লেবানন বলছে, ইসরায়েলের হামলায় আরও ৩৯ জন মারা গেছে

পড়ার সময়: ৩ মিনিট

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের তীব্র হামলায় আরও অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাকসাকিয়েহে একটি শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী- আইডিএফ জানিয়েছে, তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং 'নিরীহ বেসামরিক মানুষের ক্ষতির খবর সম্পর্কে তারা অবগত'।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ই এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী ও হেজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলের অধিকাংশ বিমান হামলা দক্ষিণ লেবাননে হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী বলছে, তারা হেজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করছে।

হেজবুল্লাহ হলো ইরান-সমর্থিত একটি মিলিশিয়া ও রাজনৈতিক দল।

শনিবার লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা এনএনএ -ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি দেশটির সাকসাকিয়েহসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলার খবর প্রকাশ করেছে।

আইডিএফ জানিয়েছে, তারা ওই এলাকায় 'সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি স্থাপনার ভেতরে অবস্থানরত হেজবুল্লাহ যোদ্ধাদের' লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

"হামলার আগে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল নির্ভুল অস্ত্রের ব্যবহার এবং আকাশপথে নজরদারি।" তারা আরও জানায়, ঘটনাটির বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নাবাতিয়েহ এলাকায় একটি মোটরবাইক লক্ষ্য করে চালানো আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় 'একজন সিরীয় নাগরিক এবং তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে' আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, "প্রথম হামলার স্থান থেকে সরে যেতে সক্ষম হওয়ার পর ড্রোনটি দ্বিতীয়বার হামলা চালায়" এবং এতে বাবা নিহত হন। এরপর ড্রোনটি "তৃতীয়বার সরাসরি মেয়েটিকেও লক্ষ্যবস্তু করে" হামলা চালায়।

মেয়েটির অস্ত্রোপচার চলছিল বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে হেজবুল্লাহ ড্রোন ব্যবহার করে উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, এতে তাদের তিনজন সেনা আহত হয়েছেন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় হেজবুল্লাহ যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের আলাদা করে উল্লেখ করে নি।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সীমান্তবর্তী লেবাননের একটি অংশও দখল করে রেখেছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি 'হেজবুল্লাহ-মুক্ত নিরাপত্তা অঞ্চল' তৈরি করা, যা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের জনপদগুলোকে সুরক্ষা দেবে।

এসব এলাকায় পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে, যা গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যবহৃত কৌশলের সঙ্গে মিল রয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, কিছু ঘটনা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

অন্যদিকে হেজবুল্লাহও রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করে লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা এবং উত্তর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলার জবাবেই তারা শনিবার উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা উত্তর সীমান্তের কাছে 'হেজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠনের পাঠানো একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন' শনাক্ত করেছে। তাদের দাবি, ওই হামলায় তিনজন রিজার্ভ সেনা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহ ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যার মাধ্যমে আগের সংঘাতের সমাপ্তি ঘটেছিল ।

তবে এরপরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হেজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা লক্ষ্যবস্তু ও ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।

২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করার পর ২রা মার্চ প্রতিশোধ হিসেবে হেজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়।

এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। মার্চের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী আবার দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করে, যেখানে তারা গ্রাম ধ্বংস করেছে এবং এখনো লেবাননের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা তারা দখল করে রেখেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২রা মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত লেবাননে মোট ২ হাজার ৭৯৫ জন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ১৭ জন সেনা এবং একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলে আরও দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।