ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ‘নির্মম সরকার’
আখ্যা দিয়েছেন।
আজ উত্তরাঞ্চলীয় আলিপুরদুয়ারে এক জনসভায় মি. মোদী পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন
তৃণমূল কংগ্রেসের 'তোষণের রাজনীতি', 'ব্যাপক দুর্নীতি' ও 'নারী
নির্যাতনের' সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে পহেলগামের হামলা ও পাকিস্তানের সঙ্গে
সামরিক সংঘর্ষের প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।
মাস দুয়েক আগে মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সময়ে
“তোষণের নামে গুন্ডাগিরি” হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নরেন্দ্র মোদী।
দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি অভিযোগ করে আসছে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস
মুসলমানদের তোষণের রাজনীতি করে ভোট ব্যাংক নিশ্চিত করার জন্য।
মুর্শিদাবাদের সংঘর্ষের সময়ে ক্ষমতাসীন দলে স্থানীয় এক নেতার সংশ্লিষ্টতার
বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত এক তদন্ত কমিটিও খুঁজে পেয়েছিল।
মি. মোদী বৃহস্পতিবার তার ভাষণে বলেন যে (তৃণমূল কংগ্রেস) দল,
তার
বিধায়ক এমনকি একজন পৌর প্রতিনিধি মানুষের বাড়ি চিহ্নিত করে আগুন দিয়েছে আর পুলিশ-
চুপ করে দেখেছে।
পশ্চিমবঙ্গ এখন পাঁচটি সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বলে তার ভাষণে বলেছেন মি.
মোদী।
তার মতে, এগুলো হলো সমাজে হিংসা ও অরাজকতা চলছে,
মা-বোনেরা
এখানে অসুরক্ষিত, যুবকরা চাকরি না পেয়ে হতাশ, একই সঙ্গে ব্যাপক
দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এখানে ক্ষমতাসীন দল গরীব মানুষের প্রাপ্য
ছিনিয়ে নেয় বলেও মন্তব্য করেন মি. মোদী।
সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ও তৃণমূল কংগ্রেসের তোষণের রাজনীতির প্রসঙ্গের পরেই
রাজ্যে স্কুল শিক্ষক দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এর ফলে
হাজার হাজার শিক্ষক যে চাকরি হারিয়েছেন শুধু তাই নয়, গোটা শিক্ষা
ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, শিক্ষকদের পরিবারগুলোকেও অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে তৃণমূল
কংগ্রেস।
“তৃণমূলের নেতাদের দুর্নীতির জন্য এখানকার বাচ্চাদের
ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এরা নিজেদের ভুল মানতেই চাইছেন না। উল্টে আদালতকে
আক্রমণ করছেন এরা। তৃণমূল সরকার অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। বিজেপি এটা
হতে দেবে না,’’ মন্তব্য নরেন্দ্র
মোদীর।
পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে পহেলগামের
ঘটনার পরে পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলো মানুষ।
“সন্ত্রাসীরা বোনের সিঁদুর মুছে দিয়েছিল। আমাদের
সেনাবাহিনী তাদের বুঝিয়ে দিয়ে এসেছে সিঁদুরের মূল্য। সন্ত্রাসবাদের সেইসব আস্তানা
ধ্বংস করা হয়েছে যা পাকিস্তান কল্পনাও করতে পারেনি,” বলেছেন মি. মোদী।
বাংলাদেশের নাম করে মি. মোদী বলেন যে পাকিস্তান “আজকের বাংলাদেশে ভয়াবহ
অত্যাচার চালিয়েছিল– খুন, ধর্ষণ চালিয়েছিল তারা। সেই ঘটনা কেউ ভুলতে পারবে না।”
তিনি এও যোগ করেন যে ‘অপারেশন সিন্দুর’ এখনো শেষ হয়নি।
আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন রয়েছে। তার আগেই নরেন্দ্র মোদী তার ভাষণে বিজেপির প্রচারের ‘মুড’ তৈরি করে
দিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
তিনি বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সহিংসতা, তোষণের রাজনীতি,
দাঙ্গা,
নারী
নির্যাতন ও দুর্নীতি থেকে মুক্তি চায়। বিজেপির উন্নয়নের মডেল পার্শ্ববর্তী আসাম,
ওড়িশাসহ অনেক রাজ্যেই চলছে। বিজেপিকর্মীরা তাই কোমর বেঁধে নেমে পড়ুন যাতে গণতন্ত্রের
প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বিশ্বাস আবারও ফেরানো যায়।"