আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইউক্রেন যুদ্ধে কী মূল্য দিতে হচ্ছে রাশিয়ার 'এলিট' বাহিনীকে
- Author, মার্ক আরবান
- Role, বিবিসি নিউজনাইট
রাশিয়ার ওপর ইউক্রেন যুদ্ধের কী প্রভাব পড়েছে তার একটা ভালো উদাহরণ হতে পারে কস্ট্রোমা। কারণ এই শহরটি একটি বহুল-প্রশংসিত রেজিমেন্টের আবাসস্থল, এবং তাদের নামও হয়েছে এই শহরের নামে। তা ছাড়া ক্রেমলিন তার প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে অভিযানের সময় প্রধান যে যুদ্ধগুলো হয়েছে - তাতে একেবারে সামনের কাতারে ছিল এই রেজিমেন্টটি।
গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে অভিযান শুরুর অল্প কিছুদিন পরই বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠান কস্ট্রোমার এয়ারবোর্ন রেজিমেন্টকে নিয়ে অনুসন্ধান চালায় - যার আসল নাম ৩৩১তম গার্ডস প্যারাশুট রেজিমেন্ট।
এই অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, যুদ্ধে এই রেজিমেন্টকে এবং তাদের শহরের জনগোষ্ঠীকে কী মূল্য দিতে হয়েছে।
আমরা গত বছরের এপ্রিলে ৩৯ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছিলাম। এখন নিহতের সংখ্যা ৯৪-তে উঠেছে।
এই তালিকা তৈরির জন্য অধিকাংশ তথ্য পাওয়া গেছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট আর 'ভি-কনটাক্টে' নামের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোর তথ্য সমন্বয় করে। 'ভি-কনটাক্টে'কে বলা যেতে পারে ফেসবুকের রুশ সংস্করণ।
এর পর আমরা উপগ্রহ এবং গুগল স্ট্রিট ভিউ-এর ছবির সাথে মিলিয়ে দেখেছি।
'ভি-কনটাক্টে'তে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কস্ট্রোমার উত্তর-পূর্বে একটি সমাধিক্ষেত্রে সৈন্যদের কবরের চিত্র। ওই ভিডিওত যেসব কবর দেখা যায় - তার সাথে আমাদের সংগৃহীত সৈন্যদের নাম মিলে যায়।
এই ৩৩১তম রেজিমেন্টের নিহত সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরো অনেক বেশি।
কিছু সৈন্যের বাড়ি কস্ট্রোমা শহরের বাইরে, এবং তাদের ক্ষেত্রে তথ্য সন্ধান করা ছিল অনেক বেশি কঠিন।
এ ছাড়া কিছু সৈন্যকে নিখোঁজ বলে রিপোর্ট করা হয়েছে এবং তাদের কেউ কেউ হয়তো নিহতদের মধ্যে থাকতে পারে।
এর সাথে যদি গুরুতর আহত এবং যুদ্ধবন্দী হওয়া সেনাদের সংখ্যা যোগ করা যায়, তাহলে অনুমান করা যেতে পারে যে ইউক্রেন যুদ্ধে এ বাহিনীটি কয়েকশ' সৈন্য হারিয়েছে।
সৈন্যদের প্রাণহানি নিয়ে এই কস্ট্রোমা শহরে প্রচুর আলোচনা হয়েছে।
মস্কো থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার উত্তর -পূর্বে এ শহরটির অবস্থান। এর জনসংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ।
গত বসন্তকালে একটি স্থানীয় ওয়েবসাইট বলেছিল যে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে - যা নয় বছর ধরে চলেছিলে - এ শহরের ৫৬ জন সৈন্য নিহত হয়েছিল।
ইউক্রেনে বিপুল সংখ্যক সৈন্য নিহত হওয়ায় ব্যাপারটিকে রাজনৈতিকভাবে সামাল দিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
কস্ট্রোমায় ক্রেমলিনের নিযুক্ত গভর্নর হলেন সের্গেই সিৎনিকভ। এ শহরের সৈন্যদের যে যথাযথভাবে সমর্থন দেয়া হচ্ছে তা স্থানীয় লোকজনকে বোঝানোর কাজে অগ্রগণ্য ভূমিকায় ছিলেন তিনি।
গভর্নর সিৎনিকভ যখন হাসপাতাল, ব্যারাক, এবং যুদ্ধক্ষেত্র সফরে গেছেন তা স্থানীয় টিভিতে দেখানো হয়েছে।
ডিসেম্বর মাসে এরকম একটি যুদ্ধক্ষেত্রে সফর করার সময় মি, সিৎনিকভ বলেন, "আমাদের এই লোকদের সমর্থন যোগাতে হবে যাতে তারা ভালো পরিবেশ পায়।"
তিনি তার সাথে নিয়ে এসেছিলেন বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া ড্রোন এবং সেবা-সামগ্রীর প্যাকেজ - যা জনগণের মধ্যে চাঁদা তুলে কেনা হয়েছিল।
গভর্নর সিৎনিকভ হচ্ছেন তার নিজ অঞ্চলে ভ্লাদিমির পুতিনের নিযুক্ত লোক। তাই তিনি একজন 'বিদ্রোহী' বা অপ্রিয় সত্য কথা নির্ভয়ে বলবার মত লোক - এমন মনে করার কারণ নেই।
কিন্তু তিনিই যে যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছেন বা সাংকেতিক ভাষায় ত্রুটিবিচ্যুতির কথা স্বীকার করছেন - একে তার নেতার সাথে তুলনা করলে একটা বৈপরীত্য বলে মনে করা যায়।
ছয় মাস আগে যখন স্থানীয় টিভিতে ৩৩১ রেজিমেন্টের প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সমাবেশ করানো প্যারাট্রুপারদের দেখানো হয় - তখন তার সাথে গভর্নর সিৎনিকভের খোলাখুলি মন্তব্যও দেখানো হয়।
তিনি বলেন, "আমি কামনা করি তোমরা যেন সুস্বাস্থ্য ও সাফল্যের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে কাজ শেষ করতে পারো এবং তার পর প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে পারো। "
এই প্যারাট্রুপারদের নিয়োগ ছিল রাশিয়ার ব্যাপকভিত্তিক সৈন্য সমাবেশের অংশ।
এতে বোঝা যায়, ইউক্রেনে অভিযানের কারণে রাশিয়ার পেশাদার বাহিনীর কতটা ক্ষতি হয়েছে। আর এই বাহিনীর একটা উজ্জ্বল রত্ন ছিল ৩৩১তম রেজিমেন্ট।
নভেম্বর মাসের প্যারেডের ফুটেজে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর আগে ১৫০ জন নতুন নিয়োগকৃত সেনাকে দেখানো হয়।
এই ৩৩১ রেজিমেন্টকে ইউক্রেনে প্রথম পাঠানো হয়েছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। সে সময় দুটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয় যাতে ছিল ১,০০০ থেকে ১,২০০ সৈন্য।
কিয়েভে পৌঁছানোর ব্যর্থ চেষ্টার সময় ব্যাপক প্রাণহানি হবার পর এ রেজিমেন্টটিকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তুলে নেয়া হয় এবং গত গ্রীষ্মকালে বেলগোরদ নামের রুশ গ্যারিসন শহরে এটিকে আবার নতুন করে গড়ে তোলা হয়।
পরবর্তীকালে এই রেজিমেন্টটিকে প্রায় সব বড় যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্রীষ্মের শুরুতে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ইজিয়ামে, এর পর খেরসনে, আর এখন তারা ফিরে এসেছে ডনবাসে।
কস্ট্রোমার সামাজিক মাধ্যমে মৃত্যু ঘোষণার তারিখগুলোর ওপর নজর রেখে প্রতীয়মান হয় - কখন এবং কোথায় কোথায় এই ইউনিটটিকে যুদ্ধ করতে পাঠানো হয়েছিল, এবং কোন সময়গুলোতে তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রগুলো থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।
ফেব্রুয়ারি মাসে বেশ কিছু সৈন্যের নিহত হবার ঘটনা দেখা যায়, যা ক্রেমিনায় ৩৩১ রেজিমেন্ট যখন যুদ্ধ করছে - সেই সময়কার।
প্রতিবারই সৈন্য হতাহতের পর দেখা যায়, তাদের জায়গা পূরণ করতে সেখানে নতুন সৈন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে নভেম্বর মাসে টিভিতে দেখানো নতুন সমাবেশকৃত সৈন্যরাও আছে। তার পরও , প্রথমে সেখানে যত সৈন্য ছিল - সেই সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসতে এবং ইউনিটের আকার ক্রমশঃ ছোট হতে দেখা যায় । সম্ভবত এখন ওই ফ্রন্টে ৩০০-৪০০র বেশি সেনা নেই।
এই প্রাণহানি এবং গুরুতরভাবে আহত সেনাদের ফিরে আসা - এর অভিঘাত লেগেছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীতে।
যুদ্ধ শুরু হবার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভি-কনটাক্টেতে একজন ব্যবহারকারী বলেন, "প্রতিদিনই আমাদের কস্ট্রোমার ছেলেদের ছবি প্রকাশিত হচ্ছে। আমার শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাচ্ছে। কী হচ্ছে? কবে এটা শেষ হবে?"
কস্ট্রোমার স্থানীয় সৈন্যদের স্মৃতিতে নানা অনুষ্ঠানের খবরও বেরোচ্ছে স্থানীয় মিডিয়ায়। ডিসেম্বর মাসে একটি টিভি স্টেশনে ইউক্রেনে নিহত ৩৩১ রেজিমেন্টের একজন প্যারাট্রুপার এডুয়ার্ড রিউনভের কবরের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানের রিপোর্ট দেখানো হয়।
এই রিপোর্টের স্টাইল ও ভাষা থেকে মনে হয় - এ যুদ্ধকে ১৯৪১-৪৫ সালের নাৎসীবিরোধী যুদ্ধের মত করে তুলে থরা হচ্ছে - যার অর্থ, আজকের সৈন্যরা একই রকম গুরুত্বপূর্ণ একটি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে।
যারা এ ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে -তারা খুব বেশি কিছু বলার সুযোগ পাচ্ছে না। কস্ট্রোমার ভি'কনটাক্টে পেজে একজন সম্প্রতি প্রশ্ন তোলেন - "ইউক্রেন আমার মাতৃভূমি নয়, আমাদের ছেলেরা অকারণে প্রাণ দিচ্ছে", এর পর খুব দ্রুত আরেকজন এর পাল্টা জবাব দিয়ে বলছেন, "এটা একটা নির্বোধের মত কথা। এসব জিনিস এখানে লেখার কোন মানেই হয় না।"
গভর্নর সিৎনিকভের কার্যক্রম থেকে বোঝা যায় যে কর্তৃপক্ষ - যারা এ যুদ্ধের হতাহতদের নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছে তাদের চেপে রাখতে চাইছে। বৃহত্তর রুশ জনগণের মধ্যে এ যুদ্ধের পক্ষে কতটা সমর্থন আছে তা স্পষ্ট নয়।
তবে যেসব ভিডিও আমরা দেখেছি তাতে মনে হয়, কস্ট্রোমার সেনা পরিবারগুলোর মধ্যে জোরালো সংহতি আছে।
সৈন্য ছাড়া যুদ্ধের অন্যান্য সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি থেকেও ৩৩১ রেজিমেন্টের অধোগতির একটা ধারণা পাওয়া যায় - বিশেষ করে এয়ারবোর্ন ইনফ্যান্ট্রি কমব্যাট ভেহিকলের ক্ষেত্রে - যাকে রুশরা বলে বিএমডি।
একের পর এক যুদ্ধে এগুলো ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রথম দিকে - যখন ৩৩১ রেজিমেন্ট একটি এয়ারবোর্ন ফোর্সেস টাস্ক ফোর্সের অংশ ছিল এবং কিয়েভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল - তখন এই যানগুলোকে যুদ্ধের ভিডিওতে চিহ্নিত করা আমাদের জন্য কঠিন ছিল।
সেই যুদ্ধে এই ইউনিটটিকে অন্যগুলো থেকে আলাদা করতে একটা ভি চিহ্ন আঁকা থাকতো। এ ছাড়া থাকতো একটি উল্টানো ত্রিভূজের ভেতরে ইংরেজি থ্রি সংখ্যাটি - যা ৩৩১ ছাড়া আরো একটি রেজিমেন্টও ব্যবহার করতো।
তবে আরো কিছুকাল যুদ্ধ চলার পর দেখা যায় ৩৩১ রেজিমেন্টের সৈন্যরা তাদের যানগুলোর ওপর 'ভি'এর সাথে একটি আশ্চর্যবোধক চিহ্ন (!) যোগ করেছে।
হয়তো তাদের কম্যান্ডাররা যেন অন্য রেজিমেন্টের যান থেকে তাদেরগুলোকে আলাদা করে চিনতে পারেন - সেজন্যই এটা করা হয়।
এর পর আমরা - ২০২২ সালের মার্চ মাসে ইউক্রেন থেকে তাদের সরিয়ে নেবার পর - যে ৩৩১ রেজিমেন্টকে রেল কারে তোলা হচ্ছিল, তাদের থেকে এই বিএমডিগুলোকে আলাদা করে চিনতে পারি।
গত গ্রীষ্মকালের যুদ্ধের সময় এদেরকে আবার দেখা যায় ডনবাসে।
বিশ্লেষকরা এই চিহ্ন দেখে কমপক্ষে ২৫টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বিএমডিকে সনাক্ত করতে পেরেছেন। ইউক্রেনের বাহিনীর সামাজিক মাধ্যম অ্যকাউন্টগুলো তন্ন তন্ন করে খুঁজে এগুলো পাওয়া যায়।
নিহত সৈন্যদের ক্ষেত্রে যেমন - এসব ধ্বংসপ্রাপ্ত যান দেখেও তেমনি সর্বমোট ক্ষতির ধারণা পাওয়া যায় না। কারণ কস্ট্রোমা রেজিমেন্টের অন্য অনেক বিএমডি হয়তো ধ্বংস হয়েছে যা ইউক্রেনীয় বাহিনী দেখতে পায়নি।
একটি রিপোর্ট - যা ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রচারিত হয়েছিল রুশ নেটওয়ার্ক এনটিভিতে - তাতে বলা হয় লুহানস্কে ৩৩১ রেজিমেন্টের একটি সাঁজোয়া গ্রুপ যুদ্ধ করছে। তবে এতে আমরা যে ধারণা করছি সেটারই নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে যে এটি এখন ছোট ছোট দল হিসেবেই টিকে আছে - যারা কিছু কিছু মিশনের পুরোভাগে দায়িত্ব পালন করছে।
ক্যামেরায় ধরা পড়া কল সাইন থেকে মনে হয় এই দলটি মাত্র তিনটি বিএমডি সাঁজোয়া যান দিয়ে গঠিত হয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, এই রেজিমেন্ট এক দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িত হয়ে পড়েছে। রুশ জনগোষ্ঠীর ওপর এর বৃহত্তর প্রভাব কী ধরনের - তার সম্পর্কে খুব সামান্যই ধারণা পাওয়া যায়।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ সম্পর্কেও কোন খোলাখুলি সংবাদ প্রচার হয়না।
২০১৪ সালের যুদ্ধে এই ৩৩১ রেজিমেন্টের বিরুদ্ধে শত শত ইউক্রেনীয় সৈন্যকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। অনেক ইউক্রেনীয়র চোখে এবারের যুদ্ধে রাশিয়ার যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তা এই প্যারাট্রুপারদের কর্মকাণ্ডের প্রতিফল ছাড়া আর কিছুই নয়।
অন্যদিকে - ইউক্রেনে রুশ অভিযানের ব্যর্থতার কী মূল্য দিতে হচ্ছে - তার প্রচুর প্রমাণ পাওয়া যায় কস্ট্রোমার কবরস্থানে গেলে।
এই রেজিমেন্টের সুনাম ছিল যে তার সৈনিকরা "সেরাদের মধ্যেও সেরা" ।
সেই সুনাম এবং সহজ বিজয়ের স্বপ্ন - দুটিই এখন কবরের মাটির তলায়।