নারীকে গাড়ীর চাকায় টেনে হিঁচড়ে নেয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যহত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান চলাচলে বাধা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

ছবির উৎস, Amjad Hossen Hridoy

ছবির ক্যাপশান, ক্যাম্পাসে যানচলাচলে বাধা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
    • Author, রাকিব হাসনাত
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষকের ব্যক্তিগত গাড়ীর চাকায় পিষ্ট হয়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে আজ ক্যাম্পাস এলাকায় বহিরাগত যানবাহন বন্ধসহ এগার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে এবং এ সময় শিক্ষার্থীদের বাধার কারণে দীর্ঘসময় ক্যাম্পাসের ভেতর দিকে গাড়ী চলাচল বন্ধ ছিলো।

সাবেক ওই শিক্ষক নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এবং পরে উপস্থিত লোকজনের হাতে মারধরের শিকার হয়ে তিনি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

তবে তার অবস্থার ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক।

“তিনি আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন আছেন। এটুকু বলতে পারি যে তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন কিছু নয়,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

ওদিকে পুলিশ জানিয়েছে ইতোমধ্যেই নিহত নারীর পরিবারের দায়ের করা মামলায় আহত চালককে আসামী করায় মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

 এগার দফা দাবি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

ছবির উৎস, Amjad Hossen Hridoy

ছবির ক্যাপশান, এগার দফা দাবি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

মামলায় ঘটনা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে এবং পরবর্তীতে কী হবে

গাড়ীর চাকায় পিষ্ট হওয়া নারী রুবিনা আক্তার রুবীর ভাই জাকির হোসেন মিলন থানায় যে অভিযোগ করেছেন সেখানে বলা হয়েছে যে গত শুক্রবার তার বোন নিজের তেজকুনি পাড়ার বাসা থেকে তার ননদের স্বামীর মটরসাইকেলযোগে মিস্টার মিলনের হাজারীবাগের বাসায় যাচ্ছিলেন।

বেলা তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের সামনের সড়কে পিছন দিক থেকে এসে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেট কার দ্রুত গতিতে এসে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।

এতে মোটরসাইকেল চালক এবং ওই নারী দুজনেই ছিটকে পড়েন। কিন্তু ওই নারী চাকার নীচের পড়লেও গাড়ী চালক ওই অবস্থাতেই তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে।

এ অবস্থায় মোটরসাইকেল চালকসহ উপস্থিত লোকজন তাকে ধাওয়া দিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে গিয়ে আটক করতে সক্ষম হয়। এরপর উপস্থিত লোকজন চালককে মারধর শুরু করলে কাছে থাকা পুলিশ এসে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

রুবিনা আক্তার ও গাড়ী চালককে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা রুবিনা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপরই মূলত জানা যায় ওই গাড়ী চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন সাবেক শিক্ষক। বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে ২০১৮ সালে তাকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী।

এখন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

তবে নিহতদের ভাইয়ের মামলায় ইতোমধ্যেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশে নিয়মিত ঘটনা।

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN

ছবির ক্যাপশান, সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশে নিয়মিত ঘটনা।

ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রতিবাদ , ১১ দফা দাবি: যা বলছেন প্রোক্টর

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

রুবিনা আক্তারকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে চাকায় পিষ্ট করার ঘটনাকে খুন হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপদ ক্যাম্পাসসহ এগার দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে একদল শিক্ষার্থী।

তারা ক্যাম্পাসে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে

প্রবেশপথগুলোতে গতিসীমা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শুধুমাত্র নিবন্ধিত রিক্সা চলাচল ব্যবস্থার দাবি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতে যে কোন পরামর্শই তারা গ্রহণ করবেন।

যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সড়কগুলো মূলত সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণে। নগরীর সাতট গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে গেছে।

এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় সবসময় বিভিন্ন ধরণের যানবাহনে ঠাসা থাকে ক্যাম্পাসের সড়কগুলো।

মিস্টার রাব্বানী বলছেন বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংস্থার সাথে আগেও তাদের এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে যে কীভাবে ক্যাম্পাসের মধ্যে সড়ক নিরাপদ রাখা যায়।

“আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করে এগুলো নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবো,” বলছিলেন তিনি।

দুর্ঘটনার পর টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আলাদা কোনো শাস্তি আছে?

আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন দেশে সড়ক পরিবহন আইনে দুর্ঘটনার জন্য শাস্তির বিধান আছে এবং সে দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু হলে সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়ে থাকে।

কিন্তু আইনে দুর্ঘটনার পর টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আলাদা করে কিছু বলা নেই। “ওভাবে নেওয়ার কারণেও যদি কারও মৃত্যু হয় তাহলে সেটি হত্যা মামলাতেই রূপ নেবে। সেভাবেই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে,” বলছিলেন মিস্টার মোরশেদ।

তবে বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলছেন দেশে এখন যে আইন আছে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সেটিকে তারা একটি অস্পষ্ট আইন বলে মনে করেন।

“আমাদের আইনটিই অস্পষ্ট। কারণ এখানে বিস্তারিত কিছু বলা নেই। অনেকটা মাদার ল’র মতো। তাই আইনটা প্রয়োগ করাও অসম্ভব। একজনকে ধাক্কা মেরে ফেলে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া বা এ ধরণের সম্ভাব্য আরও কিছু হতে পারে যেগুলো নিয়ে এখানে কোনো কিছু নেই,” বলছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত বিশ্বের অনেক দেশেই যানবাহন দুর্ঘটনা একটি অপরাধ এবং একই সাথে এভাবে কাউকে টেনে হিঁচড়ে নিলে সেজন্য আরও শাস্তির বিধান সম্বলিত আইন আছে।

“কিন্তু বাংলাদেশে একটা দুর্ঘটনার পর কিভাবে সেটি নিয়ে কাজ হবে, কারা তদন্ত করবে, কী কী কাজ করবে, কারা ব্যবস্থা নিবে-এগুলোই তো আইনে কিছু নেই। যে আইনে দুর্ঘটনা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে কিছু বলা নেই সে আইন কি কাজে লাগবে,” বলছিলেন মিস্টার তালুকদার যার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক আইনগুলো নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।

আরও পড়ুন: