পত্রিকা: 'সরকারি বাসভবন ছাড়েননি পদত্যাগী দুই উপদেষ্টা'

সরকারি বাসভবন ছাড়েননি পদত্যাগী দুই উপদেষ্টা— কালের কণ্ঠের শেষের পাতার খবর এটি।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহ আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করা দুই তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম এখনো সরকারি বাসভবন ছাড়েননি।

কবে ছাড়বেন, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে।

বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

সাবেক এই দুই উপদেষ্টার সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বিদ্যমান নীতিমালায় মন্ত্রিসভার সদস্য বা জনপ্রতিনিধিরা পদত্যাগের পর কবে সরকারি বাসভবন ছাড়বেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই।

তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি বাসভবন, গাড়ি বা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না।

আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম— ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে ফের উত্তাপ

এই খবরে বলা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার পর বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনীতিকসহ বিভিন্নজনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক তলবের পর গতকাল বুধবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে জুলাই ঐক্যের মিছিল কর্মসূচি এবং ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ সম্পর্কের তিক্ততায় নতুন মাত্রা দিয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলার বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও বলেছেন।

এদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে গত রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলবের পর গতকাল নয়াদিল্লিতে স্থানীয় সময় দুপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ রিয়াজ হামিদউল্লাহকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সেখানে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পত্রিকাটির প্রথম পাতায় 'সীমান্তের ৭৯% জায়গায় বেড়া দিয়েছে ভারত' শিরোনামে আরেকটি খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ- ভারত সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৯৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৩৯ দশমিক ৯২ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়া হয়ে গেছে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

আগ্রহ থাকলেও ভোটের মাঠে তৎপর নয় অনেক দল— সমকালের প্রধান সংবাদ এটি।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দলের আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ থাকলেও মাঠে সেভাবে সক্রিয় হয়নি।

এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শরিক ও মিত্র ৯টি দল এবারের নির্বাচনে নিষ্ক্রিয়। আরও ১৪টি দলের তৎপরতা নেই ভোটের মাঠে।

যদিও আওয়ামী লীগকে ছাড়াই ভোটে যেতে আগ্রহী দলটির মিত্ররা।

গত ১১ ডিসেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। গত ১২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র কেনা ও জমা শুরু হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থী হওয়া যাবে।

Growing global focus on February 12 vote; অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মনোযোগ বাড়ছে বিশ্বের— ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান সংবাদ এটি।

এই খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিদেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ইতোমধ্যেই গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

তাতে বুঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আগ্রহ বেড়েছে বিশ্বের।

ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিশ্চিত করেছে, তারা কমপক্ষে ১৭৫ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) জানিয়েছে, তারা ১০ সদস্যের একটি দল পাঠাবে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট, কমনওয়েলথ, সার্কভুক্ত দেশগুলো, এশিয়ার কয়েকটি দেশ এবং ব্যাংককভিত্তিক এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন বিদেশি ১৫৮ পর্যবেক্ষক; ২০১৮ সালের নির্বাচনে ১২৫ জন এবং ২০১৪-এর ভোটে এই সংখ্যা ছিল মাত্র চার।

বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম— ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে জাপানের বিগ-বি প্রকল্প

এতে বলা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগর ঘিরে অর্থনৈতিক সংযোগ, বন্দর উন্নয়ন ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে এক দশকেরও বেশি সময় আগে জাপানের উচ্চাভিলাষী 'বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট' বা 'বিগ-বি' প্রকল্প এখন জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি।

২০২২ সালে জাপানের অর্থনৈতিক মন্থরতা এবং শ্রীলংকা দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর এ প্রকল্পে স্থবিরতা দেখা দেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি এ অঞ্চলজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, কূটনৈতিক টানাপড়েন ও শাসন কাঠামোর ভঙ্গুরতায় বিগ-বি প্রকল্প ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

নিয়েছিল জাপান।

এই মেগা প্রকল্পকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিপরীতে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে জাপানের কৌশলগত অবস্থানের শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে ভাবা হচ্ছিল।

যুগান্তরের দ্বিতীয় প্রধান খবর— ফয়সাল মহারাষ্ট্রে, ব্যবহার করছে ভারতীয় সিম

খবরটিতে বলা হয়েছে, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় পুলিশের প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি ফয়সাল করিম মাসুদ এখন ভারতের মহারাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

সেখানে ভারতীয় রিলায়েন্স জিও কোম্পানির সিমকার্ড ব্যবহার করছে। তবে অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোন বন্ধ রাখা হচ্ছে।

ফয়সাল তার ফোনসেটটি পরিবর্তন না করায় ফোনের আইএমই নম্বর ধরে গোয়েন্দারা প্রযুক্তির সাহায্যে ফয়সালের অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

সঙ্গে আছে অন্যতম কথিত সহযোগী মোটরসাইকেলচালক আলমগীর শেখ-ও।

এদিকে, এই হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে কারা অর্থ বিনিয়োগ করেছে তার অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ জন গ্রেফতার হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)।

তবে, সামগ্রিক পরিবেশ দেখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, এমনটা জানান দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

গতকাল বুধবার থেকে জাপার মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে।

তিনি নির্বাচন কমিশনকে প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আহ্বান জানান। আর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ও সমর্থককে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার না করার দাবি জানিয়েছেন।

মাহফুজ ও আসিফের এনসিপিতে যোগদান নিয়ে আলোচনা— প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি।

এই খবরে বলা হচ্ছে, ভোটের আগেই এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দলটিতে তাদের যোগদান নিয়ে আলোচনা চলছে।

এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। দুই দিক থেকেই আগ্রহ আছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে দু'জনের জন্য দলে নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে।

এদিকে, মাহফুজ লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ উপজেলা) ও আসিফ ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ থানা) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে যাচ্ছেন— এটি অনেকটাই নিশ্চিত।

এনসিপির সঙ্গে শুরু থেকেই সুসম্পর্ক ছিল মাহফুজ ও আসিফের।

তবে, গত দুই-তিন মাসে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আসিফের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়।

অন্যদিকে, এনসিপিতে মাহফুজের প্রভাবও কমে আসে।

যে কারণে তাদের এনসিপিতে যোগদান নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

দেশ রূপান্তরের প্রধান খবর— প্রার্থীদের অস্ত্রে ঝুঁকির শঙ্কা

এই সংবাদে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে 'গুরুত্বপূর্ণ' ব্যক্তি ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে সরকার।

এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালাও জারি করা হয়েছে।

এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সিদ্ধান্তটি একভাবে নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন নাজুক, ঠিক সে সময় নির্বাচনের মাঠে অস্ত্রের অনুমোদন ভোটের পরিবেশকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পাশাপাশি সরকারের এমন সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঠে ইতিমধ্যেই সংঘাত-সহিংসতা শুরু হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বৈধ অস্ত্র জমা না নেওয়া বা নতুন করে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত, তাতে নির্বাচনী সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— Osman Hadi's condition very critical: CA Press Wing; অর্থাৎ ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

এই খবরে বলা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

গতকাল বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, শরিফ ওসমান হাদিকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করে হাদির চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন তিনি।

এ সময় তিনি জানান, 'হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন'।

এদিকে, হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন সরকার। আর দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এতে বলা হয়েছে, সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক মানুষকে গুম ও পরবর্তীতে হত্যার অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গতকাল বুধবার আমলে নিয়ে আগামী ২১ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

পরে সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ৫০০-এর বেশি মানুষকে গুম করে হত্যা করার তথ্য এসেছে।

এর মধ্যে ১০০-এর বেশি মানুষকে গুম করে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।