আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
‘স্ত্রী, সন্তান, পরিবার ও ক্যারিয়ার’- বাংলাদেশে এলিটা কিংসলের স্বপ্নের জীবন
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, ঢাকা, বিবিসি বাংলা
নাইজেরিয়ার বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি ফুটবলার এলিটা কিংসলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার দুই বছর পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে পেরেছেন। সেইশেলসের বিপক্ষে শনিবার সিলেটে ফিফা অনুমোদিত প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম মাঠে নেমেছেন এলিটা কিংসলে।
ম্যাচটি ১-০ গোলে জেতে বাংলাদেশ।
মাঠে নেমে বল পায়ে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি, কিন্তু তার বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামাটাই একটা ‘বড় ঘটনা’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে ওই ম্যাচে।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রায় সাত বছর অপেক্ষা করেছিলেন এলিটা।
নাগরিকত্বের পর এবারে জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্নপূরণ করে, এটাকে বিবিসি বাংলার কাছে তিনি ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করছেন।
পৃথিবীতে এক দেশের ফুটবলার অন্য দেশে গিয়ে নাগরিকত্ব নিয়ে ফুটবল খেলার ঘটনা অনেক আছে, তবে এলিটা কিংসলের গল্পটা বিশেষ।
তিনিই বাংলাদেশের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বাংলাদেশের সাথে কোনও ধরনের জন্মগত বন্ধন না থাকার পরেও বাংলাদেশের হয়ে জাতীয় দলে খেলছেন।
বাংলাদেশের প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এলিটা কিংসলে।
কিংসলের বলছেন, তিনি বাংলাদেশিদের মতোই অনুভব করেন।
“আমি জানি আমাকে সবাই একই ভাবে নেবে না, অনেকেই আমাকে বাইরের কেউ মনে করেন। এটা কঠিন মেনে নেয়া, তবে আমি সবসময় নিজেকে বাংলাদেশিই বলি,” বলেন তিনি।
এলিটা কিংসলের বয়স এখন ৩৩, একজন ফুটবলারের জাতীয় দলে অভিষেকের জন্য এটি আদর্শ বয়স নয়।
তবে কিংসলে শুধু ফুটবলার হিসেবে নন, পরবর্তীতে কোচ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে চান বাংলাদেশের ফুটবলে।
বাংলাদেশে নাইজেরিয়ান ফুটবলারদের ইতিহাস প্রায় চল্লিশ বছরের পুরনো।
আশির দশক থেকেই নাইজেরিয়ান ফুটবলাররা বাংলাদেশের লিগে খেলছেন।
এলিটা কিংসলে তাদের মধ্যে একমাত্র যিনি বাংলাদেশি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত সাত বছরের সংগ্রাম শেষে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন।
বিবিসিকে তিনি বলেন, যখন মানুষ তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে, তারা অবাক হয়ে যায়।
অনেক অপেক্ষা এবং সংগ্রামের পর সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলের হয়ে খেলার।
বাংলাদেশে স্ত্রী লিজা বেগম ও কন্যাসন্তান এলিটা সাফিরার সাথে ঢাকায় থাকেন এলিটা কিংসলে।
‘স্ত্রী, সন্তান, পরিবার ও ক্যারিয়ার’
এলিটা কিংসলে বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, কারণ তিনি এই দেশে ‘স্ত্রী, সন্তান, পরিবার ও ক্যারিয়ার’ পেয়েছেন।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেতে এলিটা তার নাইজেরিয়ান পাসপোর্ট বিসর্জন দিয়েছেন।
কিন্তু তাতে নাইজেরিয়া যেতে তার কোনও বাঁধা নেই, যে কোনও সময় তার কাছের মানুষদের কাছে যেতে পারবেন তিনি।
এলিটা কিংসলের স্ত্রী লিজা জাফর বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাসার পরিস্থিতি এখন আনন্দময়।
“এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন ছিল। আমরা অনেক খারাপ দিন পার করেছি। একটা সময় মনে হয়েছে এটা আর সম্ভব না, বিশেষ করে ২০২১ সালে পাসপোর্ট পাওয়ার পরেও যখন এলিটা দলে জায়গা পায়নি”, বলছিলেন মিজ লিজা।
বাংলাদেশের হয়ে ২০২১ সালে এলিটা কিংসলের খেলার কথা ছিল, কিন্তু একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেললেও শেষ পর্যন্ত কাগজপত্র সম্পর্কিত জটিলতার কারণে তখন তার মাঠে নামা হয়নি।
ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন্সের অনুমোদন প্রয়োজন হয় নতুন নাগরিকত্ব নেয়া ফুটবলারদের জন্য।
এলিটা কিংসলে সেবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পেও ছিলেন।
পরের দুই বছর এলিটা জাতীয় দলে ডাক পাননি।
শেষ পর্যন্ত হাভিয়ের কাবরেরার বাংলাদেশ দলে জায়গা হলো এলিটার।
এলিটা কিংসলের স্ত্রী লিজা বেগম আশা করছেন, "যতোদিন সুস্থ থাকে বাংলাদেশের হয়ে সেরা খেলাটা যাতে খেলতে পারেন এলিটা।"
বাড়িতে এলিটা কিংসলে ‘কিংস’ নামে পরিচিত।
কন্যাসন্তান এলিটা সাফিরাকে কেন্দ্র করেই এই পরিবার গড়ে উঠেছে বলে জানান এলিটা কিংসলের স্ত্রী লিজা।
এলিটা কিংসলে বিবিসি বাংলাকে বলেন, আমি বাংলাদেশে থেকে মনের শান্তি পাই।
এর আগে ২০২১ সালের মার্চ মাসে বিবিসি বাংলায় একটি সাক্ষাৎকারে নিজের প্রেম, ভালোবাসা এবং বিয়ের গল্প বলেছিলেন এলিটা কিংসলে।
“খুবই ছোট গল্প, রামপুরায় একটি রেস্টুরেন্টে দেখা হয়। কাউকে যখন খুঁজে পান, তার সাথে কথা বলেন, এটা এতটাই ছোট গল্প”।
এলিটার স্ত্রী লিজা বলেন, দেখা হওয়ার এক দুই মাসের মধ্যেই তারা বিয়ে করে ফেলেছিলেন।
এগারো বছর আগে ২০১২ সালে এলিটা কিংসলে এবং লিজা বিয়ে করেন।