আমেরিকা - ইউরোপের কূটনীতিকদের সফরের সময় বিএনপি 'একদফা কর্মসূচি' ঘোষণা করছে কেন?

গণঅধিকার পরিষদ
ছবির ক্যাপশান, গণঅধিকার পরিষদের সাথে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও নূরুল হক নূর।
    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইউরোপের কূটনীতিক তৎপরতার মধ্যে ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। মাত্র দেড় কিলোমিটারের জায়গার ব্যবধানে উভয় দল এই সমাবেশ করবে। বুধবার দুপুরের পরে ঢাকার নয়া পল্টনে সমাবেশ করবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং বায়তুল মোকারম এলাকায় সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দল যখন ঢাকা সফর করছে সেসময় দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের এই সমাবেশ নানা কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

বিএনপি বলছে, সমাবেশ থেকে ‘একদফা কর্মসূচি’ ঘোষণা করা হবে। কিন্তু সেই ‘একদফা কর্মসূচি’ কী হবে? ইউরোপ-আমেরিকার কূটনীতিকরা যখন ঢাকায় অবস্থান করছেন, তখন একদফা কর্মসূচির জন্য বিএনপি এই সময় বেছে নিয়েছে কেন?

সমাবেশ থেকে ‘একদফা কর্মসূচি’ ঘোষণার জন্য সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সমন্বয় করার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি। এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার নূরুল হক নূরের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদের সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপির এই সমাবেশের মাধ্যমে বিদেশীদের কাছে ‘রাজনৈতিক শক্তি’ তুলে ধরতে চাইছে।

আরও পড়তে পারেন:
বিএনপির সমাবেশ

ছবির উৎস, BNP MEDIA CELL

ছবির ক্যাপশান, গত বছর দেশের বিভিন্ন বিভাগে সমাবেশ করেছে বিএনপি

বিএনপি কী করছে?

গণঅধিকার পরিষদের সাথে বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

বৈঠক শেষে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন ১২ই জুলাইয়ের পরে তাদের আন্দোলন আরো শক্তিশালী হবে।

“আগামীকাল ১২ তারিখ আমরা সে উপলক্ষ্যে একটি যৌথ ঘোষণা দেব। যুগপৎ আন্দোলনের সাথে যারা আছে সবাই যার যার অবস্থান থেকে ঘোষণা দেবে এবং একই ঘোষণা আসবে।”

বিএনপির সাথে বৈঠকের পর নূরুল হক নূরের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বিএনপির একদফা দাবির প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে এবং ১২ই জুলাই কর্মসূচিতে তারাও থাকবে।

একই দিন আওয়ামী লীগ কর্মসূচি দিয়ে সংঘাত ও সহিংসতা করার পাঁয়তারা করছে বলে মি. নূর অভিযোগ করেন।

বিএনপি মনে করছে, কূটনৈতিক তৎপরতার পাশপাশি রাস্তায় সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সেটির জন্য এখনই ‘উপযুক্ত সময়’ মনে করছে দলটি।

দলটির চিন্তাধারা হচ্ছে , এখন একদফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে সেটির পরিপূর্ণ রূপ পেতে আরো কিছুুটা সময় লাগবে। কিন্তু এখন কর্মসূচি ঘোষণা না করলে সে সময় পাওয়া যাবে না বলেই তাদের ধারণা। কারণ নির্বাচনের আগে হাতে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মতো সময় আছে।

উজরা জেয়া

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ১১ই জুলাই ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল।

আওয়ামী লীগ কী ভাবছে?

গত বছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিএনপি যখন বিভাগীয় সম্মেলন শুরু করেছিল তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছিল।

বিএনপি ১২ই জুলাই যখন ঢাকায় সমাবেশ করবে তখন একই সময় সমাবেশের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগও। দলটি মনে করছে, তাদেরও রাস্তায় কর্মসূচির মাধ্যমে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজাহান খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিএনপি যাতে ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে’ না পারে সেজন্য তাদের সজাগ থাকতে হবে।

“আমাদের অবস্থান তো রাখতেই হবে, তারা যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। বিএনপি তো অতীতে সেটাই প্রমাণ করেছে,” বলেন মি. খান।

আওয়ামী লীগও চায় ঢাকার সমাবেশে অনেক বড় আকারে লোকসমাবেশ ঘটাতে। এজন্য সবগুলো ইউনিটে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, তারা যদি রাজপথে না থাকেন তাহলে সেটি বিএনপি এবং সরকার বিরোধীদের আয়ত্তে চলে যাবে। তবে একই দিন উভয়পক্ষের সমাবেশ থাকলেও কোন ধরনের সহিংসতা হবে না বলেই তাদের বিশ্বাস।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বিদেশীদের মনোযোগ আকর্ষণ?

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল বর্তমানে ঢাকা সফর করছে। এখন তারা বিভিন্ন পক্ষের সাথে কথা বলছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার নেতৃত্বে একটি দল ১১ই জুলাই ঢাকায় আসছে। তাদের এই সফরে অন্যতম আলোচ্য বিষয় হবে নির্বাচন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই বলেই বিদেশিরা বাংলাদেশে এসেছে।

“তারা এখানে নির্বাচন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সম্পর্কে জানতে আসছে। কারণ এখানে গণতন্ত্র নাই, এখানে নির্বাচন হয়নি, এখানে নির্বাচন হয় না,” বলেন মি. আলমগীর।

দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সাথে বৈঠক হবার কথা রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের। প্রশ্ন হচ্ছে, এমন অবস্থায় বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে গেল কেন?

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ঈদের আগে তাদের কর্মসূচি ছিল এবং ঈদের পরেও বিএনপি কিছু কর্মসূচি নতুন করে দিচ্ছে। ১১ইজুলাই সমাবেশ তারই অংশ।

“বিদেশিরা কবে আসবে কবে যাবে সেটা দেখে বিএনপি কর্মসূচি ঠিক করে না। এই সমাবেশের উদ্দেশ্য হচ্ছে একদফা কর্মসূচি ঘোষণা,” বিবিসি বাংলাকে বলেন শামা ওবায়েদ।

“আগামীকাল সমাবেশ থেকে একদফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একদফা দাবি হচ্ছে সরকারের পতন।”

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, ‘বিদেশীদের দেখানোর’ জন্যই বিএনপি সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। মঙ্গলবার মি. মাহমুদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির একদফা আন্দোলনের ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে না।

“তারা আসলে এই কর্মসূচিগুলো জণগণকে দেখাতে চায় না, বিদেশিদের দেখাতে চায়। বিদেশীরা তাদের শক্তি সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান তো, তাদের একট শক্তি দেখানোর চেষ্টা করছে মাত্র।

“দু:খজনক হলেও সত্য তাদের সমস্ত কর্মসূচি, সমস্ত কথাবার্তা, সেটি হচ্ছে বিদেশীদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা প্রসূত,” বলেন হাছান মাহমুদ।