ভারতের কুস্তি ফেডারেশনের নতুন কমিটি বাতিলের নেপথ্যে

 সঞ্জয় সিংয়ের সঙ্গে ব্রিজভূষণ সিং।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সঞ্জয় সিংয়ের সঙ্গে ব্রিজভূষণ সিং।

ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সরকার কোনও রকম ‘ঝুঁকি’ নিতে নারাজ বলেই সে দেশের কুস্তি ফেডারেশনের (রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া) নবনির্বাচিত কমিটিকে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক সাসপেন্ড করেছে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাঁদের পর্যবেক্ষণ এও বলছে, ২০২৪-এ ভোটের আগে বিজেপি এখন এই সঙ্কটে ‘শান্তিপূর্ণ ভাবে মীমাংসায় আসতে চায়'।

‘নিয়ম না মানার’ অভিযোগে ফেডারেশনের নতুন কমিটির বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রক।

এই সিদ্ধান্তের ঠিক তিন দিন আগে, কমিটির নতুন সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হন সঞ্জয় সিং যিনি নারী কুস্তিগীরদের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

ফেডারেশনের নির্বাচনের ফল সামনে আসার পরই সাক্ষী মালিক, বজরং পুনিয়ার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন খেলোয়াড়রা এর তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

"নতুন সভাপতির আমলেও নারী কুস্তিগীরদের যৌন নিপীড়ন থামবে না", এই আশঙ্কা জানিয়ে অলিম্পিকস-এ পদক জয়ী কুস্তিগীর সাক্ষী মালিক কুস্তি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। পদ্মশ্রী সম্মান ফেরত দেন কমনওয়েলথ গেমস-এ পদকজয়ী বজরং পুনিয়া।

এরপরই বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সরকারকে। বিরোধীরাও তোপ দাগতে ছাড়েনি বিজেপি সরকারকে।

এর মধ্যেই, কিছুটা ‘নাটকীয়’ ভাবে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত ওই কমিটি বাতিল করে দেওয়া হয়।

বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে জরুরি তলব করেন। নতুন সভাপতির নাম ঘোষণার পরই ফেডারেশনে তাঁর ‘দবদবা’ (আধিপত্য) বজায় থাকবে বলে মন্তব্য করেছিলেন মি সিং। ওই সাক্ষাতের পরই কিছুটা হলেও সুর বদলেছে বিজেপি সাংসদের গলায়।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তাদের এই সিদ্ধান্ত অবশ্য ‘ভাবমূর্তি রক্ষার’ হাতিয়ার বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

আরও পড়তে পারেন:
কুস্তি ফেডারেশনের ভোটে সঞ্জয় সিং সভাপতি নির্বাচিত পর কান্নায় ভেঙে পড়ে খেলা থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন সাক্ষী মালিক।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সঞ্জয় সিং সভাপতি নির্বাচিত পর কান্নায় ভেঙে পড়ে খেলা থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন সাক্ষী মালিক।

কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা?

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বিজেপির এই সিদ্ধান্ত লোকসভা নির্বাচনের কথা ভেবে কি না, এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র বিবিসি বাংলাকে বলেন, “হিন্দিভাষী রাজ্যগুলিতে বিজেপির প্রভাব নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই, দু একটি রাজ্যে হয়ত কিছুটা কম। দেশের এই অঞ্চলে, যেখানে বিপুল সংখ্যক লোকসভা আসন, সেখানে হিন্দু রাষ্ট্রবাদের মতো বিষয়গুলি বরাবরই রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।"

"এই অবস্থায়, দু’টি আন্দোলন – একটি কৃষক আন্দোলন এবং অন্যটি কুস্তিগীরদের তোলা অভিযোগ এবং ফেডারেশন নিয়ে যে বিতর্ক, এগুলো কিন্তু বিজেপির কাছে অনেকটা অন্তর্দ্বন্দ্বের মতো। স্বভাবতই এই দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি বিজেপির পক্ষে নাও যেতে পারে।”

বিশ্লেষকের অনেকেই আবার মনে করেছেন, নিজের ‘ভাবমূর্তি’ নিয়ে এই মুহূর্তে বেশ সচেতন বিজেপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, “এটা অনেকটাই ইমেজ রক্ষার বিষয় সরকারের কাছে। এর সঙ্গে দৈনন্দিন রাজনীতির যোগ না খোঁজাই ভাল।"

"একেরপর এক আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন খেলোয়াড়ের পদ্মশ্রী সম্মান বা খেলা ছেড়ে দেওয়ার মতো প্রতিক্রিয়া আসার পর আর ঝুঁকি নিতে চায়নি সরকার। এতে শুধু জাতীয়স্তরেই নয় আন্তর্জাতিক স্তরেও তো সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছিল।"

"এখন সরকার নিজেদের ‘গ্লোবাল পাওয়ার’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। আর শুধুমাত্র সামরিক ক্ষমতা বা অর্থনীতি দিয়েই তো নিজেকে গ্লোবাল পাওয়ার হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা যায় না। সফ্ট ডিপ্লোম্যাসি-ও একটা বিষয়। সে সব কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আমার মনে হয়”, বিবিসিকে বলছিলেন অধ্যাপক চক্রবর্তী।

কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের ‘টাইমিং'-টাও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

মি মৈত্র বলেন, “শক্তপোক্ত দুটি মানুষের মধ্যে যখন দ্বন্দ্ব হয় তখন তো কোনও একজনকে শেষমেশ পিছিয়ে আসতেই হয়। এবং এ ক্ষেত্রে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ঠিক কোন সময় শাসক পিছিয়ে আসবে।"

"এখন লোকসভা নির্বাচনের আগে ততটা সুযোগ নেই, যে শাসক দল আরও একটু সময় নিয়ে দর কষাকষি করবে। সেই কারণেই হয়তো পিটি ঊষার মতো ব্যক্তিত্বকে তারা দায়িত্ব দিয়েছে আপাতত ফেডারেশনের কাজ দেখার।"

"অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে বিজেপি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে হিন্দি বলয়ে একেবারেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না এবং বিষয়গুলির শান্তিপূর্ণ মীমাংসা চাইছে। দেশের অন্য অংশে কিন্তু তাদের কৌশল অন্য রকম হতেই পারে", জানাচ্ছেন শুভময় মৈত্র।

কুস্তি ফেডারেশনের ভোটে সঞ্জয় সিং সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে ভীনেশ ফোগত ও বজরং পুনিয়া।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কুস্তি ফেডারেশনের ভোটে সঞ্জয় সিং সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে ভিনেশ ফোগত ও বজরং পুনিয়া।

এখন কী বলছেন খেলোয়াড়রা?

ক্রীড়া মন্ত্রকের এই পদক্ষেপকে এখনই ‘আশার আলো’ বলে মানতে রাজি নন সেই সব খেলোয়াড়রা যাঁরা এবছর জানুয়ারি মাস থেকে ক্রমাগত আন্দোলন করে চলেছেন, ধর্নায়ও বসেছেন।

বজরং পুনিয়া বলেছেন, “এখনই পদ্মশ্রী সম্মান ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছি না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। আমার বোনেরা যতক্ষণ না সুবিচার পাচ্ছেন, ততক্ষণ লড়াই জারি থাকবে।”

অন্যদিকে সাক্ষী মালিকও একই কথা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “সাসপেনশনের বিষয়ে এখনও লিখিত কোনও নথি দেখিনি। মি. সিংকে সাসপেন্ড করা হয়েছে নাকি পুরো কমিটিকে সেটা আমি জানি না।"

"আমাদের লড়াই সরকারের বিরুদ্ধে নয়। নারী কুস্তিগীরদের সুবিচারের জন্য এই লড়াই। আমি অবসর ঘোষণা করেছি। আশা করব আগামিদিনে নারী কুস্তিগীররা যেন সুবিচার পান।”

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন টেবিল টেনিস খেলোয়াড় অচন্ত শরথ কমল যিনি কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জিতেছেন, তিনি এই পুরো জটিলতার দ্রুত নিষ্পত্তির উপর জোর দিয়েছেন।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমি কোনও রাজনীতি বা কে ঠিক বলছেন আর কে বলছেন না সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে, আমি এটুকু বলতে পারি, খেলোয়াড়দের সঙ্গে রয়েছি।”

গত জানুয়ারি মাস থেকে চলে আসা বিতর্কের জেরে খেলোয়াড়দের পারফর্মেন্সকে প্রভাবিত করাটা স্বাভাবিক, সে কথা মেনে নিয়েছেন তিনি।

“বাড়িতে শান্তি না থাকলে বাইরে কেউ কিছু করতে পারেন না। একই ভাবে খেলোয়াড়রা কীভাবে তাঁদের আসন্ন প্রতিযোগিতার উপর মনোনিবেশ করবেন? আমি আশা করব, দ্রুত যেন সব ঠিক হয়ে যায় এবং কুস্তিগীররা তাঁদের খেলার প্রতি মনোনিবেশ করতে পারেন”, বলছিলেন তিনি।

ফেডারেশনের নির্বাচনে সঞ্জয় সিং সভাপতি হিসাবে ঘোষণা হওয়ার পর উৎসবমুখর ব্রিজভূষণ শরণ সিং ও তাঁর সমর্থকেরা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ফেডারেশনের নির্বাচনে সঞ্জয় সিং সভাপতি হিসাবে ঘোষণা হওয়ার পর উৎসবমুখর ব্রিজভূষণ শরণ সিং ও তাঁর সমর্থকেরা।

‘দবদবা থা, দবদবা রহেগা’

ভারতীয় কুস্তিগীরদের ফেডারেশনের সভাপতি হিসাবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সঞ্জয় সিং নির্বাচিত হওয়ার পর ব্রিজভূষণ শরণ সিং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন।

তিনি বলেছিলেন, “এই জয় আমার নয়, এই জিত দেশের সমস্ত কুস্তিগীরদের। গত ১১ মাস ধরে ফেডারেশনের কুস্তি সম্পর্কিত সমস্ত কাজ বন্ধ ছিল। আশা করছি, নতুন কমিটি গঠন হওয়ার পর সেই জট কাটবে।”

একই সঙ্গে তিনি নিজের ‘আধিপত্যের’ কথাও স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন। তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া ভিনেস ফোগত, সাক্ষী মালিক, বজরং পুনিয়াকে নিশানায় রেখে বলেছিলেন, “যা বার্তা দাওয়ার ছিল তা জানানো হয়ে গেছে। দেশের প্রত্যেকটা আখড়াতে এখন আতসবাজি ফাটানো হচ্ছে। দবদবা থা দবদবা রহেগা। ”

ইঙ্গিত ছিল, তিনি বর্তমানে সভাপতি না থাকলেও ফেডারেশনে তাঁর ‘আধিপত্য বজায় থাকবে'।

তবে একে ভাল চোখে দেখেনি শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, এমনটাই বিজেপির অন্দর মহলের খবর। কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের সিদ্ধান্তের পরই, বিজেপির জেপি নাড্ডা বৈঠক করেন ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের সঙ্গে। তারপর বিজেপি সাংসদের সুর কিছুটা হলেও বদলেছে।

বৈঠকের পরে, মি সিং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমি কুস্তি থেকে সন্ন্যাস নিয়ে নিয়েছি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কুস্তিগীরদের ফেডারেশনের নির্বাচন হয়েছে।"

"সঞ্জয় সিং আমার আত্মীয় নন। সামনে লোকসভা নির্বাচন। অন্যদিকে তাকানোর সময় নেই, আমার অনেক কাজ রয়েছে।”

ব্রিজভূষণ শরণ সিং।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ব্রিজভূষণ শরণ সিং।

কেন্দ্রের বিবৃতি

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের পাঠানো বিবৃতিতে অবশ্য সঞ্জয় সিং বা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিজেপি সাংসদের কিন্তু কোনও উল্লেখ নেই।

ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘নিয়মের তয়াক্কা না করেই’ অনূর্ধ্ব-১৫ এবং অনূর্ধ্ব-২০ স্তরের প্রতিযোগিতার কথা ঘোষণা করেছে কুস্তি ফেডারেশন'। আগামী ২৮-৩০ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলায় ওই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় স্তরের কোনও প্রতিযোগিতার আগে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হওয়া উচিত, যেখানে সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করার পরেই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বা প্রতিযোগিতার দিনক্ষণ ঘোষণা করা যায়।

একই সঙ্গে যে খেলোয়াড়রা ওই প্রতিযোগিতায় যাবেন তাঁদের প্রস্তুতির জন্য ১৫দিনের সময়ও দিতে হবে।

কেন্দ্রের দাবি, ফেডারেশন কোনও নিয়মই মানেনি এক্ষেত্রে বরং তড়িঘড়ি প্রতিযোগিতার দিন ঘোষণা করা হয়েছে। এটা ছাড়াও একাধিক অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রকের পাঠানো ওই বিবৃতিতে।

এর পাশাপাশি, কেন্দ্রের তরফে ইণ্ডিয়ান অলিম্পিক্স অ্যাসোসিয়েশন-কে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে ফেডারেশনের কাজকর্ম দেখার জন্য বলা হয়েছে।

কৃষক আন্দোলনে সামিল সংগঠনের সমর্থন পেয়ে এসেছেন কুস্তিগীররা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কৃষক আন্দোলনে সামিল সংগঠনের সমর্থন পেয়ে এসেছেন কুস্তিগীররা।

ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি

এ বিষয়টি স্পষ্ট যে হরিয়ানাতে ভোট হারাতে নারাজ বিজেপি। আগেই কৃষি বিলকে কেন্দ্র করে হরিয়ানাতে ‘অস্বস্তিতে’ ছিল বিজেপি।

অন্য দিকে, কৃষক আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন পেয়ে এসেছেন প্রতিবাদী কুস্তিগীররা। আন্দোলনকারী কুস্তিগীরদের বল প্রয়োগ করে তুলে দেওয়ার ঘটনারও তীব্র প্রতিবাদ করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র বলছেন, বিজেপির হিন্দু রাষ্ট্রবাদ, জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়া-র মতো সিদ্ধান্ত কিন্তু তাদের পক্ষে যেতে পারে বলে মনে করে হচ্ছে।

তাঁর কথায়, “বিজেপির হিন্দু রাষ্ট্রবাদ, জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়া, বা রাম মন্দির নির্মাণের মতো ঘটনাগুলি মূল ধারার হিন্দু আধিপত্যবাদী মানুষ পছন্দ করছেন। একই ভাবে দিল্লির কাছাকাছি হরিয়ানায় কৃষক আন্দোলন বা কুস্তিগীরদের আন্দোলনের মতো বিষয়গুলি কিন্তু বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।"

"খুব স্বাভাবিক ভাবেই এই অস্বস্তির জায়গা থেকে বিজেপি বেরোনোরও চেষ্টা করছে।” যার ফল স্বরূপ, নবনির্বাচিত সঞ্জয় সিংয়ের কমিটিকেই বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

মি মৈত্রের কথায়, “যেহেতু সব শাসকই সাধারণভাবে আধিপত্যবাদী, তারা চট করে হেরে যেতে চায় না এবং সেই কারনেই দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে।"

"এগুলো পশ্চিমবঙ্গের মতো দুর্নীতি নিয়ে দ্বন্দ্ব নয় বরং ভিন্ন ভিন্ন আচরণ, ভাবনা অথবা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসায় আপাতত এইসব ঝামেলা মিটিয়ে নিতে বা ধামাচাপা দিয়ে রাখতে বিজেপি সচেষ্ট।"

"মনে রাখতে হবে, কৃষক আন্দোলন এবং কুস্তিগীরদের নিয়ামক সংস্থা নিয়ে সমস্যা, এই দুটি বিষয়েই পিছু হটেছে বিজেপি সরকার। এর পাশাপাশি, কুস্তিগীরদের বিষয়ে কতদিন পর তাঁরা পিছু হটছে, সেটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ”, মন্তব্য মি মৈত্রর।