গাজায় ‘ভূগর্ভস্থ সন্ত্রাসী শহর’ খুঁজে পাবার দাবি ইসরায়েলের

ছবির উৎস, Reuters
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা গাজায় হামাসের সিনিয়র নেতাদের ব্যবহার করা একটি টানেলের সন্ধান পেয়েছে, যেটাকে তারা ‘ভূগর্ভস্থ সন্ত্রাসী শহর’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ বলেছে, সৈন্যরা ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং একে আল রিমাল এলাকার ফিলিস্তিন চত্বর এলাকায় গাজার বড় শহরের একটি ‘এলিট কোয়ার্টার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইডিএফের দাবি কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ের পর গাজার সবচেয়ে বড় শহরের মধ্যে ওই এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী হামাসের ‘প্রশাসনিক ও সামরিক নেতৃত্ব’ এটি ব্যবহার করতো, যার মধ্যে হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়া এবং সামরিক কমান্ডার ইয়ানিয়া সিনওয়ার এবং মুহাম্মদ দায়িফও রয়েছেন।
আইডিএফ বলছে, ফিলিস্তিন চত্বর এলাকা হলো হামাসের কৌশলগত টানেল নেটওয়ার্কের কেন্দ্রস্থল, যেখান থেকে রানতিসি হাসপাতাল ও আল শিফা হাসপাতাল এলাকার ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর যোগসূত্র রয়েছে।
আইডিএফ বেশ কিছু টানেলে অনুসন্ধান করছে এমন কিছু ভিডিও এবং স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করলেও, কোন হাসপাতালের সাথে এর সম্পৃক্ততা প্রমাণ হয় এমন কিছু তারা এখনো সরবরাহ করতে পারেনি।
তাদের দাবি ‘ভূগর্ভস্থ সন্ত্রাসী শহরের’ প্রবেশমুখ খনন করা হয়েছে ‘সিনিয়র কর্মকর্তাদের আবাসিক ও অফিস এলাকায়’। এটি তাদের গাজা শহরের কেন্দ্রস্থলে দৈনন্দিন যাতায়াতে সুরক্ষা নিশ্চিত করতো।

ছবির উৎস, Getty Images
হামাস বলছে নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার
হামাস পরিচালিত গাজার সরকার বলছে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
গত সাতই অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামলা চালানোর পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওই সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েল।
এরপর থেকে সাত দিনের যুদ্ধবিরতির সময়টি বাদ দিয়ে দিনে গড়ে প্রায় তিনশ করে মানুষ নিহত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক ইমার্জেন্সি ডিরেক্টর রিচার্ড ব্রেনান বলেছেন তিনি এ তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্যই মনে করেন।
যুদ্ধ ক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যা নির্ধারণ একটি কঠিন বিষয় এবং গাজার শহরের চিকিৎসকরা বলছেন মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হবে। কারণ যাদের হাসপাতালে নেয়া যায়নি বা যারা ভবনের ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মারা গেছে তাদের গণনা সম্ভব হয়নি।
বিবিসি ভেরিফাই এসব তথ্য যাচাই করে দেখেছে।

ছবির উৎস, Getty Images
জাতিসংঘে ভোট আবারো বিলম্বিত
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজার ওপর যে ভোটাভোটি হওয়ার কথা ছিলো সেটি আবারো বিলম্বিত হয়েছে। বিবিসি’র নাডা তওফিক জাতিসংঘ থেকে জানাচ্ছেন যে ভোট বৃহস্পতিবারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ওয়াশিংটনে তার বার্ষিক ব্রিফিংয়ে দেয়া বক্তব্যে বলেছেন, হামাসকে আত্মসমর্পণে যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সোচ্চার হয় তবে সেটিই হবে সবচেয়ে ভালো।
তিনি তার বক্তৃতায় বলেছেন যে তিনি চান ইসরায়েলের হামলা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে সরিয়ে নেয়া হোক।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরেকটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির চেষ্টা করলেও মি. ব্লিংকেন বলেছেন দ্রুতই এমন কিছু প্রত্যাশা তিনি করছেন না।
তিনি গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযানে মার্কিন সহায়তা নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে তারও পাল্টা জবাব দেন।
“আমি শুনিনি কেউ হামাসকে বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে নিষেধ করছে এবং কেউ তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলছে। এটা হলেই কাল সবকিছুর সমাপ্তি ঘটবে,” বলছিলেন তিনি।

ছবির উৎস, EPA
কায়রো বৈঠকে রেজাল্ট নেই
কায়রোতে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার উপস্থিতিতে যে বৈঠক চলছে তা কোন ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন এর সাথে সম্পৃক্ত একজন সিনিয়র ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা।
তিনি জানান মিশর মানবিক সহায়তার জন্য আরেকটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করেছে কিন্তু একে সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে নাকচ করে দিয়েছে হামাস।
তারা বলছে একটি চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত আর কোন বিনিময় চুক্তি তারা করবে না।
ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে গোলাগুলি
আইডিএফ বলছে তাদের ফাইটার বিমান লেবাননে হিজবুল্লাহ গ্রুপের অপারেশনাল হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন এলাকায় হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবি তারা ‘অস্ত্র রাখা হয় এমন স্থান’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত অবকাঠামোতে’ আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে তারা ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট হামলা করেছে এবং গত চব্বিশ ঘণ্টায় তাদের ছয় জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
লেবাননের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী দু জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। তবে বিবিসি এসব তথ্য যাচাই করে দেখতে পারেনি।
হিজবুল্লাহ হামাসের সহযোগী একটি সংগঠন যাদের নিয়ন্ত্রণে লেবাননে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী আছে।

ছবির উৎস, EPA
ইসরায়েলের কারাগার ভর্তি হয়ে গেছে
ইসরায়েল ও হামাসের হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে ইসরায়েলের কারাগারগুলো।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত সাতই অক্টোবরের পর থেকে তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে ইসরায়েল।
তবে এর মধ্যে ঠিক কত জন ফিলিস্তিনি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।











