেকর্ড করি না।”
ছবির ক্যাপশান, প্রিজন ভ্যানে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয় আট কর্মকর্তাকে
সালমান, আনিসুল, পলকসহ আটজনকে নতুন কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে নতুন কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
ঢাকার মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, পল্টন, মিরপুর ও উত্তরা পশ্চিম থানার একাধিক মামলায় নতুন করে গ্রেফতার দেখানোর তালিকায় আরও আছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ দীপু মনি, জুনাইদ আহমেদ পলক, হাসানুল হক ইনু, কামাল আহমেদ মজুমদার, শাজাহান খান ও রাশেদ খান মেননকেও।
আজ বুধবার সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেয়।
এছাড়া, উত্তরা পূর্ব থানার ফজলুল করিম নামক একজনকে গুলি করে হত্যা মামলায় আনিসুল হককে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। যদিও এই রিমান্ডের বিরোধীতা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
ছবির ক্যাপশান, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত
ফ্যাসিবাদ বিলোপে “বিভাজন নয়, ঐক্য চাই”: হাসনাত
ফ্যাসিবাদ বিলোপে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, “বিভাজন নয়, ঐক্য চাই। ফ্যাসিবাদ বিলোপে ঐক্য চাই।”
আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি লিখেছেন, “বিএনপি, জামায়াতসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী কোনো দলের সাথেই শিক্ষার্থীদের ভেদাভেদ নেই। তাছাড়া, এই গণঅভ্যুত্থানের পরে একটি ব্যাপার দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে যে বিভেদ-বিভাজনের রাজনীতি কখনোই বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।”
সুতরাং, “আমরা বিভাজনের বদলে ঐক্য চাই। অপশাসনের বদলে সুশাসন চাই।”
“ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিতকরণে এই মুহূর্তে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের ঐক্য অপরিহার্য। সুতরাং, আমরা পারস্পরিক রেষারেষি, অবিশ্বাস ও দলাদলির বদলে একতা ও ঐক্যের দৃষ্টান্ত কায়েম করবো। একই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে আমরা সবাই আগামীতে এক হয়ে কাজ করবো,” আরও বলেন মি. আব্দুল্লাহ।
ওই পোস্টে তিনি এও বলেছেন, “এত রক্ত বিসর্জনের পরে আমরা কেউই আর ৭১ ও ৯০-এর ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি চাই না। আমরা যেমন চাই না আমাদের দেশে নতুন করে কেউ ফ্যাসিস্ট হিসেবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক, তেমনই চাই না যে আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে পুনরায় কোন বহিশক্তির আধিপত্য কায়েম হোক।
“দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থে এই মহৎ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমাদের সকলের একতা বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে দল-মত নির্বিশেষে আমরা এক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাব একই গন্তব্যের দিকে।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা করিম রাচির মৃত্যুর ঘটনায় 'জাহাঙ্গীরনগর ব্লকেড' কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আরিফুজ্জামান উজ্জল বিবিসি বাংলাকে বলেন, নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আফসানা করিম রাচির বন্ধুরা এই আন্দোলন করছে।
বুধবার সকাল পৌনে সাতটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকয়টি ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ব্যানারসমেত অবস্থান নিয়েছেন।
নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতসহ মোট আট দফা দাবিতে 'জাহাঙ্গীরনগর ব্লকেড' কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি চলায় ক্যাম্পাসে কোনও ধরনের যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো– ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করতে হবে; পর্যাপ্ত সড়কবাতি, ফুটপাথ ও গতিরোধক স্থাপন করতে হবে এবং যানবাহনে গতি পরিমাপক রাখতে হবে; নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; মেডিকেল সেন্টারের জরুরি সেবার মানোন্নয়ন করতে হবে; নিবন্ধনহীন সব যানবাহন ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নিবন্ধন প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে; সব রিকশাচালকের প্রশিক্ষণপূর্বক নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে; অদক্ষ নিরাপত্তাকর্মীদের প্রত্যাহার করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল করতে হবে।