আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইসরায়েলের হামলায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের দাবি লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশে এখন যা হচ্ছে সেটি কার্যত ‘ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ’।
সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের দুইদিনব্যাপী টানা বিমান হামলার কারণে দেশটিতে বিপুল সংখ্যক হতাহত নাগরিককে নিয়ে লেবানিজ হাসপাতালগুলোকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
স্বাস্থমন্ত্রী ডা. ফিরাস আবিয়াদ বিবিসিকে বলেছেন, এটা ‘পরিষ্কার’ যে সোমবারের হামলায় যে সাড়ে পাঁচশো মানুষ নিহত হয়েছেন তাদের অনেকেই নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক।
ইসরায়েল বলেছে, তারা শত শত হেজবুল্লাহ ঘাঁটিতে হামলা করেছে। তাদের অভিযোগ এই গোষ্ঠীটি আবাসিক এলাকায় নিজেদের অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে।
মঙ্গলবারের ইসরায়েলি হামলায় হেজবুল্লাহর রকেট ফোর্সের প্রধান নিহত হন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই গোষ্ঠীটিই লেবাননকে ‘খাদের কিনারায়’ নিয়ে গেছে।
হেজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে তিনশোর বেশি রকেট হামলা করে হামলার জবাব দিয়েছে এবং এতে ছয় জন আহত হয়েছে বলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
যদিও কোন পক্ষের মধ্যেই পিছিয়ে আসার আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বলেছেন, একটি সর্বাত্মক সংঘাতে যাওয়ার ‘আগ্রহ কারও মধ্যেই নেই’ এবং তিনি সংকটের ‘কূটনৈতিক সমাধান এখনো সম্ভব’ বলে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ‘লেবাননকে আরেকটি গাজায় পরিণত করা বিশ্ব মেনে নিতে পারবে না’ বলে সতর্ক করেছেন।
গাজা যুদ্ধের সূত্র ধরে গত প্রায় এক বছর ধরে ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত লড়াই চলছে এবং এতে শত শত মানুষ মারা গেছেন।
নিহতদের বেশিরভাগই হেজবুল্লাহ যোদ্ধা। এছাড়া উভয় পক্ষে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
হেজবুল্লাহ বলছে, তারা হামাসের সমর্থনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত এটি তারা বন্ধ করবে না।
উভয় গোষ্ঠীই ইরান সমর্থিত এবং ইসরায়েল, যুক্তরাজ্যসহ আর অনেক দেশ তাদেরকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে থাকে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলীয় বেক্কা উপত্যকা জুড়ে ইসরায়েলের বিমান হামলার কারণে সোমবার ছিলো ২০০৬ সালে ইসরায়েল-হেজবুল্লাহ যুদ্ধের পর এ যাবতকালে প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে সংঘাতময় দিন।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মোট যে ৫৫৮ জন মারা গেছেন, তার মধ্যে ৫০জন শিশু, ৯৪ জন নারী এবং বেশ কিছু স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছেন।
এখন পঞ্চাশটিরও বেশী হাসপাতালে আহত এক হাজার ৮৩৫ জনের চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি।
End of মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আরো পড়তে পারেন:
বিবিসিকে এক সাক্ষাতকারে তিনি দেশটিতে যা হচ্ছে তাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
“জরুরি বিভাগে যাদের আনা হচ্ছে আপনি তাদের দিকে তাকালে পরিষ্কার হবে যে তারা বেসামরিক নাগরিক। ইসরায়েলিরা যে দাবি করছে, তারা (হতাহত মানুষেরা) সেই যোদ্ধা নন।”
“হামলার শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে আমরা জানি, কারণ আমাদের অ্যাম্বুলেন্সগুলো তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসছে। তারা বেসামরিক নাগরিক যারা নিজেদের স্বাভাবিক কাজকর্ম করছিলেন।”
এর আগে ২০০৬ সালের ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করতে গিয়ে লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “নিশ্চিতভাবে আমরা আরও নিষ্ঠুর যুদ্ধ দেখতে পাচ্ছি, বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিকদের যেভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক অফিসও সোমবারের হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সতর্ক করেছে।
হেজবুল্লাহ যেখানে অস্ত্র মজুদ করেছে বলে ইসরায়েল দাবি করছে, সেখানকার কাছাকাছি ভবনগুলো খালি করার জন্য ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের মানুষকে অডিও ও টেক্সট বার্তা দিয়েছে।
এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক অফিসের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন: “বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এর প্রভাব ব্যাপক হবে জেনেও, হামলার আগে বেসামরিক লোকদের পালাতে বললেই যথাযথ হয়ে গেলো না।”
এদিকে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সড়কগুলোতে দ্বিতীয় দিনের মতো যানজট দেখা গেছে, কারণ হাজার হাজার মানুষ ইসরায়েলের হামলা থেকে বাঁচতে দেশটির উত্তর অঞ্চলের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন।
কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে ভ্রমণ করতে হচ্ছে।
বৈরুতের একটি আশ্রয় শিবিরে ৬৫ বছর বয়সী মারিয়াম বিবিসিকে বলেন, একটি ছোট গাড়িতে করে আরও ১২ জন আত্মীয় নিয়ে তাকে সারা রাত ধরে যাত্রা করতে হয়েছে।
“আমরা আমাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে চাইনি, কারণ নিজের ঘর ছেড়ে আসা কঠিন। ভোর চারটায় সন্তানদের নিয়ে এখানে এসে পৌঁছেছি। বাচ্চাদের কারণেই আমরা চলে এসেছি।”
ওদিকে, একটি গোয়েন্দা ঘাঁটি পরিদর্শনের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে দেশটির বেসামরিক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের তাদের বাড়িঘরে ফেরানোর লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল ‘হেজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রাখবে।
লেবাননের জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন “আমাদের যুদ্ধ আপনাদের সাথে নয়” এবং বলেন হেজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহই ‘আপনাদের খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে।’
“আমি গতকাল আপনাদের ঘরবাড়ি খালি করতে বলেছি, যেখানে বাসিন্দাদের লিভিং রুমে মিসাইল ও গ্যারাজে রকেট রাখা ছিলো। যারাই লিভিং রুমে মিসাইল ও গ্যারাজে রকেট রাখবে তাদের ঘর থাকবে না,” বলেন তিনি।
ইসরায়েল সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার এডমিরাল ড্যানিয়েল হ্যাগারি বলেছেন, হেজবুল্লাহ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও বেক্কা উপত্যকাকে ‘যুদ্ধ এলাকায়’ পরিণত করেছে এবং মঙ্গলবার টার্গেটগুলোতে হামলা অব্যাহত ছিলো।
ইসরায়েলের হামলার পর দ্বিতীয় দফায় আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণের কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি, যেখানে মিসাইল ও রকেট লাঞ্চার মজুদ করা হয়েছিলো বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
হ্যাগারি বলেছেন, হেজবুল্লাহর মিসাইল ও রকেট ইউনিটের প্রধান ইব্রাহিম কুবাইশি বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের একটি শহরতলীতে মঙ্গলবার দুপুরের হামলায় কমপক্ষে আরও দুইজন কমান্ডারসহ নিহত হয়েছেন।
হেজবুল্লাহ এক টেলিগ্রাম পোস্টে হামলায় কুবাইশির ‘শহীদ’ হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
তারা বলেছে, তাদের যোদ্ধারা এক ডজনেরও বেশি ইসরায়েলি শহর, সামরিক ঘাঁটি ও বিস্ফোরক কারখানা লক্ষ্য করে রকেট ছুঁড়েছে।
আইডিএফ এর সামসন ইউনিটে একটি নতুন ধরণের রকেট ছোঁড়ার দাবি করেছে তারা।