আতঙ্ক নিয়ে অপেক্ষা সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দাদের

ছবির উৎস, Azim Nihad
“সকাল থেকে মানুষ এখানে আসছে, কিন্তু তাদের পানি খাওয়ার কোন ব্যবস্থা নাই। সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে টয়লেটের। সবাই এজন্য আবার নিজেদের বাসায় গিয়ে টয়লেট করে আসছে। আমরা পুরুষরা কোনভাবে ম্যানেজ করে নিচ্ছি। সবচেয়ে কষ্টে আছে মহিলা আর বাচ্চারা”, বিবিসি বাংলাকে বলেন, সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা আব্দুল মালেক।
এমন অবস্থায় সেখানকার একটি আশ্রয়কেন্দ্রসহ অন্তত ৪০টি রিসোর্টে স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই দ্বীপটির হাজার হাজার বাসিন্দা ছুটে যান রিসোর্টগুলোয়। শনিবার রাতেও অনেকে আশ্রয় নেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, দ্বীপে কংক্রিটের শক্ত কাঠামোয় গড়া রিসোর্টগুলোয় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেয়া এসব রিসোর্টের মূলত দোতলা ও তিনতলায় তারা আশ্রয় নিয়েছেন।
তবে অল্প জায়গায় এতো মানুষের গাদাগাদি অবস্থায় ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সকাল থেকে এখনও আশ্রয়ে থাকা মানুষদের বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোন খাবার দেয়া হয়নি। সবাই নিজেদের বাসা থেকে যতোটুকু খাবার এনেছেন সেটি দিয়েই নাস্তা সেরেছেন।
আবার অনেকে নাস্তা খেতেও বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন বলে তারা জানিয়েছেন।
সকাল থেকে মাইকিং করা হচ্ছে সবাই যেন রিসোর্টগুলোয় ফিরে যান এবং সাথে শুকনো খাবার রাখেন।
এদিকে ঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে গত দুইদিনে সেন্ট মার্টিন থেকে অন্তত আড়াই হাজারো মানুষ নৌকায় করে টেকনাফে দিকে গিয়েছেন, নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য।
তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানের দাবি তারা কেউ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা নয়। তারা বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে দ্বীপে এসে সাময়িক সময়ের জন্য থাকেন। এজন্য তারা ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া মাত্রই তাদের মূল ঠিকানায় চলে গিয়েছেন।
তিনি বলেন, “সেন্ট মার্টিনে মাছ ধরা, ক্ষেত খামারের কাজ, রিসোর্টের কাজে বাইরে থেকে লোক আনা হয়। তারা টেকনাফ আর সেন্টমার্টিনে যাওয়া আসার মধ্যেই থাকে। গত কয়েকদিন যারা গিয়েছে তারা স্থানীয় কেউ না। সেন্টমার্টিনের সব মানুষ দ্বীপেই আছে। তারা এসব ঝড় দেখে অভ্যস্ত।”

ছবির উৎস, Azim Nihad
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
এদিকে সকাল সাতটা থেকেই সেন্ট মার্টিনে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও মাঝারি দমকা হাওয়া বইছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
এছাড়া সাগর উত্তাল থাকায় অনেকে সকাল সকাল দ্বীপ ছাড়ার চেষ্টা করলেও তারা পরে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেন।
বঙ্গোপসাগরের মধ্যে আট বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপে অন্তত ১১ হাজার বাসিন্দা বসবাস করেন বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু দুর্যোগপ্রবন এই দ্বীপে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র আছে মাত্র দুটি যেখানে সর্বোচ্চ ৪০০-৫০০ মানুষ আশ্রয় নেয়ার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এরমধৗে সচল রয়েছে কেবল একটি।
দুটো আশ্রয়কেন্দ্র দ্বীপের উত্তরাংশে। দক্ষিণাংশে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নেই।
সকাল থেকে মাইকিং করে সেন্ট মার্টিনের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, বড় ধরণের জলোচ্ছ্বাস হলে দ্বীপের অধিকাংশ ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাতে পারে। কারণ দ্বীপে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ত্রিপলের ছাউনিযুক্ত, বাঁশ ও পলিথিনের বেড়ায় তৈরি।
এদিকে আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, রবিবার সকালে মোখার অগ্রভাগ সেন্ট মার্টিনের পাশ দিয়ে উত্তর উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কক্সবাজার এবং মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের উপকূল অতিক্রম করছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় মোখার পিক আওয়ার হবে দুপুর ১২টা থেকে ২টা, অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ অংশে আঘাত হবে।
এর মধ্যে দুপুর ১২টা নাগাদ এটি সেন্ট মার্টিনে আঘাত হানবে।
এসময় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ২১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগর, নাফ নদী এবং সংলগ্ন নদীগুলোতে জোয়ার শুরু হয়েছে, এবং বিকাল চারটা নাগাদ জোয়ারের তীব্রতা বাড়বে।এ সময়ে আট থেকে ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।
বিকাল চারটার পর থেকে মোখা দুর্বল হতে শুরু করবে এবং সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মি. রহমান জানিয়েছেন, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়টি যে অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করছে সেটা টেকনাফ থেকে ৫০-৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে।
“মিয়ানমারের সিটওয়ে দিয়ে অতিক্রম করাতে বাংলাদেশে ঝুঁকির পরিমাণ কম। বিশেষ করে কক্সবাজার, টেকনাফ এসব অঞ্চলে ঝুঁকির পরিমাণ অনেকটা কম। বেশি ঝুঁকি হবে মিয়ানমার ও তার দক্ষিণের অঞ্চলে” সাংবাদিকদের বলেন মি. রহমান।
কক্সবাজারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত বহাল রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।











