আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এবারের ইউরোর কোন গ্রুপে কারা, ম্যাচগুলো কোথায়
অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চললো। কারণ ইউরোপিয়ান জাতীয় ফুটবল দলগুলো শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে ‘ইউরো ২০২৪’ টুর্নামেন্টে খেলা শুরু করবে।
ফুটবলে বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট বিবেচনা করা হয় ইউরোকেই।
এবারের উয়েফা ইউরোর ১৭তম আসর শুরু হতে যাচ্ছে জার্মানিতে।
টুর্নামেন্ট শুরু হবে কবে?
শুক্রবার ( ১৪ই জুন) থেকে ‘ইউরো ২০২৪’ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে।
এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। এই ম্যাচে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড।
২৬শে জুন পর্যন্ত গ্রুপ পর্বে প্রতিদিন দুই থেকে চারটি ম্যাচ হবে।
শেষ ১৬ বা দ্বিতীয় পর্বের খেলা শুরু হবে ২৯শে জুন থেকে।
টুর্নামেন্টের শেষ খেলা হবে ১৪ই জুলাই, বার্লিনের অলিম্পিয়াস্ট্যাডিয়নে।
এবারের আসরের বিশেষত্ব হচ্ছে, পশ্চিম আর পূর্ব জার্মানি এক হয়ে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইউরো’র আয়োজক হচ্ছে জার্মানি।
এর আগে সর্বশেষ জার্মানিতে ইউরো আয়োজিত হয়েছিলো ১৯৮৮ সালে এবং তার পরের বছরই বার্লিন ওয়াল ভেঙ্গে একক দেশ হিসেবে জার্মানির জন্ম হয়।
টিকেট বিক্রি শুরু হবে কবে থেকে?
প্রাথমিকভাবে গত বছরের তেসরা থেকে ২৬শে অক্টোবর পর্যন্ত টিকেট বিক্রি করা হয়েছিলো। সেইসময় টিকেট লটারির মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিলো।
উয়েফা ইউরো ২০২৪-এর আনুষ্ঠানিক টিকেট বিক্রি বন্ধ এখন।
উয়েফা ফুটবল অনুরাগীদের সতর্ক করেছে যে অননুমোদিত টিকিট বিক্রেতারা টিকেটের উচ্চ চাহিদাকে কাজে লাগানোর জন্য সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রতারণামূলক টিকেট অফার করে।
পছন্দের তালিকায় শীর্ষে কারা?
খেলা নিয়ে ব্রিটিশ বুকিজ বা জুয়ার সাইটগুলোর কাছে সবচেয়ে বেশি ফেভারিট হলো ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।
তারপর আছে স্বাগতিক দেশ জার্মানি এবং ২০০৮ ও ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
তাদের হিসাবে জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে কম হলো জর্জিয়া, আলবেনিয়া ও স্লোভাকিয়ার।
গ্রুপ
গ্রুপ এ: জার্মানি, স্কটল্যান্ড, হাঙ্গেরি, সুইজারল্যান্ড
গ্রুপ বি: স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি, আলবেনিয়া
গ্রুপ সি: স্লোভেনিয়া, ডেনমার্ক, সার্বিয়া, ইংল্যান্ড
গ্রুপ ডি: পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স
গ্রুপ ই: বেলজিয়াম, স্লোভাকিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন
গ্রুপ এফ: তুরস্ক, জর্জিয়া, পর্তুগাল, চেক প্রজাতন্ত্র
সবচেয়ে ভালো অবস্থানে কারা
এই টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে ছয়টি দল অপরাজিত ছিল। তার হলো- ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, রোমানিয়া এবং হাঙ্গেরি।
তবে পর্তুগালই একমাত্র দল, যারা প্রতিটি ম্যাচ জিতেছে। বাছাইপর্বে যোগ্যতা অর্জনের শেষ পর্যন্ত তারা ৩৬টি গোল করেছে এবং মাত্র দু’টি গোল হজম করেছে।
স্পেন এবং স্কটল্যান্ড মাত্র একটি করে ম্যাচ হেরেছে। এক্ষেত্রে, বাছাইপর্বে তুরস্ক এবং অস্ট্রিয়ার পার্ফরম্যান্সও বেশ নজর কেড়েছে।
পর্তুগাল বাছাইপর্বের প্রতিটি ম্যাচ জিতলেও সর্বোচ্চ গোলদাতা পর্তুগালের না।
বাছাইপর্বের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিল ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। তিনি বেলজিয়ামের হয়ে বাছাইপর্বের আটটি ম্যাচে মোট ১৪টি গোল করেছিলেন।
খেলা হবে কোন কোন স্টেডিয়ামে
অ্যালিয়ানজ ও অলিম্পিয়াস্ট্যাডিয়ন, একটু আগেই উপরে যে দুই স্টেডিয়ামের কথা বলা হয়েছিলো, টুর্নামেন্ট জুড়ে সবচেয়ে বেশি খেলা হবে এই দু’টো স্টেডিয়ামেই।
তবে এছাড়া জার্মানির আরও মোট ১০টি শহরে বিভিন্ন ম্যাচ আয়োজিত হবে।
টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো কোন কোন স্টেডিয়ামে হবে, তার তালিকা:
বার্লিন: অলিম্পিয়াস্ট্যাডিয়ন (ধারণক্ষমতা ৭০ হাজার)
কোহলোইন: কোহলোইন স্টেডিয়াম (৪৭ হাজার)
ডর্টমুন্ড: বিভিবি স্টেডিয়ন ডর্টমুন্ড (৬৬ হাজার)
ডুসেলডর্ফ: ডুসেলডর্ফ এরিনা (৪৭ হাজার)
ফ্রাঙ্কফুর্ট: ফ্রাঙ্কফুর্ট এরিনা (৪৮ হাজার)
গেলজেনকির্চেন: অ্যারেনা আউফশাল্কা (৫০ হাজার)
হামবুর্গ: ভক্সপার্কস্টেডিয়ন হামবুর্গ (৫০হাজার)
লাইপজিগ: লাইপজিগ স্টেডিয়াম (৪২ হাজার)
মিউনিখ: মিউনিখ ফুটবল এরিনা (৬৭ হাজার)
স্টুটগার্ট: স্টুটগার্ট এরিনা (৫৪ হাজার)
যাদের দেখা যাবে না এবারের আসরে
ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড এরলিং হ্যাল্যান্ড এবং আর্সেনাল মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড এবারের আসরে অংশগ্রহণ করবেন না। কারণ নরওয়ে বাছাইপর্ব অতিক্রম করতে পারেনি।
স্পেন ও স্কটল্যান্ডের গ্রুপে ছিল নরওয়ে।
ফুটবলের জগতে আরেকটি পরিচিত দেশ হলো সুইডেন, তারাও এবারের আসরে অংশ নিবে না। কারণ ১৯৯৬ সালের পর থেকে এবারই প্রথম উত্তীর্ণ হতে পারেনি সুইডেন।