‘তিন যুগ আগের মজুরি এখনও বহাল’

‘তিন যুগ আগের মজুরি এখনও বহাল’— এটি সমকালের প্রধান শিরোনাম। মে দিবসে পেট্রোল পাম্প শ্রমিকদের নিয়ে করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রম আইনে পাঁচ বছর পর পর মজুরি পর্যালোচনা করার কথা থাকলেও সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ ১৯৮৭ সালে পেট্রোল পাম্প শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের পর থেকেই আর কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।

৩৭ বছর ধরে একই মজুরি ৭৯২ টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মজুরি বোর্ডের সচিব রাইসা ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘মালিকপক্ষের অসহযোগিতায় ৩৭ বছরেও নতুন মজুরি নির্ধারণ করা যায়নি। পেট্রোল পাম্প শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে এ পর্যন্ত চারটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এসব বোর্ডের বৈঠকে মালিকপক্ষের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হন না। তারা পেট্রোল পাম্পকে শিল্পই স্বীকার করেন না।’

সাধারণত শ্রমিক কিংবা অন্য কোনও পক্ষের চাপে সংশ্লিষ্ট শিল্পের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার।

বোর্ড সব পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠায়। এর ভিত্তিতে সরকার মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে।

চাপ না এলে মজুরি বোর্ড গঠন করে না সরকার। শ্রমিকপক্ষের চাপ না থাকায় পেট্রোল পাম্পের মতো ১৬টি খাতে দীর্ঘদিন একই মজুরি চলছে।

মজুরি বোর্ডের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পেট্রোল পাম্পের চেয়েও কম মজুরি পান মুদ্রণশিল্পের সঙ্গে জড়িত টাইপ ফাউন্ড্রি শিল্পের শ্রমিকরা– ৫২১ টাকা। সরকার ১৯৮২ সালে এ মজুরি নির্ধারণ করে।

মন্ত্রী–এমপিদের স্বজনেরা এবারও সরলেন না’— এটি প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। এতে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দফায় দফায় নির্দেশ, হুঁশিয়ারি; কোনও কিছুতেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের নিকটাত্মীয় ও স্বজনদের থামানো যাচ্ছে না।

প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনেও মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অন্তত ১৪ জনের নিকটাত্মীয় ও স্বজনেরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।

গতকাল মঙ্গলবার ছিল দ্বিতীয় পর্বের ভোটের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২১ মে।

এই পর্বে ১৫৯টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৪৬৬ জন। দ্বিতীয় পর্বেও আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। এর বাইরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ১৭ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আটজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন।

‘বিদ্রোহী স্বজন দুপক্ষই অনড়’— দেশ রূপান্তর পত্রিকার এই প্রতিবেদনটিও উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে। এতে বলা হয়েছে, দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলা পরিষদে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে এককাতারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

আওয়ামী লীগ মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়স্বজনদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বললেও প্রথম ধাপের মতো দ্বিতীয় ধাপেও অনেকেই ভোটের মাঠে রয়ে গেছেন।

একইভাবে, বিএনপি নির্দেশ দেওয়ার পর ব্যবস্থা নিতে শুরু করলেও কোনও কাজ হয়নি। দলটির অনেক নেতা নির্বাচন করছেন।

আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের অন্তত ১৬ জন আত্মীয়স্বজন ভোটের মাঠে রয়েছেন। বিএনপির ৫০ জনের বেশি নেতা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। তবে দলীয় নির্দেশনা মেনে আওয়ামী লীগের অন্তত ৩০ ও বিএনপির ৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

‘The invisible ones’— দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রথম পাতার এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার সাত কোটির বেশি মানুষ কাজ করে। কিন্তু তাদের মাঝে ৮৫ শতাংশ (প্রায় ছয় কোটি) ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

এর কারণ তারা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। এই খাতের পেশাগুলোয় কোনোপ্রকার সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা নেই। তারা কর্মক্ষেত্রের কোনও সুবিধাও পান না।

এই খাতের শ্রমিকদের বেশিরভাগই রিকশাচালক, শ্রমিক, চা বিক্রেতা বা দোকানের বিক্রয়কর্মী। এছাড়া, কৃষিকাজ, ক্যাটারিং, পরিবহন ও নির্মাণ শ্রমিকরাও এই খাতের অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, তাদের ৮০ শতাংশই গ্রামের।

এই খবরটি কালের কণ্ঠ, নিউ এজ সহ একাধিক পত্রিকার প্রথম পাতায় এসেছে।

‘ধানের উৎপাদন কম হওয়ার শঙ্কা’— এটি কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাসখানেক ধরে মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে ফসলের। এর মধ্যে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ধান।

ঘন ঘন লোডশেডিং ও চলমান দাবদাহের কারণে চলতি মৌসুমে ধানের ফলন প্রায় ৫০ লাখ টন কম হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বেশি ক্ষতি হতে পারে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে।

তাপমাত্রা দীর্ঘ মেয়াদে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালে অকালে ধান পাকার মতো বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এই সময়ে ধানের জমিতে দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি পরিমাণ পানি না রাখা গেলে ফলন কমে যেতে পারে। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষেতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না এখন।

এমন পরিস্থিতির হাওরাঞ্চলসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ধানের পরিপক্বতা আসতে আরও সময় লাগবে।

ধান ছাড়াও প্রচণ্ড দাবদাহে পোলট্রি এবং মৎস্য খাতও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে মারা যাচ্ছে মুরগি, কমছে ডিমের উৎপাদন। এই পত্রিকার একটি প্রতিবেদনেই বলা হচ্ছে যে দাবদাহের কারণে দেশের বিভিন্ন ‘খামারে মারা যাচ্ছে ২০-৩০% মুরগি’ ও ডিমের উৎপাদনও ১০ শতাংশ কম এখন।

রেকর্ড তাপদাহের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ’— নয়া দিগন্ত পত্রিকার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে তাপদাহের রেকর্ড ভেঙে রেকর্ড হচ্ছে। এর মাঝে আবার ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ায় গরমে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে মানুষ। শহরের চেয়ে গ্রামে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেশি।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা বলে এর আগে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে বিদ্যুৎ বিল তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু গ্রাহক এখন এর কোনও সুফল পাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতকাল বিদ্যুতের চাহিদা দেখানো হয়েছে ১৬ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৩০১ মেগাওয়াট। লোডশেডিং দেখানো হয়েছে এক হাজার ৭১৮ মেগাওয়াট। কিন্তু প্রকৃত লোডশেডিং আরো বেশি বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

আইনের ফাঁক আদালতে ঘোরাচ্ছে শ্রমিকদের— আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার প্রধান শিরোনাম এটি। এখানে বলা হয়েছে, শ্রম আইনের অধীনে কোনও শ্রমিক বিচার চেয়ে শ্রম আদালতে মামলা করলে বছরের পর বছর ধরে সেই মামলা সাধারণত চলমান থাকে, তার কোনও নিষ্পত্তি হয় না।

১৯৭২ সালে দেশে শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১০ লাখ। ওই বছর ছয়টি শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি। এর মাঝে শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন, পাওনা পরিশোধ না করার ঘটনা, মামলার সংখ্যাও কয়েক গুণ বেড়েছে।

তাই প্রথমটির পর ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামে আরও একটি শ্রম আদালত এবং গত দুই বছরে বিভিন্ন স্থানে ছয়টি শ্রম আদালত স্থাপিত হয়। সব মিলিয়ে দেশে এখন শ্রম আদালত ১৩টি। পাশাপাশি ঢাকায় একটি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল রয়েছে।

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১৩টি শ্রম আদালতে ২১ হাজার ৬১৭টি মামলা ছিল। এগুলোর মধ্যে ১৬ হাজার ১৪১টি মামলা ছয় মাসের বেশি সময় অনিষ্পন্ন রয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ৭৫ শতাংশ মামলাই আইনে নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি হয়নি।

আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, শ্রম আদালতের স্বল্পতা ও শ্রম আইনের দুর্বলতার কারণেই শ্রম আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে। কারণ, আইনে মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমায় ফাঁক রয়েছে। আবার বিবাদীপক্ষের বিবিধ মামলা করার সুযোগ আছে। এরই সুযোগ নিচ্ছেন মালিকেরা।

‘টানা ২৬ মাস ধরে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি হার কম’— বণিক বার্তা পত্রিকার এই খবরে বলা হয়েছে, দেশে গত মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল নয় দশমিক ৮১ শতাংশ।

অথচ ওই মাসে শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির গড় হার সাত দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে কেবল মার্চ মাসই নয়, টানা ২৬ মাস ধরেই মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির অনেক নিচে।

আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায়ই সার্বিক মূল্যস্ফীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের শ্রমজীবীসহ নিম্ন আয়ের মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কম খাদ্য গ্রহণ এবং চাহিদা ছেঁটে জীবনযাপনের ব্যয় সংকুলান করছেন। জীবিকা নির্বাহ কঠিন হওয়ায় অনেকে আবার শহর ছাড়ারও চিন্তা করছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রকৃত আয় না বাড়ায় শ্রমিকদের ভোগ কমছে। দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাত্রার মান কমে গিয়ে তারা চরম দারিদ্র্যসীমায় নেমে যেতে পারেন। আর ভোগ কমলে বিনিয়োগও কমবে। ফলে কমে আসতে পারে প্রবৃদ্ধিও।

অতি বাম আর অতি ডান মিলে সরকার উৎখাতে কাজ করছে’— এটি ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। এই খবরটি দেশের প্রায় সব পত্রিকায় প্রাধান্য পেয়েছে।

প্রতিবেদনের শিরোনামটি মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্য। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

“রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া আর তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী অনবরত গিবত গাইছে। আর তাদের সঙ্গে এক হয়েছে অতি বাম আর অতি ডান। তাদের মূল লক্ষ্য সরকার উৎখাত।”

ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসা দলের কাছে আজ গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা ভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, “তারা কেন বুঝছে না দেশবাসী এই নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে খুশি। জনগণের আস্থা আওয়ামী লীগ পেয়েছে, কারণ মানুষ বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগ তাদের উপকার করে।”

‘২০ দেশের মাথায় বিশাল অঙ্কের চীনা ঋণের বোঝা’— মানবজমিন পত্রিকার এই খবরে বলা হয়েছে, চীনের কাছ থেকে ঋণ নেয়া শীর্ষ ২০টি দেশের মাঝে বাংলাদেশও আছে।

অনলাইন ভিজুয়াল ক্যাপিটালিস্টের করা এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, চীনের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অঙ্কের ঋণ নিয়েছে পাকিস্তান এবং এ্যাঙ্গোলা। উভয় দেশই বিভিন্ন অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্পের জন্য চীন থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ঋণ নিয়েছে।

বাংলাদেশের চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছয় দশমিক এক বিলিয়ন ডলার।